Category: জাতীয়

  • টিসিবির পণ্য বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি

    টিসিবির পণ্য বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি

    টিসিবির পণ্য বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি
    মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
    কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ২১ নম্বর বাবুটিপাড়া ইউনিয়নে টিসিবির পণ্য বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আরমান হোসেনের বিরুদ্ধে। উপকারভোগীদের অভিযোগ, টিসিবির কার্ড ইউনিয়ন পরিষদে জমা রেখে টোকেনের মাধ্যমে পণ্য বিতরণ করা হচ্ছে। টোকেন না থাকলে তালিকাভুক্ত উপকারভোগীদেরও পণ্য দেওয়া হচ্ছে না।

     

     

    ভুক্তভোগীদের দাবি, কয়েক মাস আগে নতুন কার্ড দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাদের টিসিবির কার্ড সংগ্রহ করা হয়। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত কার্ড ফেরত দেওয়া হয়নি। ফলে তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও তারা পণ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

     

    জিবিডি গ্রামের এক উপকারভোগী জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি টিসিবির কার্ডের মাধ্যমে পণ্য কিনে আসছিলেন। কিন্তু নতুন কার্ড দেওয়ার কথা বলে চেয়ারম্যান কার্ড রেখে দেন। পরে পণ্য নিতে গেলে কার্ডও পাননি, পণ্যও পাননি।

     

    দইয়ারা গ্রামের আরেক সুবিধাভোগী অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যান নতুন কার্ড দেওয়ার কথা বলে তাদের কার্ড জমা রেখেছেন। এখন টোকেনের অজুহাতে পণ্য দেওয়া হচ্ছে না। এতে প্রকৃত উপকারভোগীদের পণ্য আত্মসাতের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ।
    স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, টিসিবির পণ্য বিতরণের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসারকে না জানিয়েই নিয়মিত বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

     

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা ট্যাগ অফিসার সফি জানান, ওই দিনের পণ্য বিতরণের বিষয়ে তাকে আগে থেকে অবহিত করা হয়নি। পরে চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পারেন, সেদিন সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় তাকে জানানো হয়নি।

     

    অভিযোগের বিষয়ে ২১ নম্বর বাবুটিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আরমান হোসেন বলেন, “ঈদের আগে পণ্য বিতরণ করা প্রয়োজন ছিল। ইউনিয়ন পরিষদে আসেন, বিষয়টি বিস্তারিত বলব।” কার্ড নিজের কাছে রাখা এবং টোকেনের মাধ্যমে পণ্য বিতরণের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “কার্ডগুলো নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তাই নতুন কার্ড দেওয়ার জন্য সেগুলো জমা রাখা হয়েছিল।” তিনি দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেন।

     

    এ বিষয়ে মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবিএম সারোয়ার রাব্বীর বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
    এ ঘটনায় স্থানীয় উপকারভোগীরা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।