যশোরের যৌনপল্লিতে এইচআইভি ঝুঁকি বাড়লেও কনডম সরবরাহে ঘাটতি
- আপডেট সময় : ০৯:৪১:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে
সীমান্তবর্তী জেলা যশোরে এইচআইভি-এইডস সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়লেও যৌনপল্লিগুলোতে যৌনকর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। তবে সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিনামূল্যে কনডম সরবরাহ বন্ধ থাকায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যশোর শহরের মাড়ুয়া মন্দিরসংলগ্ন ও ঝালাইপট্টি এলাকার দুটি যৌনপল্লিতে প্রায় ২২০ জন যৌনকর্মী রয়েছেন। তাঁদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, কাউন্সেলিং, এইচআইভি পরীক্ষা এবং নিরাপদ যৌন আচরণ বিষয়ে সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
যৌনকর্মীদের স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষায়িত ড্রপ-ইন সেন্টার (ডিআইসি) ও ‘সুখ পাখি’ কেন্দ্রের মাধ্যমে যৌনবাহিত সংক্রমণ (এসটিআই) শনাক্ত ও চিকিৎসা, এইচআইভি পরীক্ষা এবং কাউন্সেলিং দেওয়া হচ্ছে। গোপনীয়তা বজায় রেখে র্যাপিড টেস্ট কিটের মাধ্যমে এইচআইভি স্ক্রিনিং করা হয়। ফল পজিটিভ হলে কাউন্সেলিংয়ের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।
স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি যৌনপল্লির অভিজ্ঞ কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ‘পিয়ার এডুকেটর’ হিসেবে কাজ করানো হচ্ছে। তাঁরা সহকর্মীদের নিরাপদ যৌন আচরণ, কনডম ব্যবহার এবং নিয়মিত এইচআইভি পরীক্ষার বিষয়ে সচেতন করছেন।
কনডম সরবরাহে সংকট
এইচআইভি ও অন্যান্য যৌনবাহিত রোগ প্রতিরোধে কনডম ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, আগে সরকারি ব্যবস্থাপনায় নিয়মিত বিনামূল্যে কনডম সরবরাহ করা হতো। বর্তমানে সেই সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। কিছু বেসরকারি সংস্থা কনডম দিলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা অপ্রতুল।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যৌনকর্মীদের পাশাপাশি তাঁদের গ্রাহকদেরও নিরাপদ যৌন আচরণে উদ্বুদ্ধ করা জরুরি। এ জন্য কনডম ব্যবহারে দর-কষাকষির কৌশলসহ বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা হচ্ছে।
এআরটি সেন্টারে বিনামূল্যে চিকিৎসা
এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (এআরটি) সেন্টার রয়েছে। যৌনপল্লির কোনো কর্মীর এইচআইভি শনাক্ত হলে তাকে ওই কেন্দ্রে রেফার করা হয়। সেখানে বিনামূল্যে নিয়মিত এআরটি ওষুধ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
চিকিৎসার মাধ্যমে শরীরে ভাইরাসের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হওয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে অন্যদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো যায়।
অর্থায়ন সংকটে স্বাস্থ্যসেবা
সংশ্লিষ্টরা জানান, যশোরের যৌনপল্লিগুলোতে এইচআইভি প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্যসেবার একটি বড় অংশ দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অর্থায়নের ওপর নির্ভরশীল। সাম্প্রতিক সময়ে অর্থায়ন সংকটে কিছু ড্রপ-ইন সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে কনডম সরবরাহেও ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
বঞ্চিতা মহিলা ও শিশু উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক নুরুননাহার বলেন, সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় ভারতসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ যশোরে আসেন। তাঁদের অনেকে যৌনপল্লি ও ভ্রাম্যমাণ যৌনকর্মীদের কাছে যান। এতে যৌনবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যশোরের দুটি যৌনপল্লিতে থাকা প্রায় ২২০ জন যৌনকর্মীর নিয়মিত কাউন্সেলিং করা হয়। বিভিন্ন এনজিওর মাধ্যমে কনডম সরবরাহ করা হলেও আগে সরকারি ব্যবস্থাপনাতেও কনডম দেওয়া হতো। বর্তমানে সরকারি পর্যায়ে সেই সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, যশোরের যৌনপল্লিগুলোতে এইচআইভি-এইডস প্রতিরোধ কার্যক্রম কার্যকর রাখতে সরকারি কনডম সরবরাহ পুনরায় চালু, ড্রপ-ইন সেন্টারের সেবা সচল রাখা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং পিয়ার এডুকেটরভিত্তিক সচেতনতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
























