ম্যারিকোর এমডির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে শ্রম আদালতে আবেদন
- আপডেট সময় : ০২:৩৬:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬ ৪৪ বার পড়া হয়েছে
ঢাকার ১ম শ্রম আদালতে ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) ওপর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেছেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক শ্রমিকরা।
শ্রমিকদের আইনগত পাওনা পরিশোধ না করে বিপুল পরিমাণ নগদ লভ্যাংশ বিতরণ এবং ভারতসহ বিদেশে অর্থ ও সম্পদ স্থানান্তরের আশঙ্কায় অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা হিসেবে এ আবেদন করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট, ২০২৬) ঢাকার ১ম শ্রম আদালতে চলমান ‘বিএলএ মামলা নং ৮৬৫/২০২৫’-এর অধীনে এই আবেদন দাখিল করেন বঞ্চিত শ্রমিকরা। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোম্পানির এমডি যেন আদালতের অনুমতি ছাড়া বাংলাদেশ ত্যাগ করতে না পারেন। উল্লেখ্য, ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেডের ৯০ শতাংশ শেয়ারের মালিক ভারতের ‘ম্যারিকো লিমিটেড’ এবং কোম্পানির বর্তমান এমডি একজন ভারতীয় নাগরিক।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০০৬ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত কর্মরত শ্রমিকরা তাদের ‘শ্রমিক মুনাফা অংশগ্রহণ তহবিল’ (WPPF) ও ‘শ্রমিক কল্যাণ তহবিল’-এর ন্যায্য পাওনা থেকে প্রায় ১৮ বছর ধরে বঞ্চিত। পাওনা আদায়ের লক্ষ্যে প্রথমে ২০১৪ সালে ১৯ জন শ্রমিক মামলা (নং ৬৯১/২০১৪) করেন। পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের রিট পিটিশনের কারণে বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হলে, প্রতিকারের আশায় ২০২৫ সালে আরও ৯৪ জন শ্রমিক যৌথভাবে বর্তমান মামলাটি দায়ের করেন।
একটি স্বতন্ত্র চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফার্মের নিরীক্ষা প্রতিবেদনের বরাতে আবেদনকারীরা জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত ৯৪ জন সাবেক শ্রমিকের মূল পাওনা ও মুনাফাসহ মোট দাবির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১,৪৮১ কোটি টাকা।
শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘ দিন ধরে তাদের আইনগত পাওনা আটকে রাখা হলেও কোম্পানিটি রেকর্ড পরিমাণ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে আসছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ম্যারিকো বাংলাদেশ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২০০ শতাংশ, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩,৮৪০ শতাংশ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২,০৭৫ শতাংশ পর্যন্ত নগদ লভ্যাংশ বিতরণ করেছে। বিপুল পরিমাণ এই অর্থ ভারতে স্থানান্তরিত হলে ভবিষ্যতে মামলার রায় শ্রমিকদের পক্ষে গেলেও পাওনা আদায় অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
সার্বিক বিষয়ে ‘এক্স-ম্যারিকোনিয়ান অ্যাসোসিয়েশন’-এর সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, “আমরা আইন অনুযায়ী আমাদের ন্যায্য পাওনা ও দীর্ঘদিনের বিরোধের ন্যায়সঙ্গত নিষ্পত্তি চাই। শ্রমিকদের পাওনা অনাদায়ী রেখে শত শত কোটি টাকা লভ্যাংশ হিসেবে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি আদালতের যথাযথ পর্যালোচনা ও জবাবদিহির আওতায় আসা জরুরি।”
আবেদনকারী শ্রমিকদের আইনজীবী জানান, ব্যক্তির স্বাধীন চলাচলে বাধা দেওয়া তাদের উদ্দেশ্য নয়; বরং দুই দশক ধরে চলা এই দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর আদালতের সম্ভাব্য রায় কার্যকর রাখা এবং শ্রমিকদের পাওনার সুরক্ষার্থেই এই অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ চাওয়া হয়েছে।























