সংবাদ শিরোনাম ::
আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ বশির উদ্দিনের আর্থিক সহায়তা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাক্ষাৎ চাওয়ার আবেদন অগ্রণী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পুনরায় চালুর দাবি যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ আইন প্রণয়নের দাবি বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের চীনে নেওয়ার কথা বলে ভারতে, চার বছর কারাভোগের পর দেশে ফিরলেন জামালপুরের সিরাজুল বেনাপোলে হেরোইন মামলায় মাদক ব্যবসায়ী মহাসিনের যাবজ্জীবন যশোরে অবৈধ অটোরিকশা-ইজিবাইক বন্ধে আজ থেকে মাইকিং, আগামী সপ্তাহে অভিযান দিনাজপুরের বীরগঞ্জে ৪ হাজার ৬৪০ পিস ট্যাপেন্টাডলসহ নারী আটক হেফাজতের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ নোয়াখালীতে হেযবুত তওহীদের সংবাদ সম্মেলন বিলম্বজনিত পাওনা দ্রুত পরিশোধের দাবি গ্রামীণফোন হাউসের সামনে সাবেক শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সমাবেশ গ্রামীণফোন হাউসের সামনে সাবেক শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সমাবেশ

যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ আইন প্রণয়নের দাবি বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১১:৩৮:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬ ২৮ বার পড়া হয়েছে

oplus_0

যৌন  হয়রানি ও নিপীড়ন প্রতিরোধে দ্রুত আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের অনুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

 

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ২০০২ সাল থেকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে এবং দেশব্যাপী আন্দোলন গড়ে তোলা হয়েছে।

 

বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৯ সালের ১৪ মে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন প্রতিরোধে অভিযোগ কমিটি গঠন, কার্যক্রম পরিচালনা এবং এ বিষয়ে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা দেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

 

মহিলা পরিষদ জানায়, হাইকোর্ট বিভাগের ওই রায়ের পর সংগঠনটি যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ আইনের খসড়া প্রণয়ন এবং আইনটি বাস্তবায়নের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে। ২০১০ সালে সংগঠনের আইন সংস্কার বিষয়ক বিশেষজ্ঞ কমিটির সভার মাধ্যমে আইনের খসড়া প্রস্তাবনা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইন কমিশনের কাছেও খসড়া প্রস্তাবনা জমা দেওয়া হয়।

 

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ২০০৯ সালের হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের পর থেকে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ একক ও যৌথভাবে যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ আইন প্রণয়নের দাবিতে আন্দোলন, অ্যাডভোকেসি ও লবিং করে আসছে। বিভিন্ন নারী ও মানবাধিকার সংগঠনও এ দাবিতে সভা, প্রচার ও জনমত গঠনের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

 

মহিলা পরিষদের মতে, নারী ও মেয়ে শিশুরা ক্রমাগত যৌন হয়রানি ও উত্ত্যক্তকরণের শিকার হচ্ছে। এসব ঘটনা দিন দিন ভয়াবহ মাত্রা ধারণ করলেও তা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশনার পরও আইনটি প্রণীত না হওয়া সহিংসতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনার ইতিবাচক বার্তা বহন করছে না।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে অংশীজনদের অংশগ্রহণে ২০২৪ সালের ১ ও ২০ অক্টোবর কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও সুরক্ষা আইনের খসড়া প্রস্তাবনা চূড়ান্তকরণের লক্ষ্যে সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

এছাড়া ২০২৬ সালের ২৯ জানুয়ারি ‘যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়া উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।

 

বর্তমানে খসড়া আইনটি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক পর্যালোচনার পর পুনরায় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে নারী আন্দোলনের পক্ষ থেকে যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন প্রতিরোধে দ্রুত আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১০ ধারায় বর্ণিত উত্ত্যক্তকরণ, যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের সংজ্ঞা হালনাগাদ এবং দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর সংশ্লিষ্ট ধারাসমূহ হালনাগাদের দাবি জানানো হয়।
এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন প্রতিরোধে অভিযোগ কমিটি গঠন ও কার্যক্রম মনিটরিং, উত্ত্যক্তকরণ ও যৌন হয়রানি শাস্তিযোগ্য অপরাধ—এ বিষয়ে ব্যাপক প্রচারণা, পাঠ্যসূচিতে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও নারী নির্যাতনবিরোধী বিষয় অন্তর্ভুক্তি এবং রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে ছেলে-মেয়েদের সচেতন করার সুপারিশ করা হয়।

 

একই সঙ্গে যৌন হয়রানি ও উত্ত্যক্তকরণ প্রতিরোধে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও তৎপর হওয়ার পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদেরও এসব ঘটনা প্রতিরোধে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।

 

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম এবং সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ আইন জাতীয় সংসদে পাস ও বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তারা বলেন, এই আইনের মাধ্যমে রাষ্ট্র নারী ও শিশুদের যৌন হয়রানি ও উত্ত্যক্তকরণের হাত থেকে সুরক্ষা দিতে পারবে এবং যৌন সহিংসতামুক্ত পরিবার ও সমাজ গঠনে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 

সংগঠনটি নারী ও মেয়ে শিশুর প্রতি উত্ত্যক্তকরণ, যৌন হয়রানি, নিপীড়ন, নিষ্ঠুরতা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে দেশব্যাপী ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানায়।

যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ আইন প্রণয়নের দাবি বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের

আপডেট সময় : ১১:৩৮:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

যৌন  হয়রানি ও নিপীড়ন প্রতিরোধে দ্রুত আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের অনুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

 

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ২০০২ সাল থেকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে এবং দেশব্যাপী আন্দোলন গড়ে তোলা হয়েছে।

 

বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৯ সালের ১৪ মে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন প্রতিরোধে অভিযোগ কমিটি গঠন, কার্যক্রম পরিচালনা এবং এ বিষয়ে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা দেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

 

মহিলা পরিষদ জানায়, হাইকোর্ট বিভাগের ওই রায়ের পর সংগঠনটি যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ আইনের খসড়া প্রণয়ন এবং আইনটি বাস্তবায়নের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে। ২০১০ সালে সংগঠনের আইন সংস্কার বিষয়ক বিশেষজ্ঞ কমিটির সভার মাধ্যমে আইনের খসড়া প্রস্তাবনা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইন কমিশনের কাছেও খসড়া প্রস্তাবনা জমা দেওয়া হয়।

 

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ২০০৯ সালের হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের পর থেকে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ একক ও যৌথভাবে যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ আইন প্রণয়নের দাবিতে আন্দোলন, অ্যাডভোকেসি ও লবিং করে আসছে। বিভিন্ন নারী ও মানবাধিকার সংগঠনও এ দাবিতে সভা, প্রচার ও জনমত গঠনের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

 

মহিলা পরিষদের মতে, নারী ও মেয়ে শিশুরা ক্রমাগত যৌন হয়রানি ও উত্ত্যক্তকরণের শিকার হচ্ছে। এসব ঘটনা দিন দিন ভয়াবহ মাত্রা ধারণ করলেও তা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশনার পরও আইনটি প্রণীত না হওয়া সহিংসতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনার ইতিবাচক বার্তা বহন করছে না।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে অংশীজনদের অংশগ্রহণে ২০২৪ সালের ১ ও ২০ অক্টোবর কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও সুরক্ষা আইনের খসড়া প্রস্তাবনা চূড়ান্তকরণের লক্ষ্যে সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

এছাড়া ২০২৬ সালের ২৯ জানুয়ারি ‘যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়া উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।

 

বর্তমানে খসড়া আইনটি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক পর্যালোচনার পর পুনরায় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে নারী আন্দোলনের পক্ষ থেকে যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন প্রতিরোধে দ্রুত আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১০ ধারায় বর্ণিত উত্ত্যক্তকরণ, যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের সংজ্ঞা হালনাগাদ এবং দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর সংশ্লিষ্ট ধারাসমূহ হালনাগাদের দাবি জানানো হয়।
এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন প্রতিরোধে অভিযোগ কমিটি গঠন ও কার্যক্রম মনিটরিং, উত্ত্যক্তকরণ ও যৌন হয়রানি শাস্তিযোগ্য অপরাধ—এ বিষয়ে ব্যাপক প্রচারণা, পাঠ্যসূচিতে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও নারী নির্যাতনবিরোধী বিষয় অন্তর্ভুক্তি এবং রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে ছেলে-মেয়েদের সচেতন করার সুপারিশ করা হয়।

 

একই সঙ্গে যৌন হয়রানি ও উত্ত্যক্তকরণ প্রতিরোধে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও তৎপর হওয়ার পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদেরও এসব ঘটনা প্রতিরোধে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।

 

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম এবং সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ আইন জাতীয় সংসদে পাস ও বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তারা বলেন, এই আইনের মাধ্যমে রাষ্ট্র নারী ও শিশুদের যৌন হয়রানি ও উত্ত্যক্তকরণের হাত থেকে সুরক্ষা দিতে পারবে এবং যৌন সহিংসতামুক্ত পরিবার ও সমাজ গঠনে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 

সংগঠনটি নারী ও মেয়ে শিশুর প্রতি উত্ত্যক্তকরণ, যৌন হয়রানি, নিপীড়ন, নিষ্ঠুরতা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে দেশব্যাপী ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানায়।