শিবপুরে পিতাকে কুপিয়ে হত্যা, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ছেলে গ্রেফতার

আবু নাঈম রিপন, নরসিংদী প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৬:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫৯ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নরসিংদীর শিবপুরে পৈতৃক বাড়িতে নিজ পিতাকে ধারালো ছুরি ও কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মামলার এজাহারনামীয় একমাত্র পলাতক আসামি মো. শাকিল চৌধুরী (৩৫)কে গাজীপুর থেকে গ্রেফতার করেছে শিবপুর মডেল থানা পুলিশ।
পুলিশ জানায়, নিহত বাছেদ মিয়া (৬০) পেশায় কবিরাজি ওষুধ বিক্রেতা ছিলেন। গ্রেফতার শাকিল চৌধুরী তার বড় ছেলে। এর আগে একটি হত্যা মামলায় ১০ বছর সাজা ভোগ করে প্রায় ছয় মাস আগে জামিনে মুক্তি পেয়ে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করছিলেন তিনি।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বাছেদ মিয়া তার ছেলে শাকিলকে নিয়ে একই কক্ষে ঘুমাতে যান। পরদিন ৪ সেপ্টেম্বর ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে নিহতের আর্তনাদ শুনে তার স্ত্রী ও ছোট ছেলে নূর নবী রাশেদ (২১) ঘটনাস্থলে ছুটে যান।
এ সময় শাকিল কুড়ালের লোহার অংশ দিয়ে তার মায়ের কপাল ও মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করেন বলে অভিযোগ করা হয়। ছোট ভাই বাধা দিতে গেলে তাকেও আঘাত করা হয়। পরে ঘরের বাতি জ্বালিয়ে পরিবারের সদস্যরা দেখতে পান, বাছেদ মিয়া খাটের ওপর গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে আছেন এবং তার পেটের দুই পাশ দিয়ে নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে রয়েছে।
স্বজনরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে শাকিল তাদের ওপর হামলা চালিয়ে দ্রুত পালিয়ে যান। পরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় বাছেদ মিয়াকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে শিবপুর মডেল থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. কামরুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এ সময় শিবপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ কোহিনুর মিয়া এবং সহকারী পুলিশ সুপার (শিবপুর সার্কেল) ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে তদন্ত তদারকি করেন।
পুলিশ আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা একটি ছুরি নিহতের পেট থেকে উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া হামলায় ব্যবহৃত রক্তমাখা কুড়ালটি আসামির বসতঘরের শয়নকক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ছোট ছেলে নূর নবী রাশেদ বাদী হয়ে শিবপুর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর জেলা পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ্-আল-ফারুকের সরাসরি তত্ত্বাবধান ও দিকনির্দেশনায় আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে পুলিশ।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৫ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৩টার দিকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পূবাইল থানাধীন হায়দারাবাদ এলাকায় জনৈক ইকবাল হোসেনের ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে পূবাইল থানা পুলিশের সহায়তায় শাকিল চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাকিল তার পিতাকে ছুরি দিয়ে পেটে একাধিক আঘাত করে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। পরে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

শিবপুরে পিতাকে কুপিয়ে হত্যা, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ছেলে গ্রেফতার

আপডেট সময় : ০৬:৪৬:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নরসিংদীর শিবপুরে পৈতৃক বাড়িতে নিজ পিতাকে ধারালো ছুরি ও কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মামলার এজাহারনামীয় একমাত্র পলাতক আসামি মো. শাকিল চৌধুরী (৩৫)কে গাজীপুর থেকে গ্রেফতার করেছে শিবপুর মডেল থানা পুলিশ।
পুলিশ জানায়, নিহত বাছেদ মিয়া (৬০) পেশায় কবিরাজি ওষুধ বিক্রেতা ছিলেন। গ্রেফতার শাকিল চৌধুরী তার বড় ছেলে। এর আগে একটি হত্যা মামলায় ১০ বছর সাজা ভোগ করে প্রায় ছয় মাস আগে জামিনে মুক্তি পেয়ে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করছিলেন তিনি।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বাছেদ মিয়া তার ছেলে শাকিলকে নিয়ে একই কক্ষে ঘুমাতে যান। পরদিন ৪ সেপ্টেম্বর ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে নিহতের আর্তনাদ শুনে তার স্ত্রী ও ছোট ছেলে নূর নবী রাশেদ (২১) ঘটনাস্থলে ছুটে যান।
এ সময় শাকিল কুড়ালের লোহার অংশ দিয়ে তার মায়ের কপাল ও মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করেন বলে অভিযোগ করা হয়। ছোট ভাই বাধা দিতে গেলে তাকেও আঘাত করা হয়। পরে ঘরের বাতি জ্বালিয়ে পরিবারের সদস্যরা দেখতে পান, বাছেদ মিয়া খাটের ওপর গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে আছেন এবং তার পেটের দুই পাশ দিয়ে নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে রয়েছে।
স্বজনরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে শাকিল তাদের ওপর হামলা চালিয়ে দ্রুত পালিয়ে যান। পরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় বাছেদ মিয়াকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে শিবপুর মডেল থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. কামরুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এ সময় শিবপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ কোহিনুর মিয়া এবং সহকারী পুলিশ সুপার (শিবপুর সার্কেল) ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে তদন্ত তদারকি করেন।
পুলিশ আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা একটি ছুরি নিহতের পেট থেকে উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া হামলায় ব্যবহৃত রক্তমাখা কুড়ালটি আসামির বসতঘরের শয়নকক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ছোট ছেলে নূর নবী রাশেদ বাদী হয়ে শিবপুর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর জেলা পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ্-আল-ফারুকের সরাসরি তত্ত্বাবধান ও দিকনির্দেশনায় আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে পুলিশ।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৫ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৩টার দিকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পূবাইল থানাধীন হায়দারাবাদ এলাকায় জনৈক ইকবাল হোসেনের ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে পূবাইল থানা পুলিশের সহায়তায় শাকিল চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাকিল তার পিতাকে ছুরি দিয়ে পেটে একাধিক আঘাত করে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। পরে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।