মন্ত্রণালয়ের মৌখিক আশ্বাসে পানি পান করিয়ে তাদের অনশন কর্মসূচি শেষ করা হয়েছে।
- আপডেট সময় : ১০:০৩:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬ ৩৭ বার পড়া হয়েছে
স্থায়ী কর্মসংস্থানের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে অনশনে ছিলেন লাইভস্টক সার্ভিস প্রোভাইডার, এলএসপিরা
শেষ পর্যন্ত মন্ত্রণালয়ের মৌখিক আশ্বাসে পানি পান করিয়ে তাদের অনশন কর্মসূচি শেষ করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে, আগামী তিন মাসের মধ্যে এলএসপিদের চাকরি স্থায়ী করার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এলএসপিরা জানান, কর্মসংস্থানের দাবিতে ইতোমধ্যে জাতীয় প্রেস ক্লাবে তিনবার সংবাদ সম্মেলন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সামনে নয়বার মানববন্ধন এবং পাঁচবার অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
বিভিন্ন সময়ে মৌখিক আশ্বাস এবং কয়েকটি দাপ্তরিক ফরওয়ার্ডিং পেলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে জানান তারা।
বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন এবং গ্রামীণ পর্যায়ে খামারিদের সেবা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন লাইভস্টক সার্ভিস প্রোভাইডার বা এলএসপিরা।
প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এসব মাঠকর্মী স্থানীয় পর্যায়ে গবাদিপশুর প্রাথমিক চিকিৎসা, টিকাদান, কৃমিনাশক ব্যবহারে সহায়তা, পুষ্টি ব্যবস্থাপনা এবং প্রজনন বিষয়ে খামারিদের পরামর্শ দিয়ে আসছেন।
প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আওতায় স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ প্রাণিসম্পদ সেবা প্রদানকারী হিসেবে এলএসপিদের প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারি ও উন্নয়ন প্রকল্পের নথিতেও স্থানীয় লাইভস্টক সার্ভিস প্রোভাইডারদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গড়ে তোলার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।
মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে এলএসপিরা খামারিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখে পশুর স্বাস্থ্য ও উৎপাদন ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করেন।
বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে সরকারি প্রাণিসম্পদ সেবা সহজে না পৌঁছালে স্থানীয় পর্যায়ের এসব সেবাদাতা খামারিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে কাজ করেন।
তবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেও এলএসপিদের একটি অংশ স্থায়ী ও প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা না থাকায় অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন বলে দাবি করছেন।
তাদের অভিযোগ, প্রাণিসম্পদ খাতে মাঠপর্যায়ে অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ কাজে লাগিয়ে তারা নিয়মিতভাবে খামারিদের সেবা দিয়ে এলেও তাদের কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো স্পষ্ট নিশ্চয়তা নেই।
এলএসপিদের দাবি, প্রাণিসম্পদ খাতে মাঠপর্যায়ের সেবা আরও কার্যকর করতে তাদের অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণকে কাজে লাগিয়ে একটি স্থায়ী ও স্বীকৃত কর্মসংস্থান কাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তাদের মূল্যায়ন করে সরকারি ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়ার দাবিও রয়েছে।
এদিকে প্রাণিসম্পদ সেবা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়ে সরকারও কাজ করছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ‘লাইভস্টক সার্ভিস ট্রান্সফরমেশন’ বা এলএসটি প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর আওতায় প্রাণিসম্পদ সেবার বর্তমান পরিস্থিতি, প্রয়োজন ও ঘাটতি বিশ্লেষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রকল্পের কাঠামো তৈরির কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এলএসপিদের মতে, প্রাণিসম্পদ খাতের টেকসই উন্নয়নের জন্য মাঠপর্যায়ে দক্ষ জনবল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তাই তাদের প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে স্থায়ী কর্মসংস্থান, যথাযথ পারিশ্রমিক এবং দায়িত্বের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হলে একদিকে এলএসপিদের কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা কমবে, অন্যদিকে দেশের খামারি ও প্রাণিসম্পদ খাত আরও কার্যকর সেবা পেতে পারে।
তারা দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে বিষয়টির সমাধান এবং এলএসপিদের জন্য একটি সুস্পষ্ট কর্মসংস্থান কাঠামো প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন।
























