যশোরে ২৫০ শয্যা হাসপাতালে মিলবে হৃদরোগের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা, সিসিইউ চালুতে ৩৩ পদ অনুমোদন
- আপডেট সময় : ১২:২৮:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬ ৪৪ বার পড়া হয়েছে
যশোরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পথে আরও এক ধাপ এগিয়েছে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) চালুর উদ্যোগ। সিসিইউ চালু হলে হৃদরোগের উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগীদের আর আগের মতো ঢাকা বা খুলনায় ছুটতে হবে না।
পূর্ণাঙ্গ সিসিইউ প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে রাজস্ব খাতে ৩৩টি পদে জনবল নিয়োগের বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মতি পাওয়া গেছে। গত ১৮ আগস্ট জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সওব্য-১০ শাখা থেকে জারি করা সরকারি স্মারকে এ সম্মতির বিষয়টি জানানো হয়। এর আগে গত ৩ আগস্ট স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল।
সরকারি স্মারক অনুযায়ী, মোট ৩৩টি পদের মধ্যে ২০টি স্থায়ী এবং ১৩টি বছর বছর সংরক্ষণের ভিত্তিতে রাখা হয়েছে। এসব পদে চিকিৎসক, নার্স, কারিগরি ও প্রশাসনিক জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে।
অনুমোদিত জনবলের মধ্যে চিকিৎসক পর্যায়ে রয়েছেন সিনিয়র কনসালটেন্ট (কার্ডিওলজি), সিনিয়র কনসালটেন্ট (অ্যানেসথেসিয়া), জুনিয়র কনসালটেন্ট (কার্ডিওলজি), জুনিয়র কনসালটেন্ট (অ্যানেসথেসিয়া), সহকারী রেজিস্ট্রার, অ্যানেসথেটিস্ট ও মেডিকেল অফিসার।
এ ছাড়া সহকারী ও কারিগরি জনবলের মধ্যে রয়েছে নার্সিং সুপারভাইজার, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট, ফার্মেসি সহকারী, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা ও স্টোর কিপার। দাপ্তরিক ও অভ্যর্থনা কার্যক্রমের জন্য কম্পিউটার অপারেটর, অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, টিকিট ক্লার্ক এবং রিসিপশনিস্ট/অভ্যর্থনাকারী পদও রয়েছে।
সিসিইউ চালুর অগ্রগতির বিষয়টি জানিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত তাঁর ফেসবুক বার্তায় বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ। যশোরে পূর্ণাঙ্গ করোনারি কেয়ার ইউনিট অচিরেই চালু হবে, ইনশাআল্লাহ।”
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত বলেন, এ উদ্যোগ যশোরের স্বাস্থ্যসেবার জন্য একটি মাইলফলক। হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীকে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসার আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি। এতদিন গুরুতর হৃদরোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র স্থানান্তর করতে গিয়ে সময় ও অর্থ—দুটিই ব্যয় হতো। পূর্ণাঙ্গ সিসিইউ চালু হলে যশোরসহ পার্শ্ববর্তী জেলার বিপুলসংখ্যক মানুষ দ্রুত ও উন্নত হৃদরোগ চিকিৎসার সুযোগ পাবেন।
তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মতি পাওয়ার পরও সিসিইউ চালুর আগে আরও কিছু প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এর মধ্যে অর্থ বিভাগের ব্যয় ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগের সম্মতি এবং অনুমোদিত পদগুলোর বেতনস্কেল ভেটিং অন্যতম।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, জনবল নিয়োগ এবং অবকাঠামোগত প্রস্তুতি শেষ করে দ্রুততম সময়ে সিসিইউটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর লক্ষ্যে কাজ চলছে। ইউনিটটি চালু হলে যশোর অঞ্চলের হৃদরোগীদের জরুরি ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
























