গ্রামীণফোন হাউসের সামনে সাবেক শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সমাবেশ
- আপডেট সময় : ০১:১০:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬ ৫০ বার পড়া হয়েছে
১৬ বছরের ৫% বিলম্বজনিত পাওনা দ্রুত পরিশোধের দাবি, গ্রামীণফোন হাউসের সামনে সাবেক শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সমাবেশ
গ্রামীণফোনের সাবেক শ্রমিকদের দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে অনিষ্পন্ন ৫% বিলম্বজনিত আইনগত পাওনা দ্রুত পরিশোধ, শ্রমিকদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত এবং দীর্ঘদিনের বিরোধের শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত সমাধানের দাবিতে আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টায় ঢাকার গ্রামীণফোন হাউসের সামনে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সমাবেশে গ্রামীণফোনের সাবেক শ্রমিকরা ও আন্দোলনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা দীর্ঘদিন ধরে অনিষ্পন্ন ৫% বিলম্বজনিত পাওনার বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ দাবি করেন।
“১৬ বছর পেরিয়ে গেছে—আর কোনো বিলম্ব নয়”
সমাবেশে বক্তারা বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে একটি আইনগত পাওনা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা সংশ্লিষ্ট শ্রমিক ও তাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও অনিশ্চয়তাপূর্ণ। তারা বলেন, এই দীর্ঘসূত্রতার অবসান ঘটিয়ে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত একটি ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো এখন সময়ের দাবি।
বক্তারা বলেন—
“আমরা কোনো সংঘাত চাই না, আমরা ন্যায্য সমাধান চাই। আমরা অনুগ্রহ চাই না—আমরা আমাদের আইনগত অধিকার চাই।”
শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি
সমাবেশ থেকে আন্দোলনকারীদের বিভিন্ন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা, পুলিশি হস্তক্ষেপ এবং হয়রানিমূলক মামলা সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
বক্তারা বলেন, শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত পদ্ধতিতে তাদের ন্যায্য দাবি তুলে ধরছেন। তাই তাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশ, মতপ্রকাশ ও প্রতিবাদের অধিকার যেন কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
তারা আরও বলেন, কোনো শ্রমিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়ে থাকলে তার আইনগত ভিত্তি ও প্রেক্ষাপট নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করা উচিত এবং হয়রানির উদ্দেশ্যে কোনো মামলা হয়ে থাকলে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান
সমাবেশ থেকে গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিনের এই বিরোধকে আর দীর্ঘায়িত না করে সাবেক শ্রমিকদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অর্থবহ ও ফলপ্রসূ আলোচনায় বসতে হবে।
তারা বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানের টেকসই সাফল্য কেবল আর্থিক অর্জনের ওপর নির্ভর করে না; প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করা কর্মীদের আইনগত অধিকার, মর্যাদা ও ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করাও কর্পোরেট দায়বদ্ধতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
দ্রুত, শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত সমাধানের আহ্বান
আন্দোলনকারীরা পুনর্ব্যক্ত করেন যে তাদের কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত এবং তারা কোনো ধরনের সংঘাত বা বিশৃঙ্খলা চান না। তারা সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সমাবেশ থেকে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের প্রতি ১৬ বছর ধরে অনিষ্পন্ন ৫% বিলম্বজনিত পাওনা নিষ্পত্তিতে কার্যকর হস্তক্ষেপ, শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা এবং বিষয়টির দ্রুত সমাধানে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করার দাবি জানানো হয়।
বক্তারা বলেন—
“১৬ বছর পেরিয়ে গেছে—আর অপেক্ষা নয়।
৫% আইনগত পাওনার দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত সমাধান চাই।”
আন্দোলনকারীরা জানান, তারা শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত পদ্ধতিতে তাদের দাবি আদায়ের আন্দোলন অব্যাহত রাখবেন এবং একই সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের পথ খোলা রাখতে প্রস্তুত রয়েছেন।
























