সংবাদ শিরোনাম ::
নরসিংদীর রায়পুরায় বিদ্যমান স্থানে ভবন নির্মাণের দাবিতে স্থানীয়দের মানববন্ধন গাছ লাগান, পরিবেশ বাঁচান: চান্দিনায় বৃক্ষরোপণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত অসভ্যতার সব সীমা পার: আইইবিতে পরিবারসহ জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীকে লাঞ্ছনা ও প্রাণনাশের হুমকি, নেপথ্যে ‘হাবলুর গুরুর’ ক্যাডারতন্ত্র! বেনাপোল স্থলবন্দরে তীব্র জনবল সংকট: ৭৯ পদ শূন্য, চরম ব্যাহত আমদানি-রপ্তানি মানবতার দেওয়াল সংগঠনের ৪র্থ বর্ষপূর্তি উপলক্ষে গুণীজন সম্মাননা ও সংবর্ধনা প্রদান মানবতার দেওয়াল সংগঠনের ৪র্থ বর্ষপূর্তি উপলক্ষে গুণীজন সম্মাননা ও সংবর্ধনা প্রদান আইইবিতে জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীকে লাঞ্ছনা ও প্রাণনাশের হুমকি, নেপথ্যে হাবলুর ক্যাডারতন্ত্র আইইবিতে জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীকে লাঞ্ছনা ও হুমকির অভিযোগ গ্রামীণফোনের শ্রমিকদের ১৬ বছরের পাওনা আদায়ে প্রতিবাদ সমাবেশ: ১৫ অগাস্ট প্রেস ক্লাবে গ্রামীণফোনের শ্রমিকদের ১৬ বছরের পাওনা আদায়ে প্রতিবাদ সমাবেশ: ১৫ অগাস্ট প্রেস ক্লাবে

গ্রামীণফোনের শ্রমিকদের ১৬ বছরের পাওনা আদায়ে প্রতিবাদ সমাবেশ: ১৫ অগাস্ট প্রেস ক্লাবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৮:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬ ২৩৪ বার পড়া হয়েছে

গ্রামীণফোনের শ্রমিকদের ১৬ বছরের পাওনা আদায়ে প্রতিবাদ সমাবেশ: ১৫ অগাস্ট প্রেস ক্লাবে কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

 জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে  ‘গ্রামীণফোন ৫% বিলম্ব বকেয়া আদায় ঐক্য পরিষদ’-এর উদ্যোগে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গ্রামীণফোনের শ্রমিকদের দীর্ঘ ১৬ বছরের আইনগত পাওনা পরিশোধ, শ্রমিকদের অর্জিত অধিকার সংরক্ষণ এবং বাংলাদেশ শ্রম আইন বাস্তবায়নের দাবিতে এ সমাবেশ আয়োজন করা হয়।

​সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ১৬ বছর ধরে গ্রামীণফোনের শ্রমিকরা তাদের আইনগত প্রাপ্য পাওনা থেকে বঞ্চিত। বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ২৩৪ ও ২৪০ ধারা অনুযায়ী বিলম্বজনিত আইনগত পাওনার পরিমাণ বর্তমানে প্রত্যেকের প্রায় ৩৩,১৪৭ কোটি টাকা। দীর্ঘদিনের এই জটিল বিরোধের একটি শান্তিপূর্ণ, বাস্তবসম্মত ও মর্যাদাপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে শ্রমিকরা সংলাপের মাধ্যমে প্রস্তাব দিয়েছেন—কর পরিশোধের পর তারা মাত্র ১০ কোটি টাকা গ্রহণ করতে প্রস্তুত। এই সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্র প্রায় ১৩,০০০ কোটি টাকা কর রাজস্ব পাবে এবং ১৬ বছরের বিরোধের স্থায়ী অবসান ঘটবে।

​বক্তারা দুঃখ প্রকাশ করে জানান, টানা ১৯ মাস ধরে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন চললেও কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি। উল্টো আন্দোলনকারী শ্রমিকদের বিরুদ্ধে হয়রানি, মামলা, গ্রেপ্তার, ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে, যা সংবিধান ও শ্রম অধিকারের পরিপন্থী।

​সমাবেশে সাম্প্রতিক রিট পিটিশন নং ৮৪৬৪/২০২৬ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বক্তারা বলেন, এই রিটের মাধ্যমে শ্রম আইন, ২০০৬, মোবাইল ফোন অপারেটরদের Industrial Undertaking-সংক্রান্ত বিধান এবং Workers’ Profit Participation Fund (WPPF) ও Workers’ Welfare Fund (WWF)-সংক্রান্ত আইনি কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে শুধু গ্রামীণফোনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই নন, বরং দেশের বিভিন্ন শিল্পের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সব শ্রমিকের আইনগত অধিকার সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বক্তারা স্মরণ করিয়ে দেন, শ্রম আইন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে নয়, বরং দেশের সমগ্র শ্রমজীবী মানুষের ন্যায়বিচার ও মুনাফায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য প্রণীত।

​সমাবেশ থেকে সরকারের প্রতি জোরালো দাবি জানানো হয়—

  • বিদেশি লভ্যাংশ স্থানান্তরে বিধিনিষেধ: শ্রমিকদের ۵% WPPF/WWF-সংক্রান্ত বকেয়া আইনগত পাওনার ন্যায্য নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গ্রামীণফোন লিমিটেডের বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের বিদেশে মুনাফা বা লভ্যাংশ স্থানান্তরের বিষয় পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
  • অর্থবহ সংলাপ: সরকার, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে আলোচনার মাধ্যমে আইনসম্মত ও স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে হবে।
  • ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন: শ্রম আইনের রিট পিটিশন নং ৮৪৬৪/২০২৬-এর সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে সচেতন থেকে অর্জিত অধিকার রক্ষায় দেশের সকল ট্রেড ইউনিয়ন, শ্রমিক সংগঠন ও শ্রম অধিকারকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে সোচ্চার হতে হবে।

গ্রামীণফোনের শ্রমিকদের ১৬ বছরের পাওনা আদায়ে প্রতিবাদ সমাবেশ: ১৫ অগাস্ট প্রেস ক্লাবে

আপডেট সময় : ০৮:৩৮:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

গ্রামীণফোনের শ্রমিকদের ১৬ বছরের পাওনা আদায়ে প্রতিবাদ সমাবেশ: ১৫ অগাস্ট প্রেস ক্লাবে কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

 জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে  ‘গ্রামীণফোন ৫% বিলম্ব বকেয়া আদায় ঐক্য পরিষদ’-এর উদ্যোগে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গ্রামীণফোনের শ্রমিকদের দীর্ঘ ১৬ বছরের আইনগত পাওনা পরিশোধ, শ্রমিকদের অর্জিত অধিকার সংরক্ষণ এবং বাংলাদেশ শ্রম আইন বাস্তবায়নের দাবিতে এ সমাবেশ আয়োজন করা হয়।

​সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ১৬ বছর ধরে গ্রামীণফোনের শ্রমিকরা তাদের আইনগত প্রাপ্য পাওনা থেকে বঞ্চিত। বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ২৩৪ ও ২৪০ ধারা অনুযায়ী বিলম্বজনিত আইনগত পাওনার পরিমাণ বর্তমানে প্রত্যেকের প্রায় ৩৩,১৪৭ কোটি টাকা। দীর্ঘদিনের এই জটিল বিরোধের একটি শান্তিপূর্ণ, বাস্তবসম্মত ও মর্যাদাপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে শ্রমিকরা সংলাপের মাধ্যমে প্রস্তাব দিয়েছেন—কর পরিশোধের পর তারা মাত্র ১০ কোটি টাকা গ্রহণ করতে প্রস্তুত। এই সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্র প্রায় ১৩,০০০ কোটি টাকা কর রাজস্ব পাবে এবং ১৬ বছরের বিরোধের স্থায়ী অবসান ঘটবে।

​বক্তারা দুঃখ প্রকাশ করে জানান, টানা ১৯ মাস ধরে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন চললেও কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি। উল্টো আন্দোলনকারী শ্রমিকদের বিরুদ্ধে হয়রানি, মামলা, গ্রেপ্তার, ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে, যা সংবিধান ও শ্রম অধিকারের পরিপন্থী।

​সমাবেশে সাম্প্রতিক রিট পিটিশন নং ৮৪৬৪/২০২৬ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বক্তারা বলেন, এই রিটের মাধ্যমে শ্রম আইন, ২০০৬, মোবাইল ফোন অপারেটরদের Industrial Undertaking-সংক্রান্ত বিধান এবং Workers’ Profit Participation Fund (WPPF) ও Workers’ Welfare Fund (WWF)-সংক্রান্ত আইনি কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে শুধু গ্রামীণফোনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই নন, বরং দেশের বিভিন্ন শিল্পের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সব শ্রমিকের আইনগত অধিকার সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বক্তারা স্মরণ করিয়ে দেন, শ্রম আইন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে নয়, বরং দেশের সমগ্র শ্রমজীবী মানুষের ন্যায়বিচার ও মুনাফায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য প্রণীত।

​সমাবেশ থেকে সরকারের প্রতি জোরালো দাবি জানানো হয়—

  • বিদেশি লভ্যাংশ স্থানান্তরে বিধিনিষেধ: শ্রমিকদের ۵% WPPF/WWF-সংক্রান্ত বকেয়া আইনগত পাওনার ন্যায্য নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গ্রামীণফোন লিমিটেডের বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের বিদেশে মুনাফা বা লভ্যাংশ স্থানান্তরের বিষয় পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
  • অর্থবহ সংলাপ: সরকার, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে আলোচনার মাধ্যমে আইনসম্মত ও স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে হবে।
  • ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন: শ্রম আইনের রিট পিটিশন নং ৮৪৬৪/২০২৬-এর সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে সচেতন থেকে অর্জিত অধিকার রক্ষায় দেশের সকল ট্রেড ইউনিয়ন, শ্রমিক সংগঠন ও শ্রম অধিকারকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে সোচ্চার হতে হবে।