সংবাদ শিরোনাম ::
কুমিল্লা নগরীর ভাটপাড়া এলাকায় মাদকবিরোধী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত দেবিদ্বারের ভাইরাল ঘটনায় নতুন মোড়, পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানোর দাবি প্রবাসী স্বামীর দেবিদ্বারের ভাইরাল ঘটনায় নতুন মোড়, পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানোর দাবি প্রবাসী স্বামীর এতবারপুরে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী ফারুক আহমেদ স্থায়ী চাকরির দাবিতে এলএসপিদের অবস্থান কর্মসূচি, রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্তির দাবি চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের কোনো ‘মাস্টার মাইন্ড’ নেই: ইয়ারুল ইসলাম ৪৭তম বিসিএসে যোগ্য প্রার্থীর সংকট, ফাঁকা রইল ২ হাজার ১৬৭টি ক্যাডার পদ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নতুন সভাপতি শিবা শানু, সম্পাদক জয় চৌধুরী অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয় লড়াইয়ে কেপ ভার্দেকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনা রাজধানীর খাজা মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৬ ইউনিট

দেবিদ্বারের ভাইরাল ঘটনায় নতুন মোড়, পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানোর দাবি প্রবাসী স্বামীর

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৭:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬ ৫৭ বার পড়া হয়েছে

 

দেবিদ্বারে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে শিক্ষকের ‘অনৈতিক সম্পর্ক’ অভিযোগ: পরিকল্পিত ফাঁসানোর দাবি প্রবাসী স্বামীর

 

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার বল্লভপুর এলাকায় এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে মাশিকাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মুক্তল হোসেনের কথিত অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে ঘটনাটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত এবং পূর্বশত্রুতার জেরে সাজানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন ওই নারীর প্রবাসী স্বামী তরিকুল খন্দকার।

 

ঘটনার পর নিজের ফেসবুক লাইভে তরিকুল খন্দকার বলেন, তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। তিনি সৌদি আরব থেকে তার ঘনিষ্ঠজন ও ধর্মভাই হিসেবে পরিচিত প্রধান শিক্ষক মুক্তল হোসেনকে স্ত্রীকে দেখে আসার অনুরোধ জানান। সেই অনুরোধেই তিনি ওই বাসায় যান বলে দাবি করেন।

 

প্রবাসী স্বামীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি পূর্বে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় মুক্তল হোসেনের সহযোগিতায় তিনি সৌদি আরবে যান। এছাড়া বিভিন্ন সময় শিক্ষক মুক্তল হোসেন তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তাও করেছেন বলে জানান।

 

তিনি আরও বলেন, পারিবারিক কলহের কারণে তার স্ত্রী নিজ গ্রাম উজানিজোড়া ছেড়ে দীর্ঘদিন ধরে বল্লভপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। গত ২৯ জুন স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি বিদেশ থেকে মুক্তল হোসেনকে খোঁজখবর নেওয়ার অনুরোধ করেন।

 

 

ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে তিনি প্রথমে যেতে না পারলেও পরে ১ জুলাই রাতে ওই বাসায় যান। যাওয়ার সময়ও তিনি মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন বলে দাবি করেন।

 

 

তরিকুল খন্দকার জানান, কাজ শেষে অনলাইনে এসে তিনি একাধিক মিসড কল দেখতে পান। পরে পরিচিত এক ব্যক্তি তাকে ফোন করে জানান, তার স্ত্রী ও মুক্তল হোসেনকে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে আটক করা হয়েছে। এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ-সংক্রান্ত ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।

 

 

তিনি অভিযোগ করেন, পুরো ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিতভাবে সাজানো হয়েছে এবং এর মাধ্যমে তার পরিবার, স্ত্রী ও শিক্ষক মুক্তল হোসেনের সামাজিক সম্মান ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। নিজের দাবির সমর্থনে তিনি ফেসবুকে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তার স্ক্রিনশটও প্রকাশ করেন, যেখানে অসুস্থ স্ত্রীর খোঁজ নিতে মুক্তল হোসেনকে অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
প্রবাসী স্বামী বলেন, “আমার স্ত্রীকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।”

 

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় তার দুই শিশুসন্তানের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এর জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে দেবিদ্বারের সাংবাদিক সমাজ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান।

 

 

উল্লেখ্য, এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের দাবি ও পাল্টা দাবি ছড়িয়ে পড়লেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তাই অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

 

 

 

দেবিদ্বারের ভাইরাল ঘটনায় নতুন মোড়, পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানোর দাবি প্রবাসী স্বামীর

আপডেট সময় : ০৮:৫৭:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

 

দেবিদ্বারে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে শিক্ষকের ‘অনৈতিক সম্পর্ক’ অভিযোগ: পরিকল্পিত ফাঁসানোর দাবি প্রবাসী স্বামীর

 

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার বল্লভপুর এলাকায় এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে মাশিকাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মুক্তল হোসেনের কথিত অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে ঘটনাটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত এবং পূর্বশত্রুতার জেরে সাজানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন ওই নারীর প্রবাসী স্বামী তরিকুল খন্দকার।

 

ঘটনার পর নিজের ফেসবুক লাইভে তরিকুল খন্দকার বলেন, তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। তিনি সৌদি আরব থেকে তার ঘনিষ্ঠজন ও ধর্মভাই হিসেবে পরিচিত প্রধান শিক্ষক মুক্তল হোসেনকে স্ত্রীকে দেখে আসার অনুরোধ জানান। সেই অনুরোধেই তিনি ওই বাসায় যান বলে দাবি করেন।

 

প্রবাসী স্বামীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি পূর্বে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় মুক্তল হোসেনের সহযোগিতায় তিনি সৌদি আরবে যান। এছাড়া বিভিন্ন সময় শিক্ষক মুক্তল হোসেন তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তাও করেছেন বলে জানান।

 

তিনি আরও বলেন, পারিবারিক কলহের কারণে তার স্ত্রী নিজ গ্রাম উজানিজোড়া ছেড়ে দীর্ঘদিন ধরে বল্লভপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। গত ২৯ জুন স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি বিদেশ থেকে মুক্তল হোসেনকে খোঁজখবর নেওয়ার অনুরোধ করেন।

 

 

ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে তিনি প্রথমে যেতে না পারলেও পরে ১ জুলাই রাতে ওই বাসায় যান। যাওয়ার সময়ও তিনি মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন বলে দাবি করেন।

 

 

তরিকুল খন্দকার জানান, কাজ শেষে অনলাইনে এসে তিনি একাধিক মিসড কল দেখতে পান। পরে পরিচিত এক ব্যক্তি তাকে ফোন করে জানান, তার স্ত্রী ও মুক্তল হোসেনকে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে আটক করা হয়েছে। এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ-সংক্রান্ত ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।

 

 

তিনি অভিযোগ করেন, পুরো ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিতভাবে সাজানো হয়েছে এবং এর মাধ্যমে তার পরিবার, স্ত্রী ও শিক্ষক মুক্তল হোসেনের সামাজিক সম্মান ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। নিজের দাবির সমর্থনে তিনি ফেসবুকে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তার স্ক্রিনশটও প্রকাশ করেন, যেখানে অসুস্থ স্ত্রীর খোঁজ নিতে মুক্তল হোসেনকে অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
প্রবাসী স্বামী বলেন, “আমার স্ত্রীকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।”

 

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় তার দুই শিশুসন্তানের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এর জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে দেবিদ্বারের সাংবাদিক সমাজ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান।

 

 

উল্লেখ্য, এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের দাবি ও পাল্টা দাবি ছড়িয়ে পড়লেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তাই অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।