সংবাদ শিরোনাম ::
অসভ্যতার সব সীমা পার: আইইবিতে পরিবারসহ জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীকে লাঞ্ছনা ও প্রাণনাশের হুমকি, নেপথ্যে ‘হাবলুর গুরুর’ ক্যাডারতন্ত্র! বেনাপোল স্থলবন্দরে তীব্র জনবল সংকট: ৭৯ পদ শূন্য, চরম ব্যাহত আমদানি-রপ্তানি মানবতার দেওয়াল সংগঠনের ৪র্থ বর্ষপূর্তি উপলক্ষে গুণীজন সম্মাননা ও সংবর্ধনা প্রদান মানবতার দেওয়াল সংগঠনের ৪র্থ বর্ষপূর্তি উপলক্ষে গুণীজন সম্মাননা ও সংবর্ধনা প্রদান আইইবিতে জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীকে লাঞ্ছনা ও প্রাণনাশের হুমকি, নেপথ্যে হাবলুর ক্যাডারতন্ত্র আইইবিতে জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীকে লাঞ্ছনা ও হুমকির অভিযোগ গ্রামীণফোনের শ্রমিকদের ১৬ বছরের পাওনা আদায়ে প্রতিবাদ সমাবেশ: ১৫ অগাস্ট প্রেস ক্লাবে গ্রামীণফোনের শ্রমিকদের ১৬ বছরের পাওনা আদায়ে প্রতিবাদ সমাবেশ: ১৫ অগাস্ট প্রেস ক্লাবে যশোরে ককটেল বিস্ফোরণে যুবক আহত, উদ্ধার হয়নি আরো ২টি ককটেল যশোরে ককটেল বিস্ফোরণে যুবক আহত, উদ্ধার হয়নি আরো ২টি ককটেল

বেনাপোল স্থলবন্দরে তীব্র জনবল সংকট: ৭৯ পদ শূন্য, চরম ব্যাহত আমদানি-রপ্তানি

মনির হোসেন, বেনাপোল, শার্শা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৬:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬ ২৯ বার পড়া হয়েছে

 দেশের সবচেয়ে বড় বেনাপোল স্থলবন্দরে তীব্র জনবল সংকট দেখা দিয়েছে। পরিচালকসহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৭৯টি পদ খালি থাকায় স্থবির হয়ে পড়েছে বন্দরের স্বাভাবিক প্রশাসনিক ও অপারেশনাল কার্যক্রম। একদিকে বেনাপোলে কর্মকর্তার অভাবে পণ্য খালাসে জট বাড়ছে, অন্যদিকে ঢাকার প্রধান দপ্তরে অনুমোদিত পদের চেয়ে অতিরিক্ত কর্মকর্তা অলস বসে আছেন— যা বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতাকেই স্পষ্ট করে তুলছে।

জনবল কাঠামোর ভয়াবহ চিত্র

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বেনাপোল স্থলবন্দরে গুদাম ও ইয়ার্ড পরিচালনাসহ বিভিন্ন পদে অনুমোদিত ২১৬টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১৪১ জন। অর্থাৎ, শুধু কর্মচারী পদেই ঘাটতি প্রায় ৩৪.৭ শতাংশ (৭৫টি)। এছাড়া প্রশাসনিক প্রধান ‘পরিচালক’ পদটি গত ৩ আগস্ট থেকে সম্পূর্ণ খালি। সবচেয়ে নাজুক অবস্থা উপপরিচালক (ডিডি) পদে; এখানে ৪টি অনুমোদিত পদের ৩টিই শূন্য। একজন মাত্র উপপরিচালককে চারটি পদের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

​বিপরীত চিত্র দেখা গেছে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের ঢাকার প্রধান দপ্তরে। সেখানে উপপরিচালকের ৪টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৭ জন। অর্থাৎ, যেখানে মাঠপর্যায়ে চরম সংকট, সেখানে প্রধান দপ্তরে ৩ জন অতিরিক্ত কর্মকর্তা বসিয়ে রাখা হয়েছে।

ব্যবসায়িক প্রভাব ও রাজস্ব ঝুঁকির শঙ্কা

বন্দর ব্যবহারকারী ও ব্যবসায়ীদের মতে, জনবল সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়ছে পণ্য ওঠানো-নামানো এবং ইয়ার্ড ব্যবস্থাপনায়। একাধিক স্থানে এক কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে তদারকি করতে হওয়ায় পণ্য খালাসে অতিরিক্ত সময় লাগছে।

  • পরিবহন ও অবস্থান ব্যয় বৃদ্ধি: বেনাপোল আমদানিকারক সমিতির সহ-সভাপতি আমিনুল হক আনু জানান, জনবল না থাকায় একদিনের কাজ শেষ করতে দুই দিন সময় লাগছে। এতে আমদানিকারকদের পরিবহন খরচ ও ডেমারেজ মাশুল বাড়ছে, যার প্রভাবে বাজারে পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
  • রাজস্ব ও তদারকি ঝুঁকি: নির্দিষ্ট কোনো ক্ষতির হিসাব না থাকলেও পণ্য খালাসে ধীরগতির কারণে সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া পর্যাপ্ত তদারকির অভাবে বন্দরে প্রশাসনিক দুর্বলতা ও অনিয়মের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

দ্রুত সমাধানের তাগিদ

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক লতা বলেন, “নতুন নিয়োগের প্রক্রিয়া দীর্ঘ হতে পারে। তবে তাৎক্ষণিক সমাধান হিসেবে ঢাকায় অতিরিক্ত থাকা কর্মকর্তাদের দ্রুত বেনাপোলে প্রেষণে পদায়ন করা উচিত।”

​এ বিষয়ে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. মানজারুল মান্নান জানান, বেনাপোল স্থলবন্দরের জনবল সংকটের বিষয়টি তারা অবগত রয়েছেন এবং দ্রুত নতুন জনবল নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

বেনাপোল স্থলবন্দরে তীব্র জনবল সংকট: ৭৯ পদ শূন্য, চরম ব্যাহত আমদানি-রপ্তানি

আপডেট সময় : ০৬:৩৬:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

 দেশের সবচেয়ে বড় বেনাপোল স্থলবন্দরে তীব্র জনবল সংকট দেখা দিয়েছে। পরিচালকসহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৭৯টি পদ খালি থাকায় স্থবির হয়ে পড়েছে বন্দরের স্বাভাবিক প্রশাসনিক ও অপারেশনাল কার্যক্রম। একদিকে বেনাপোলে কর্মকর্তার অভাবে পণ্য খালাসে জট বাড়ছে, অন্যদিকে ঢাকার প্রধান দপ্তরে অনুমোদিত পদের চেয়ে অতিরিক্ত কর্মকর্তা অলস বসে আছেন— যা বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতাকেই স্পষ্ট করে তুলছে।

জনবল কাঠামোর ভয়াবহ চিত্র

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বেনাপোল স্থলবন্দরে গুদাম ও ইয়ার্ড পরিচালনাসহ বিভিন্ন পদে অনুমোদিত ২১৬টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১৪১ জন। অর্থাৎ, শুধু কর্মচারী পদেই ঘাটতি প্রায় ৩৪.৭ শতাংশ (৭৫টি)। এছাড়া প্রশাসনিক প্রধান ‘পরিচালক’ পদটি গত ৩ আগস্ট থেকে সম্পূর্ণ খালি। সবচেয়ে নাজুক অবস্থা উপপরিচালক (ডিডি) পদে; এখানে ৪টি অনুমোদিত পদের ৩টিই শূন্য। একজন মাত্র উপপরিচালককে চারটি পদের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

​বিপরীত চিত্র দেখা গেছে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের ঢাকার প্রধান দপ্তরে। সেখানে উপপরিচালকের ৪টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৭ জন। অর্থাৎ, যেখানে মাঠপর্যায়ে চরম সংকট, সেখানে প্রধান দপ্তরে ৩ জন অতিরিক্ত কর্মকর্তা বসিয়ে রাখা হয়েছে।

ব্যবসায়িক প্রভাব ও রাজস্ব ঝুঁকির শঙ্কা

বন্দর ব্যবহারকারী ও ব্যবসায়ীদের মতে, জনবল সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়ছে পণ্য ওঠানো-নামানো এবং ইয়ার্ড ব্যবস্থাপনায়। একাধিক স্থানে এক কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে তদারকি করতে হওয়ায় পণ্য খালাসে অতিরিক্ত সময় লাগছে।

  • পরিবহন ও অবস্থান ব্যয় বৃদ্ধি: বেনাপোল আমদানিকারক সমিতির সহ-সভাপতি আমিনুল হক আনু জানান, জনবল না থাকায় একদিনের কাজ শেষ করতে দুই দিন সময় লাগছে। এতে আমদানিকারকদের পরিবহন খরচ ও ডেমারেজ মাশুল বাড়ছে, যার প্রভাবে বাজারে পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
  • রাজস্ব ও তদারকি ঝুঁকি: নির্দিষ্ট কোনো ক্ষতির হিসাব না থাকলেও পণ্য খালাসে ধীরগতির কারণে সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া পর্যাপ্ত তদারকির অভাবে বন্দরে প্রশাসনিক দুর্বলতা ও অনিয়মের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

দ্রুত সমাধানের তাগিদ

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক লতা বলেন, “নতুন নিয়োগের প্রক্রিয়া দীর্ঘ হতে পারে। তবে তাৎক্ষণিক সমাধান হিসেবে ঢাকায় অতিরিক্ত থাকা কর্মকর্তাদের দ্রুত বেনাপোলে প্রেষণে পদায়ন করা উচিত।”

​এ বিষয়ে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. মানজারুল মান্নান জানান, বেনাপোল স্থলবন্দরের জনবল সংকটের বিষয়টি তারা অবগত রয়েছেন এবং দ্রুত নতুন জনবল নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।