গ্রামীণফোনের সাবেক শ্রমিকদের ৫% পাওনা পরিশোধের দাবিতে এনবিআরের সামনে অবস্থান
- আপডেট সময় : ১২:৪২:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩৪৪ বার পড়া হয়েছে
গ্রামীণফোনের সাবেক ও বর্তমান শ্রমিকদের ২০১০-২০১২ সময়কালের শ্রমিকদের অংশগ্রহণ তহবিল (WPPF) ও শ্রমিক কল্যাণ তহবিল (WWF)-সংক্রান্ত ৫ শতাংশ বিলম্বজনিত পাওনা পরিশোধের দাবিতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবনের সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে ‘গ্রামীণফোন ৫% বিলম্ব বকেয়া আদায় ঐক্য পরিষদ’।
মঙ্গলবারের কর্মসূচি থেকে দীর্ঘদিন ধরে অনিষ্পন্ন থাকা পাওনা দ্রুত ও ন্যায়সংগতভাবে নিষ্পত্তির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য সরকারি রাজস্ব আদায়ে এনবিআরের কার্যকর উদ্যোগ দাবি করেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
ঐক্য পরিষদের দাবি, ২০১০-২০১২ সময়কালের ৫ শতাংশ বিলম্বজনিত পাওনা প্রায় ১৬ বছর ধরে অনিষ্পন্ন রয়েছে। তাদের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের আইনগত পাওনা নিষ্পত্তি হলে এর মাধ্যমে সরকারের ন্যূনতম প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় হতে পারে। তবে প্রকৃত রাজস্বের পরিমাণ এনবিআরের আইনানুগ যাচাই ও কর নির্ধারণের ওপর নির্ভরশীল বলে জানায় সংগঠনটি।
বক্তারা বলেন, বিষয়টি শুধু সাবেক গ্রামীণফোন শ্রমিকদের পাওনা বা শ্রমিক-নিয়োগকর্তার বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে সরকারের রাজস্ব স্বার্থ, বৈদেশিক মুদ্রার অর্থপ্রবাহ, দেশীয় অর্থনীতিতে অর্থের সঞ্চালন এবং শ্রমিকদের আইনগত অধিকার জড়িত।
তাদের দাবি, পাওনা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে গ্রামীণফোনের বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের পক্ষ থেকে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে বাংলাদেশে অর্থপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের অনুকূলে লভ্যাংশ বা মুনাফা প্রত্যাবাসনের বিষয়টিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আইনানুগ নজরদারি ও পর্যালোচনার আওতায় থাকা প্রয়োজন।
ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, প্রায় ৪ হাজার ৩০০ বাংলাদেশি সাবেক ও বর্তমান শ্রমিক এবং তাদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে এই পাওনা নিষ্পত্তির প্রত্যাশায় রয়েছেন। পাওনা পরিশোধ করা হলে অর্থের একটি বড় অংশ দেশের অভ্যন্তরে ব্যয়, সঞ্চয়, বিনিয়োগ, শিক্ষা, চিকিৎসা, আবাসন ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে প্রবাহিত হয়ে অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
৩ আগস্টের স্মারকলিপির পর এনবিআরের উদ্যোগ জানতে চায় ঐক্য পরিষদ
সংগঠনটি জানায়, গত ৩ আগস্ট ২০২৬ এনবিআরের চেয়ারম্যানের কাছে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছিল। সেখানে সাবেক গ্রামীণফোন কর্মীদের ৫ শতাংশ বিলম্ব বকেয়া, সম্ভাব্য সরকারি রাজস্ব এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের দাবি জানানো হয়।
আজকের কর্মসূচি থেকে ঐক্য পরিষদ জানতে চায়—৩ আগস্টের স্মারকলিপির পর এনবিআর কী ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে, সম্ভাব্য সরকারি রাজস্বের বিষয়টি কোনো পর্যায়ে পর্যালোচনা করা হয়েছে কি না এবং সংগঠনের উত্থাপিত প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য রাজস্বের প্রাথমিক হিসাব যাচাইয়ের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না।
এ ছাড়া শ্রম মন্ত্রণালয়, গ্রামীণফোন, বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিটিআরসিসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এনবিআরের কোনো সমন্বয় হয়েছে কি না এবং দীর্ঘদিন বিষয়টি অনিষ্পন্ন থাকার কারণে সরকার সম্ভাব্য কোনো রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কি না—তা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা
ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ বলেন, ২০২৪ সালের ২ ডিসেম্বর থেকে সাবেক গ্রামীণফোন কর্মীরা তাদের ন্যায্য পাওনা ও অধিকার আদায়ের দাবিতে ধারাবাহিকভাবে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে আসছেন। জাতীয় প্রেস ক্লাব, গ্রামীণফোন হাউস, এনবিআরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
তারা বলেন, আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানই তাদের প্রথম পছন্দ। তবে দীর্ঘদিন ধরে অনিষ্পন্ন থাকা আইনগত পাওনা নিষ্পত্তিতে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হলে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
ঐক্য পরিষদ আশা প্রকাশ করে, শ্রমিকদের পাওনা, রাজস্ব ও জাতীয় স্বার্থের বিষয়টি বিবেচনা করে এনবিআর দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেবে এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে একটি সমন্বিত সমাধানের পথ তৈরি করবে।





