সংবাদ শিরোনাম ::
কলকাতায় অগ্নিকাণ্ড: সাংবাদিক দেবাশীষসহ ৫ বাংলাদেশির মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর এনসিপি নেতা ও এসপির নির্দেশে দুই আ.লীগ নেতা মুক্ত এনসিপি নেতা ও এসপির নির্দেশে ছাড়া পেলেন দেবিদ্বারের ইউপি সদস্যসহ দুই আওয়ামী লীগ নেতা এনসিপি নেতা ও এসপির নির্দেশে ছাড়া পেলেন দেবিদ্বারের ইউপি সদস্যসহ দুই আওয়ামী লীগ নেতা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী পার্থকে dailydinlipi24 com-এর অভিনন্দন পলাশ হত্যার বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন, আসামিদের বিরুদ্ধে হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ বেনাপোলে ২৩ আগস্ট বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা শিবির, ছানিপড়া রোগীদের বিনামূল্যে অপারেশন বেনাপোলে স্বজনদের অপেক্ষা, কলকাতায় আগুনে নিহতদের মরদেহ ফেরার অপেক্ষায় বীরগঞ্জে স্কুলের মূল্যবান গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ, প্রধান শিক্ষকের শাস্তি দাবি কুমিল্লা পেশাজীবী সাংবাদিক সোসাইটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

গ্রামীণফোন শ্রমিকদের ১৬ বছরের আইনগত পাওনা পরিশোধের দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১১:৩৯:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬ ৯২ বার পড়া হয়েছে

oplus_0

গ্রামীণফোন শ্রমিকদের ১৬ বছরের আইনগত পাওনা পরিশোধের দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবে প্রতিবাদ সমাবেশ

 

গ্রামীণফোনের শ্রমিকদের ১৬ বছরের আইনগত পাওনা পরিশোধ, শ্রমিকদের অর্জিত অধিকার সংরক্ষণ এবং বাংলাদেশ শ্রম আইন বাস্তবায়নের দাবিতে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

শনিবার (১ আগস্ট) সকাল ১১টায় গ্রামীণফোন ৫% বিলম্ব বকেয়া আদায় ঐক্য পরিষদ-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, গ্রামীণফোনের শ্রমিকরা দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে তাদের আইনগতভাবে প্রাপ্য পাওনা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।
সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী বিলম্বজনিত আইনগত পাওনার পরিমাণ বর্তমানে প্রত্যেক শ্রমিকের ক্ষেত্রে প্রায় ৩৩.১৪৭ কোটি টাকা। তারা বলেন, দীর্ঘদিনের এই বিরোধের একটি শান্তিপূর্ণ, বাস্তবসম্মত ও মর্যাদাপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে সংলাপের মাধ্যমে নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়ে কর পরিশোধের পর মাত্র ১০ কোটি টাকা গ্রহণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, এ ধরনের সমঝোতার মাধ্যমে রাষ্ট্র প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা কর রাজস্ব অর্জন করতে পারে।

 

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, টানা ১৯ মাস ধরে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন পরিচালনা করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি। বরং আন্দোলনকারী শ্রমিকদের বিরুদ্ধে হয়রানি, মামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে।

 

সমাবেশে রিট পিটিশন নং ৮০৬৫/২০২৬ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বক্তাদের মতে, উক্ত রিটের ফলে বাংলাদেশ শ্রম আইন, মোবাইল ফোন অপারেটরদের শিল্প-প্রতিষ্ঠান (Industrial Undertaking) সংক্রান্ত বিধান এবং Workers’ Profit Participation Fund (WPPF) ও Workers’ Welfare Fund (WWF)-সম্পর্কিত বিদ্যমান আইনি কাঠামোর ওপর প্রভাব পড়তে পারে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এ বিষয়ে কোনো পরিবর্তন বা সীমাবদ্ধতা সৃষ্টি হলে তা শুধু গ্রামীণফোনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নয়, দেশের অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের অর্জিত অধিকারকেও প্রভাবিত করতে পারে।

 

সমাবেশ থেকে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়, গ্রামীণফোনের শ্রমিকদের ৫% WPPF/WWF-সংক্রান্ত বিলম্বজনিত আইনগত পাওনার ন্যায্য ও আইনসম্মত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোম্পানির বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের কাছে মুনাফা বা লভ্যাংশ স্থানান্তরের বিষয়টি প্রচলিত আইন ও প্রযোজ্য নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আলোকে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

 

এ ছাড়া দেশের সকল শিল্প ও প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারী, ট্রেড ইউনিয়ন, শ্রমিক সংগঠন এবং শ্রম অধিকারকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা বলেন, শ্রমিকদের অর্জিত আইনগত অধিকার কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের বিষয় নয়; এটি দেশের সমগ্র শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার।

 

সমাবেশ থেকে সরকার, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের প্রতি অবিলম্বে অর্থবহ সংলাপের মাধ্যমে একটি ন্যায়সঙ্গত, আইনসম্মত ও স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানোর আহ্বান জানানো হয়।

 

গ্রামীণফোন শ্রমিকদের ১৬ বছরের আইনগত পাওনা পরিশোধের দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ

আপডেট সময় : ১১:৩৯:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

গ্রামীণফোন শ্রমিকদের ১৬ বছরের আইনগত পাওনা পরিশোধের দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবে প্রতিবাদ সমাবেশ

 

গ্রামীণফোনের শ্রমিকদের ১৬ বছরের আইনগত পাওনা পরিশোধ, শ্রমিকদের অর্জিত অধিকার সংরক্ষণ এবং বাংলাদেশ শ্রম আইন বাস্তবায়নের দাবিতে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

শনিবার (১ আগস্ট) সকাল ১১টায় গ্রামীণফোন ৫% বিলম্ব বকেয়া আদায় ঐক্য পরিষদ-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, গ্রামীণফোনের শ্রমিকরা দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে তাদের আইনগতভাবে প্রাপ্য পাওনা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।
সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী বিলম্বজনিত আইনগত পাওনার পরিমাণ বর্তমানে প্রত্যেক শ্রমিকের ক্ষেত্রে প্রায় ৩৩.১৪৭ কোটি টাকা। তারা বলেন, দীর্ঘদিনের এই বিরোধের একটি শান্তিপূর্ণ, বাস্তবসম্মত ও মর্যাদাপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে সংলাপের মাধ্যমে নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়ে কর পরিশোধের পর মাত্র ১০ কোটি টাকা গ্রহণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, এ ধরনের সমঝোতার মাধ্যমে রাষ্ট্র প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা কর রাজস্ব অর্জন করতে পারে।

 

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, টানা ১৯ মাস ধরে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন পরিচালনা করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি। বরং আন্দোলনকারী শ্রমিকদের বিরুদ্ধে হয়রানি, মামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে।

 

সমাবেশে রিট পিটিশন নং ৮০৬৫/২০২৬ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বক্তাদের মতে, উক্ত রিটের ফলে বাংলাদেশ শ্রম আইন, মোবাইল ফোন অপারেটরদের শিল্প-প্রতিষ্ঠান (Industrial Undertaking) সংক্রান্ত বিধান এবং Workers’ Profit Participation Fund (WPPF) ও Workers’ Welfare Fund (WWF)-সম্পর্কিত বিদ্যমান আইনি কাঠামোর ওপর প্রভাব পড়তে পারে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এ বিষয়ে কোনো পরিবর্তন বা সীমাবদ্ধতা সৃষ্টি হলে তা শুধু গ্রামীণফোনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নয়, দেশের অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের অর্জিত অধিকারকেও প্রভাবিত করতে পারে।

 

সমাবেশ থেকে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়, গ্রামীণফোনের শ্রমিকদের ৫% WPPF/WWF-সংক্রান্ত বিলম্বজনিত আইনগত পাওনার ন্যায্য ও আইনসম্মত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোম্পানির বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের কাছে মুনাফা বা লভ্যাংশ স্থানান্তরের বিষয়টি প্রচলিত আইন ও প্রযোজ্য নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আলোকে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

 

এ ছাড়া দেশের সকল শিল্প ও প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারী, ট্রেড ইউনিয়ন, শ্রমিক সংগঠন এবং শ্রম অধিকারকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা বলেন, শ্রমিকদের অর্জিত আইনগত অধিকার কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের বিষয় নয়; এটি দেশের সমগ্র শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার।

 

সমাবেশ থেকে সরকার, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের প্রতি অবিলম্বে অর্থবহ সংলাপের মাধ্যমে একটি ন্যায়সঙ্গত, আইনসম্মত ও স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানোর আহ্বান জানানো হয়।