পুলিশ কর্মকর্তার ভাইয়ের দাপটে দেবিদ্বারে অবাধে চলছে অবৈধ ড্রেজার, হুমকির মুখে কৃষি জমি ও রাস্তা
- আপডেট সময় : ০৫:৩২:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬ ৪৩ বার পড়া হয়েছে
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তার ভাইয়ের প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ ড্রেজার মেশিন চালিয়ে ফসলি জমি বিনষ্ট করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ক্ষমতার দাপট ও প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার কারণে উপজেলার কৃষক ও সাধারণ মানুষ চরম দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার ১৪ নম্বর সুলতানপুর ও ১৫ নম্বর বরকত ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জাফরাবাদ মনিপুর এলাকার পশ্চিম-উত্তর অংশের কৃষি মাঠ এবং তুলাগাঁও বাজার সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবাধে মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী কৃষক মো. বিল্লাল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “নয়ন মিয়া পুলিশের ভয় দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ড্রেজার চালিয়ে আমাদের ফসলি জমি ধ্বংস করছে। সে এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ার কারণে সাধারণ মানুষ ভয়ে তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার সাহস পাচ্ছে না।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় আরেকজন কৃষক জানান, অভিযুক্ত নয়ন মিয়ার ভাই একজন পুলিশ অফিসার। সেই ক্ষমতার দাপটে সে প্রকাশ্যেই বলে বেড়ায়— “এনসিপিসহ ওপর মহলে তার শক্ত হাত রয়েছে, প্রশাসন তার কিছুই করতে পারবে না।” অভিযোগ রয়েছে, মাঝেমধ্যে স্থানীয় থানা পুলিশ কিংবা কিছু সংবাদকর্মী ঘটনাস্থলে এলেও ড্রেজার মালিকের সাথে দেখা করে চলে যান। পরবর্তীতে আর কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয় না।
এ বিষয়ে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ টিটন মিয়া জানান, মনিপুর খালের পাড় দিয়ে সম্প্রতি একটি নতুন রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু রাস্তার একদম কোল ঘেঁষে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে মাটি কাটার কারণে নবনির্মিত রাস্তাটি এবং স্থানীয় খালটি এখন বিলীন হওয়ার পথে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, কৃষি জমি থেকে এভাবে অবৈধ উপায়ে মাটি উত্তোলনের ফলে জমির উর্বরতা চিরতরে নষ্ট হচ্ছে। একই সাথে খাল-বিল ভরাট হয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য চরম হুমকির মুখে পড়েছে। অথচ ‘বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০’ অনুযায়ী সরকারি অনুমতি ছাড়া কৃষি জমি থেকে মাটি বা বালি উত্তোলন সম্পূর্ণ দণ্ডনীয় অপরাধ।
প্রশাসনের এমন নিরুপায় ভূমিকায় চরম হতাশা প্রকাশ করে এলাকার সর্বস্তরের কৃষক ও সাধারণ মানুষ অবিলম্বে অবৈধ এই ড্রেজার বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। কৃষি জমি ও সরকারি অবকাঠামো রক্ষায় তাঁরা দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
এদিকে, অভিযুক্ত নয়ন মিয়ার সাথে যোগাযোগ করে তাঁর বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে পাওয়া যায়নি।






















