চান্দিনায় গাছ চুরির তদন্তে মূল অভিযুক্তকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে
- আপডেট সময় : ০৯:৩৬:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬ ১৫২ বার পড়া হয়েছে
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার ৫ নম্বর কেরনখাল ইউনিয়নে সরকারি গাছ আত্মসাতের ঘটনায় তদন্তে অনিয়ম এবং মূল অভিযুক্তকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তদন্ত কমিটির প্রধান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মোর্শেদ আলমের বিরুদ্ধে একতরফাভাবে প্রতিবেদন দেওয়ার পাঁয়তারা করার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালে তৎকালীন চেয়ারম্যান সুমন ভূঁইয়া কোরেরপাড় গ্রামের সরকারি পাঁচটি গাছ জব্দ করে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে রাখেন। পরে ৫ আগস্টের পর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা রুহুল কুদ্দুছ মাহিন ভ্যানযোগে গাছগুলো নিয়ে যাওয়ার সময় দফাদারের হাতে আটক হন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ১৫ জুন দৈনিক ইনকিলাবে সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরে ১৮ জুন কেরনখাল ইউনিয়নবাসী মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনের খবর চান্দিনা ও কুমিল্লার বিভিন্ন গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়।
ওই দিনই উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বন বিভাগকে দিয়ে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। বন বিভাগ ৯ জুলাই ২০২৫ তারিখে সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে সরেজমিন তদন্ত করে। তবে ওই তদন্ত প্রতিবেদনের পরবর্তী অগ্রগতি এখনো জানা যায়নি।
এদিকে, ২০২৬ সালের ১০ আগস্ট কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপি দুর্নীতির অভিযোগে রুহুল কুদ্দুছ মাহিনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা প্রশাসন নতুন করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মোর্শেদ আলমকে প্রধান করে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তবে কোনো লিখিত নোটিশ ছাড়াই কৃষি কর্মকর্তা শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন। নির্ধারিত দিনে বাদীপক্ষের কাজে ব্যস্ত থাকায় শুনানিতে উপস্থিত হতে না পারলেও তারা কৃষি কর্মকর্তার হোয়াটসঅ্যাপে প্রয়োজনীয় প্রমাণ পাঠিয়ে ২৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে নতুন করে শুনানির অনুরোধ জানান।
অভিযোগ রয়েছে, ওই অনুরোধ বিবেচনা না করে আসামিপক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে একতরফাভাবে তদন্ত শেষ করা হয়েছে।
স্থানীয়রা দাবি করেন, রুহুল কুদ্দুছ মাহিন ইউনিয়নের বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। তারা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযোগকারীদের বক্তব্য গ্রহণ এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মোর্শেদ আলমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল হক বলেন, “তদন্ত প্রতিবেদন আমার কাছে জমা দিয়েছে। তবে আমি এখনো নিজে প্রতিবেদনটি দেখিনি। অভিযুক্তকে বাদ দেওয়া হয়েছে কি না, তা বলতে পারছি না। আগামীকাল অফিস সময়ে প্রতিবেদন দেখে বিষয়টি বলতে পারব।”
তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর প্রকৃত ঘটনা আরও স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।





















