সংবাদ শিরোনাম ::
নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়তে TFGBV প্রতিরোধে আইনি সুরক্ষার দাবি মোংলার নিখোঁজ জেলে মিরাজ শেখের সন্ধান দাবিতে সংবাদ সম্মেলন গ্রামীণফোনের শ্রমিকদের ৫% বিলম্বজনিত পাওনার  দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ অর্থমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে বুধবার বেনাপোলে আমদানি-রপ্তানিসহ সব কার্যক্রম বন্ধ যশোরের শার্শার উলাশী জিয়া খাল পুনঃখননে এখন প্রবাহমান কুমিল্লা বুড়িচং প্রেস ক্লাবের নির্বাচনে খোরশেদ সভাপতি, বাবু সম্পাদক, জাকির সাংগঠনিক সম্পাদক কুমিল্লায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, ডায়মন্ড ফুড ইন্ডাস্ট্রিজকে লাখ টাকা জরিমানা তালাশ টিমের সংবাদকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে ডা. এস এম সরওয়ারের সংবাদ সম্মেলন তালাশ টিমের সংবাদকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে ডা. এস এম সরওয়ারের সংবাদ সম্মেলন চান্দিনায় গাছ চুরির তদন্তে মূল অভিযুক্তকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

কুমিল্লায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, ডায়মন্ড ফুড ইন্ডাস্ট্রিজকে লাখ টাকা জরিমানা

কুমিল্লা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৯:০৮:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে

কুমিল্লা সদর উপজেলার বিসিক শিল্পনগরীতে অস্বাস্থ্যকর ও অনিরাপদ পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদনের অভিযোগে ডায়মন্ড ফুড ইন্ডাস্ট্রিজকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার (২৪ আগস্ট ২০২৬) জেলা প্রশাসন, কুমিল্লা ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের জেলা কার্যালয়ের যৌথ অভিযানে প্রতিষ্ঠানটিকে এ জরিমানা করা হয়।

 

অভিযানটি পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসন, কুমিল্লার সহকারী কমিশনার (জেএম) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সুলতান হাসান মাহমুদ এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, কুমিল্লার জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা জুয়েল মিয়া।

 

অভিযানে দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক মো. আবুল কালাম আজাদ, জেলা কার্যালয়ের নমুনা সংগ্রহ সহকারী মো. নাজমুস সাকিব, কুমিল্লা পুলিশ লাইনসের একটি চৌকস দলসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও সাপোর্ট স্টাফ সহযোগিতা করেন।

 

 

অভিযানকালে দেখা যায়, অত্যন্ত অপরিষ্কার, অস্বাস্থ্যকর ও স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী উৎপাদন করা হচ্ছে। ময়দা, চিনি ও ডালডাসহ বিভিন্ন কাঁচামাল এবং উৎপাদিত খাদ্যপণ্য অপরিষ্কার মেঝেতে খোলা অবস্থায় রাখা হয়েছে। অধিকাংশ খাবারই ছিল ঢাকনাবিহীন।
এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানে নিষিদ্ধ নন-ফুড গ্রেড রঙ ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে রঙটিকে ‘সরিষা ফুলের কালার’ বলে উল্লেখ করা হয়। স্যাঁতস্যাঁতে ও অপরিষ্কার মেঝেতে কর্মীদের খালি পায়ে কাজ করতে দেখা যায় এবং কর্মীরা খালি পায়ে প্রতিষ্ঠানের ভেতর-বাইরে চলাচল করছিলেন।

 

অভিযানে আরও দেখা যায়, তেলাপোকা ও পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেই এবং ঢাকনাযুক্ত ডাস্টবিনও ছিল না। একাধিক পণ্যের বিএসটিআই লাইসেন্স পাওয়া যায়নি। পণ্যের গায়ে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখও অস্পষ্ট ছিল।

 

এ ছাড়া খামির তৈরির টেবিল অত্যন্ত নোংরা ও কাঠের তৈরি ছিল। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, এ ধরনের টেবিলের পরিবর্তে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন স্টেইনলেস স্টিলের টেবিল ব্যবহার করা উচিত। রুটি ও বিস্কুট তৈরির ছাঁচগুলোও তেলচিটচিটে ও অত্যন্ত অপরিষ্কার অবস্থায় পাওয়া যায়। পাশাপাশি খাদ্যপণ্য তৈরিতে আয়োডিনবিহীন নিম্নমানের লবণ ব্যবহারের বিষয়টিও অভিযানে উঠে আসে।
অনিরাপদ পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন এবং ভোক্তার স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করার কারণে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে এক লাখ (১,০০,০০০) টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়েছে।

 

অভিযানকারী দল প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে এসব অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সংশোধনের নির্দেশ দেয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করলে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী নিয়মিত মামলা করা হবে বলেও সতর্ক করা হয়।
কর্তৃপক্ষ জানায়, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের যৌথ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

 

 

কুমিল্লায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, ডায়মন্ড ফুড ইন্ডাস্ট্রিজকে লাখ টাকা জরিমানা

আপডেট সময় : ০৯:০৮:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

কুমিল্লা সদর উপজেলার বিসিক শিল্পনগরীতে অস্বাস্থ্যকর ও অনিরাপদ পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদনের অভিযোগে ডায়মন্ড ফুড ইন্ডাস্ট্রিজকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার (২৪ আগস্ট ২০২৬) জেলা প্রশাসন, কুমিল্লা ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের জেলা কার্যালয়ের যৌথ অভিযানে প্রতিষ্ঠানটিকে এ জরিমানা করা হয়।

 

অভিযানটি পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসন, কুমিল্লার সহকারী কমিশনার (জেএম) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সুলতান হাসান মাহমুদ এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, কুমিল্লার জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা জুয়েল মিয়া।

 

অভিযানে দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক মো. আবুল কালাম আজাদ, জেলা কার্যালয়ের নমুনা সংগ্রহ সহকারী মো. নাজমুস সাকিব, কুমিল্লা পুলিশ লাইনসের একটি চৌকস দলসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও সাপোর্ট স্টাফ সহযোগিতা করেন।

 

 

অভিযানকালে দেখা যায়, অত্যন্ত অপরিষ্কার, অস্বাস্থ্যকর ও স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী উৎপাদন করা হচ্ছে। ময়দা, চিনি ও ডালডাসহ বিভিন্ন কাঁচামাল এবং উৎপাদিত খাদ্যপণ্য অপরিষ্কার মেঝেতে খোলা অবস্থায় রাখা হয়েছে। অধিকাংশ খাবারই ছিল ঢাকনাবিহীন।
এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানে নিষিদ্ধ নন-ফুড গ্রেড রঙ ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে রঙটিকে ‘সরিষা ফুলের কালার’ বলে উল্লেখ করা হয়। স্যাঁতস্যাঁতে ও অপরিষ্কার মেঝেতে কর্মীদের খালি পায়ে কাজ করতে দেখা যায় এবং কর্মীরা খালি পায়ে প্রতিষ্ঠানের ভেতর-বাইরে চলাচল করছিলেন।

 

অভিযানে আরও দেখা যায়, তেলাপোকা ও পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেই এবং ঢাকনাযুক্ত ডাস্টবিনও ছিল না। একাধিক পণ্যের বিএসটিআই লাইসেন্স পাওয়া যায়নি। পণ্যের গায়ে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখও অস্পষ্ট ছিল।

 

এ ছাড়া খামির তৈরির টেবিল অত্যন্ত নোংরা ও কাঠের তৈরি ছিল। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, এ ধরনের টেবিলের পরিবর্তে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন স্টেইনলেস স্টিলের টেবিল ব্যবহার করা উচিত। রুটি ও বিস্কুট তৈরির ছাঁচগুলোও তেলচিটচিটে ও অত্যন্ত অপরিষ্কার অবস্থায় পাওয়া যায়। পাশাপাশি খাদ্যপণ্য তৈরিতে আয়োডিনবিহীন নিম্নমানের লবণ ব্যবহারের বিষয়টিও অভিযানে উঠে আসে।
অনিরাপদ পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন এবং ভোক্তার স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করার কারণে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে এক লাখ (১,০০,০০০) টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়েছে।

 

অভিযানকারী দল প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে এসব অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সংশোধনের নির্দেশ দেয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করলে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী নিয়মিত মামলা করা হবে বলেও সতর্ক করা হয়।
কর্তৃপক্ষ জানায়, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের যৌথ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।