নরসিংদীর রায়পুরায় বিদ্যমান স্থানে ভবন নির্মাণের দাবিতে স্থানীয়দের মানববন্ধন
- আপডেট সময় : ১২:৪৪:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬ ২৫ বার পড়া হয়েছে
মির্জানগর ইউপি কমপ্লেক্স নির্মাণে স্থান পরিবর্তন নিয়ে বিতর্ক, হাইকোর্টের রুল
নরসিংদীর রায়পুরায় বিদ্যমান স্থানে ভবন নির্মাণের দাবি স্থানীয়দের
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের স্থান পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও জমিদাতাদের অভিযোগ, সরকারি নীতিমালা ও প্রশাসনের পূর্ববর্তী সুপারিশ উপেক্ষা করে ইউনিয়নের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত বর্তমান পরিষদ ভবনের পরিবর্তে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে বাঙ্গালীনগর মৌজায় নতুন স্থানে কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এ ঘটনায় হাইকোর্টে রিট করা হলে আদালত কেন প্রস্তাবিত স্থানে ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স নির্মাণকে অবৈধ ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন। সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রিটকারীর আইনজীবী।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নথি অনুযায়ী, ১৯৬৪ সালের ২৮ মে উত্তর মির্জানগর মৌজার সাবেক ১৫৫৩ নম্বর দাগে ইয়াকুব আলী ১০ শতাংশ জমি ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের জন্য দান করেন। পরবর্তীতে ওই জমিতে সরকার একতলা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণ করে।
দীর্ঘদিন ধরে সেখান থেকেই ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় নতুন কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি পরিপত্র অনুযায়ী বিদ্যমান ভবনের সংলগ্ন প্রায় ০.৫০ একর জমিও ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য দান করা হয়েছে। ২০০৭ সালে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম আলম দুটি সম্ভাব্য স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করে বিদ্যমান স্থানটিকেই উপযুক্ত হিসেবে সুপারিশ করেন। একই সময়ে উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ারও বিদ্যমান জমিকে নিষ্কণ্টক হিসেবে প্রত্যয়ন করেন।
এ ছাড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নথি অনুযায়ী, তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ জয়নুল বারী উভয় স্থান পরিদর্শন করে সরকারি নীতিমালা অনুসারে বিদ্যমান স্থানটিকে অগ্রাধিকারযোগ্য বলে মতামত দেন। পরে ২০০৮ সালের ২৭ মার্চ তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. জিল্লার রহমান স্থানীয় সরকার বিভাগে বিদ্যমান স্থানে কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের সুপারিশসহ প্রস্তাব পাঠান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব প্রশাসনিক সুপারিশ থাকা সত্ত্বেও ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য বাঙ্গালীনগর মৌজায় নতুন স্থান নির্ধারণের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তাদের দাবি, প্রস্তাবিত স্থানটি ইউনিয়নের কেন্দ্রস্থল থেকে দূরে এবং স্থানীয় জনগণের জন্য তুলনামূলকভাবে অসুবিধাজনক।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, রায়পুরা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান মো. বশির উদ্দিন রিপন ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য তার বাসার কাছাকাছি এলাকায় পরিষদ ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে চেয়ারম্যানের বক্তব্যও নেওয়া হয়েছে।
রিটকারী ও জমিদাতা আজিজুল হক বলেন, মির্জানগর ইউনিয়নের কেন্দ্রস্থলে দীর্ঘদিন ধরে বর্তমান পরিষদ ভবনটি জনগণের সেবাকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তার পরিবারের পক্ষ থেকেও ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের জন্য জমি দেওয়া হয়েছে। তাই বিদ্যমান স্থানেই নতুন কমপ্লেক্স নির্মাণ করা উচিত।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইউপি চেয়ারম্যান নিজের বাসাকে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এ বিষয়ে গত ডিসেম্বরে তিনি হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন বলে জানান।
রিটকারীর আইনজীবী কে এম সামসাদ বলেন, গত ২৭ জুলাই হাইকোর্ট এ বিষয়ে রুল জারি করেছেন। প্রস্তাবিত অন্য স্থানে ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স নির্মাণ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে ইউপি চেয়ারম্যান মো. বশির উদ্দিন রিপন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আইন অনুযায়ী চেয়ারম্যান ইউনিয়নের যেকোনো জায়গা থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন। নিজের বাসা থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করা অপরাধ নয় বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে গত ৩০ জুলাই বিদ্যমান স্থানে ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স নির্মাণের দাবিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হামলার অভিযোগও উঠেছে চেয়ারম্যান ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও জমিদাতাদের দাবি, সরকারি নীতিমালা, পূর্ববর্তী প্রশাসনিক সুপারিশ এবং জনগণের দীর্ঘদিনের ব্যবহার বিবেচনায় নিয়ে স্থান পরিবর্তন না করে মির্জানগর ইউনিয়নের বর্তমান পরিষদ ভবনের স্থানেই নতুন কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হোক।






















