সংবাদ শিরোনাম ::
দাউদকান্দিতে ৩৫ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১, মাইক্রোবাস জব্দ স্বপন-জন্টু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট স্ট্যান্ডে ৩০০ সিগারেটে কাটা হয় একটি গাছ, মমতাজ বেগম বিশ্ববিদ্যালয়ে তামাকবিরোধী সেমিনার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান হিসেবে আলমগীর হোসেন প্রধানকে চান এলাকাবাসী এক পলকের কাব্য: প্রবর্তক শিহাব রিফাত আলম ‘এক পলকের কাব্য’ নিয়ে জাগ্রত সাহিত্য পরিষদের বর্ণাঢ্য সাহিত্য উৎসব অনুষ্ঠিত সুরের মোহনায় মুগ্ধতা, কণ্ঠশিল্পী মিরাজ কে ঘিরে জমকালো আয়োজন ন্যায্য পাওনার দাবিতে বিডা কার্যালয়ে স্মারকলিপি দিলেন গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মকর্তারা প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে ১৪তম FACD-CAB আন্তর্জাতিক শিক্ষা এক্সপো আয়োজনে খান আক্তারুজ্জামান দেবিদ্বারে ভ্রাম্যমাণ আদালত: ২টি অবৈধ ড্রেজার বিনষ্ট, মাদক সেবনের দায়ে যুবকের কারাদণ্ড

স্বপন-জন্টু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট স্ট্যান্ডে

জহির মারুফ, কুমিল্লা
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৯:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬ ২৫ বার পড়া হয়েছে

কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট স্ট্যান্ডে সুপার জিএল ও নাভানা গাড়ি থেকে অবৈধ চাঁদা আদায়ের অভিযোগ, স্বপন-জন্টু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযোগ

কুমিল্লার ক্যান্টনমেন্ট স্ট্যান্ড থেকে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড রুটে চলাচলকারী সুপার জিএল ও নাভানা গাড়ি থেকে ‘জিপি’ ও লাইন ব্যবস্থাপনার নামে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে স্বপন, জন্টু, হোসেন, সাগর ও জসিমের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে অর্থ আদায় করছে বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক চালক ও পরিবহন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিটি সুপার জিএল ও নাভানা গাড়ি থেকে প্রতিদিন ১২০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। চালকদের দাবি, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে স্ট্যান্ডে গাড়ি চালানো, যাত্রী তোলা বা সিরিয়াল পাওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের বাধার মুখে পড়তে হয়।

 

স্থানীয় সূত্রের দাবি, ক্যান্টনমেন্ট এলাকার স্বপন, হোসেন, জসিমসহ আরও কয়েকজন এবং স্বপনের ভাগিনা সাগর দীর্ঘদিন ধরে এই অর্থ সংগ্রহের সঙ্গে জড়িত। অভিযোগকারীরা দাবি করেন, স্ট্যান্ড থেকে আদায়কৃত অর্থের বড় অংশ স্বপনের মাধ্যমে ভাগ-বাটোয়ারা করা হয়।

 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে স্বপন সাংবাদিকদের বলেন, “আমার জানামতে প্রায় ৫০টি গাড়ি থেকে ৪০ টাকা করে নেওয়া হয় প্রতিদিন। কিন্তু কারা টাকা নেয়, সেটাও আমি জানি না।”

 

চালকদের ভাষ্য, এ রুটে প্রতিদিন শতাধিক সুপার জিএল ও নাভানা গাড়ি চলাচল করে। সে হিসাবে প্রতিদিন প্রায় ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা এবং মাসে প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার থেকে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় হতে পারে বলে তাদের অভিযোগ।

এছাড়া কয়েকজন চালক অভিযোগ করেন, স্ট্যান্ড পরিচালনার নামে প্রতিদিন চালকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। এর পাশাপাশি ‘পুলিশ ডিউটির’ কথা বলে ১,০০০ থেকে ১,৫০০ টাকা পর্যন্ত জমা দিতে হয় বলেও তাদের দাবি। নতুন কোনো গাড়ি স্ট্যান্ডে প্রবেশ করলে ৪,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এ সড়কে চলাচলকারী অনেক সুপার জিএল ও নাভানা গাড়ি ফিটনেসবিহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চলাচল করছে। অনেক চালকের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় যাত্রী নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল ইসলাম বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে অভিযোগের বিষয়টি আমার জানা ছিল না।”
অন্যদিকে ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে থানার ওসি বলেন, মহাসড়কে এ ধরনের যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ এবং সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবহন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অবৈধ চাঁদাবাজি, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের চলাচল এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

 

স্বপন-জন্টু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট স্ট্যান্ডে

আপডেট সময় : ০৫:৫৯:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট স্ট্যান্ডে সুপার জিএল ও নাভানা গাড়ি থেকে অবৈধ চাঁদা আদায়ের অভিযোগ, স্বপন-জন্টু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযোগ

কুমিল্লার ক্যান্টনমেন্ট স্ট্যান্ড থেকে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড রুটে চলাচলকারী সুপার জিএল ও নাভানা গাড়ি থেকে ‘জিপি’ ও লাইন ব্যবস্থাপনার নামে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে স্বপন, জন্টু, হোসেন, সাগর ও জসিমের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে অর্থ আদায় করছে বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক চালক ও পরিবহন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিটি সুপার জিএল ও নাভানা গাড়ি থেকে প্রতিদিন ১২০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। চালকদের দাবি, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে স্ট্যান্ডে গাড়ি চালানো, যাত্রী তোলা বা সিরিয়াল পাওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের বাধার মুখে পড়তে হয়।

 

স্থানীয় সূত্রের দাবি, ক্যান্টনমেন্ট এলাকার স্বপন, হোসেন, জসিমসহ আরও কয়েকজন এবং স্বপনের ভাগিনা সাগর দীর্ঘদিন ধরে এই অর্থ সংগ্রহের সঙ্গে জড়িত। অভিযোগকারীরা দাবি করেন, স্ট্যান্ড থেকে আদায়কৃত অর্থের বড় অংশ স্বপনের মাধ্যমে ভাগ-বাটোয়ারা করা হয়।

 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে স্বপন সাংবাদিকদের বলেন, “আমার জানামতে প্রায় ৫০টি গাড়ি থেকে ৪০ টাকা করে নেওয়া হয় প্রতিদিন। কিন্তু কারা টাকা নেয়, সেটাও আমি জানি না।”

 

চালকদের ভাষ্য, এ রুটে প্রতিদিন শতাধিক সুপার জিএল ও নাভানা গাড়ি চলাচল করে। সে হিসাবে প্রতিদিন প্রায় ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা এবং মাসে প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার থেকে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় হতে পারে বলে তাদের অভিযোগ।

এছাড়া কয়েকজন চালক অভিযোগ করেন, স্ট্যান্ড পরিচালনার নামে প্রতিদিন চালকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। এর পাশাপাশি ‘পুলিশ ডিউটির’ কথা বলে ১,০০০ থেকে ১,৫০০ টাকা পর্যন্ত জমা দিতে হয় বলেও তাদের দাবি। নতুন কোনো গাড়ি স্ট্যান্ডে প্রবেশ করলে ৪,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এ সড়কে চলাচলকারী অনেক সুপার জিএল ও নাভানা গাড়ি ফিটনেসবিহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চলাচল করছে। অনেক চালকের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় যাত্রী নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল ইসলাম বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে অভিযোগের বিষয়টি আমার জানা ছিল না।”
অন্যদিকে ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে থানার ওসি বলেন, মহাসড়কে এ ধরনের যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ এবং সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবহন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অবৈধ চাঁদাবাজি, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের চলাচল এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।