গ্রামীণফোনের শ্রমিকদের ৫% বিলম্বজনিত পাওনার দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ অর্থমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি
- আপডেট সময় : ১০:২৪:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬ ৩২ বার পড়া হয়েছে
গ্রামীণফোন লিমিটেডের সাবেক শ্রমিকদের ২০১০-২০১২ সালের WPPF ও WWF-সংক্রান্ত ৫ শতাংশ বিলম্বজনিত আইনগত পাওনা আদায়ের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশ শেষে গ্রামীণফোন ৫% বিলম্ব বকেয়া আদায় ঐক্য পরিষদের একটি প্রতিনিধিদল অর্থমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে।
সমাবেশে গ্রামীণফোনের সাবেক শ্রমিক-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট সুবিধাভোগীরা অংশ নেন। বক্তারা দীর্ঘদিন ধরে অনিষ্পন্ন থাকা আইনগত পাওনা দ্রুত পরিশোধ, শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত এবং বিরোধের ন্যায়সংগত সমাধানের দাবি জানান।
বক্তারা বলেন, তারা কোনো অনুদান বা দয়া চান না; প্রচলিত আইন, সরকারি প্রজ্ঞাপন ও আদালতের কার্যক্রম অনুযায়ী তাঁদের আইনগত পাওনার স্বচ্ছ, ন্যায়সংগত ও দ্রুত নিষ্পত্তি চান।
তাঁরা বলেন, গ্রামীণফোন দেশের টেলিযোগাযোগ খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি বিনিয়োগ-সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠান। বিদেশি বিনিয়োগ দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর দেশের প্রচলিত আইন ও শ্রমিকদের আইনগত অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্বও রয়েছে।
১৬ বছরের বঞ্চনার অবসানের দাবি
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ২০১০-২০১২ সালের সংশ্লিষ্ট পাওনা নিয়ে দীর্ঘ আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া পার হলেও ৫ শতাংশ বিলম্বজনিত পাওনা এখনো অনিষ্পন্ন রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে অর্থ আটকে থাকায় সংশ্লিষ্ট শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারগুলো আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
তাঁদের দাবি, দীর্ঘ সময়ের মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, শিক্ষা ও চিকিৎসা খরচ এবং অর্থের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে পাওনা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে বাস্তব আর্থিক পরিস্থিতিও বিবেচনা করা প্রয়োজন।
কর্মসংস্থান হারানো নিয়ে উদ্বেগ
সমাবেশে গ্রামীণফোনের কর্মসংস্থান কাঠামোর পরিবর্তন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। আন্দোলনকারীদের উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন পর্যায়ে প্রায় ৩ হাজার ৩৬০ জন বাংলাদেশি শ্রমিক কর্মসংস্থান হারিয়েছেন।
বক্তারা বলেন, একজন শ্রমিকের কর্মসংস্থান হারানোর প্রভাব শুধু তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে সীমাবদ্ধ থাকে না। এর সঙ্গে পরিবার, সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা, আবাসন, ঋণ পরিশোধ ও ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়ও জড়িত।
তাঁরা আরও বলেন, বৃহৎ প্রতিষ্ঠানগুলোর শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় নেতিবাচক প্রবণতা ভবিষ্যতে দেশের শ্রমবাজার ও কর্মসংস্থান পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই দীর্ঘদিনের এই বিরোধের একটি আইনভিত্তিক ও ন্যায়সংগত সমাধান প্রয়োজন।
রাজস্ব আহরণের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা
সমাবেশে আন্দোলনকারীরা দাবি করেন, আইনসম্মত ও কর-সম্মতভাবে পাওনা নিষ্পত্তি করা হলে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আহরণেরও সুযোগ তৈরি হতে পারে।
ঐক্য পরিষদের উপস্থাপিত প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রযোজ্য কর ও আইনগত কর্তন পরিশোধের পর প্রত্যেক সুবিধাভোগী ১০ কোটি টাকা করে গ্রহণে প্রস্তুত রয়েছেন। সংগঠনের হিসাব অনুযায়ী, এ ধরনের নিষ্পত্তির মাধ্যমে সরকারের প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পর্যন্ত কর রাজস্ব আহরণের সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে প্রকৃত করযোগ্যতা, করহার, কর্তন ও রাজস্বের পরিমাণ সংশ্লিষ্ট রাজস্ব কর্তৃপক্ষের আইনগত ও আর্থিক যাচাইয়ের মাধ্যমে নির্ধারণ করার দাবি জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, একটি স্বচ্ছ ও আইনসম্মত নিষ্পত্তির মাধ্যমে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ, সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধি, অর্থনীতিতে অর্থের পুনঃপ্রবাহ এবং দীর্ঘস্থায়ী শ্রম বিরোধের অবসান—সবগুলো ক্ষেত্রেই ইতিবাচক ফল পাওয়া সম্ভব।
অর্থমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি
প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে গ্রামীণফোন ৫% বিলম্ব বকেয়া আদায় ঐক্য পরিষদের প্রতিনিধিদল অর্থমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে।
স্মারকলিপিতে ২০১০-২০১২ সালের WPPF ও WWF-সংক্রান্ত ৫ শতাংশ বিলম্বজনিত আইনগত পাওনা দ্রুত নিষ্পত্তি, শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা এবং সম্ভাব্য রাজস্ব আহরণের বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানানো হয়।
এতে দীর্ঘস্থায়ী বিরোধটিকে শুধু শ্রমিক ও নিয়োগকর্তার আর্থিক বিরোধ হিসেবে না দেখে শ্রমিকের অধিকার, আইনের শাসন, সরকারি রাজস্ব, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ আস্থা এবং শিল্পসম্পর্কের স্থিতিশীলতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়।
শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা
সমাবেশে বক্তারা জানান, ২০২৪ সালের ২ ডিসেম্বর থেকে গ্রামীণফোনের সাবেক শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা ও অধিকার আদায়ের দাবিতে শান্তিপূর্ণ, অহিংস ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ভবিষ্যতেও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন তাঁরা।
সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ, গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিনের এই বিরোধের অবসানে আলোচনার মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ, আইনসম্মত, ন্যায়সংগত, কর-সম্মত ও সময়বদ্ধ নিষ্পত্তি কাঠামো প্রণয়ন করা প্রয়োজন।























