সংবাদ শিরোনাম ::
কলকাতায় অগ্নিকাণ্ড: সাংবাদিক দেবাশীষসহ ৫ বাংলাদেশির মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর এনসিপি নেতা ও এসপির নির্দেশে দুই আ.লীগ নেতা মুক্ত এনসিপি নেতা ও এসপির নির্দেশে ছাড়া পেলেন দেবিদ্বারের ইউপি সদস্যসহ দুই আওয়ামী লীগ নেতা এনসিপি নেতা ও এসপির নির্দেশে ছাড়া পেলেন দেবিদ্বারের ইউপি সদস্যসহ দুই আওয়ামী লীগ নেতা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী পার্থকে dailydinlipi24 com-এর অভিনন্দন পলাশ হত্যার বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন, আসামিদের বিরুদ্ধে হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ বেনাপোলে ২৩ আগস্ট বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা শিবির, ছানিপড়া রোগীদের বিনামূল্যে অপারেশন বেনাপোলে স্বজনদের অপেক্ষা, কলকাতায় আগুনে নিহতদের মরদেহ ফেরার অপেক্ষায় বীরগঞ্জে স্কুলের মূল্যবান গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ, প্রধান শিক্ষকের শাস্তি দাবি কুমিল্লা পেশাজীবী সাংবাদিক সোসাইটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

পলাশ হত্যার বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন, আসামিদের বিরুদ্ধে হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১২:৩৩:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬ ৩৫ বার পড়া হয়েছে

পলাশ হত্যার বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন, আসামিদের বিরুদ্ধে হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ

 

রাজধানীর পশ্চিম রামপুরায় ছেলে ইয়াসিন খান পলাশ হত্যার বিচার, আসামিদের গ্রেপ্তার এবং নিজের ও স্বজনদের নিরাপত্তার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহতের মা মোসা. আমেনা বেগম।

 

সংবাদ সম্মেলনে মোসা. আমেনা বেগম বলেন, তিনি মো. ইউনুস খানের স্ত্রী এবং ৪৬০ ডিআইটি রোড, পশ্চিম রামপুরা, থানা হাতিরঝিল এলাকার বাসিন্দা। গত ১২ জুন ২০২৬, শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছালে তার ছেলে ইয়াসিন খান পলাশের ওপর সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। এ সময় খুব কাছ থেকে গুলি করা হলে পলাশের মাথায় গুলি লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ জুন ২০২৬ পলাশ মারা যান।

 

নিহতের মা জানান, তার একমাত্র ছেলে ইয়াসিন খান পলাশ এলাকায় বিভিন্ন ধরনের ঠিকাদারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার দুই বন্ধু হাসান ও মিরাজও ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ‘মেসার্স থ্রি ভিউ এন্টারপ্রাইজ’ নামে প্রতিষ্ঠানটি ই-ট্রেড লাইসেন্সের মাধ্যমে পরিচালিত হতো। মৃত্যুর কিছুদিন আগে ব্যবসায়িক হিসাব নিয়ে হাসান ও মিরাজের সঙ্গে পলাশের দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছিল বলে তিনি ছেলের স্ত্রীর কাছ থেকে জানতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, পলাশের মৃত্যুর পর তিনি জানতে পারেন, তাকে মসজিদে নামাজ পড়তে যেতে নিষেধ করা হয়েছিল। ঠিকাদারি ও ইন্টারনেট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে পলাশ বিভিন্ন ব্যক্তির বিরোধিতার মুখে পড়েছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মোবাইল টিপু, সাইফুল কন্ট্রাক্টর, বিল্লাল কন্ট্রাক্টর, গুজা বাদশা, বলদা বাদশা, জীবন, মোল্লা জনি, পিচ্চি আলামিন, লম্বা ফয়সাল, কালা জিহাদ, মামুনসহ আরও কয়েকজনের সঙ্গে তার ছেলের বিরোধ ছিল।
মোসা. আমেনা বেগমের অভিযোগ, হাসান ও মিরাজসহ উল্লেখিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে পলাশের বিরুদ্ধে একটি বিরোধী গ্রুপ সক্রিয় হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে তাদের সঙ্গে শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের যোগসাজশে তার ছেলে ইয়াসিন খান পলাশকে হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

 

তিনি জানান, পলাশ গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তার স্ত্রী মাহমুদা খানম ইভা গত ১৩ জুন ২০২৬ হাতিরঝিল থানায় একটি মামলা করেন। মামলাটি ৮/২০২৬ নম্বরে নথিভুক্ত হয়ে বর্তমানে ডিবিতে তদন্তাধীন রয়েছে। পলাশের মৃত্যুর পর তিনি নিজেও গত ৯ জুলাই ২০২৬ আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নম্বর ৭২৩/২০২৬। এই মামলাটিও বর্তমানে ডিবিতে তদন্তাধীন।

নিহতের মায়ের অভিযোগ, দুটি মামলার তদন্তে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তার না করে নানা ধরনের তালবাহানা করে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ছেলে হত্যার বিচার দাবি করায় আসামিদের পক্ষ থেকে তাকে ও তার স্বজনদের হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ অবস্থায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মোসা. আমেনা বেগম প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তিনি তার ছেলে ইয়াসিন খান পলাশ হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিজের ও স্বজনদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

 

 

পলাশ হত্যার বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন, আসামিদের বিরুদ্ধে হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ

আপডেট সময় : ১২:৩৩:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

পলাশ হত্যার বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন, আসামিদের বিরুদ্ধে হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ

 

রাজধানীর পশ্চিম রামপুরায় ছেলে ইয়াসিন খান পলাশ হত্যার বিচার, আসামিদের গ্রেপ্তার এবং নিজের ও স্বজনদের নিরাপত্তার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহতের মা মোসা. আমেনা বেগম।

 

সংবাদ সম্মেলনে মোসা. আমেনা বেগম বলেন, তিনি মো. ইউনুস খানের স্ত্রী এবং ৪৬০ ডিআইটি রোড, পশ্চিম রামপুরা, থানা হাতিরঝিল এলাকার বাসিন্দা। গত ১২ জুন ২০২৬, শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছালে তার ছেলে ইয়াসিন খান পলাশের ওপর সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। এ সময় খুব কাছ থেকে গুলি করা হলে পলাশের মাথায় গুলি লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ জুন ২০২৬ পলাশ মারা যান।

 

নিহতের মা জানান, তার একমাত্র ছেলে ইয়াসিন খান পলাশ এলাকায় বিভিন্ন ধরনের ঠিকাদারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার দুই বন্ধু হাসান ও মিরাজও ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ‘মেসার্স থ্রি ভিউ এন্টারপ্রাইজ’ নামে প্রতিষ্ঠানটি ই-ট্রেড লাইসেন্সের মাধ্যমে পরিচালিত হতো। মৃত্যুর কিছুদিন আগে ব্যবসায়িক হিসাব নিয়ে হাসান ও মিরাজের সঙ্গে পলাশের দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছিল বলে তিনি ছেলের স্ত্রীর কাছ থেকে জানতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, পলাশের মৃত্যুর পর তিনি জানতে পারেন, তাকে মসজিদে নামাজ পড়তে যেতে নিষেধ করা হয়েছিল। ঠিকাদারি ও ইন্টারনেট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে পলাশ বিভিন্ন ব্যক্তির বিরোধিতার মুখে পড়েছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মোবাইল টিপু, সাইফুল কন্ট্রাক্টর, বিল্লাল কন্ট্রাক্টর, গুজা বাদশা, বলদা বাদশা, জীবন, মোল্লা জনি, পিচ্চি আলামিন, লম্বা ফয়সাল, কালা জিহাদ, মামুনসহ আরও কয়েকজনের সঙ্গে তার ছেলের বিরোধ ছিল।
মোসা. আমেনা বেগমের অভিযোগ, হাসান ও মিরাজসহ উল্লেখিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে পলাশের বিরুদ্ধে একটি বিরোধী গ্রুপ সক্রিয় হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে তাদের সঙ্গে শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের যোগসাজশে তার ছেলে ইয়াসিন খান পলাশকে হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

 

তিনি জানান, পলাশ গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তার স্ত্রী মাহমুদা খানম ইভা গত ১৩ জুন ২০২৬ হাতিরঝিল থানায় একটি মামলা করেন। মামলাটি ৮/২০২৬ নম্বরে নথিভুক্ত হয়ে বর্তমানে ডিবিতে তদন্তাধীন রয়েছে। পলাশের মৃত্যুর পর তিনি নিজেও গত ৯ জুলাই ২০২৬ আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নম্বর ৭২৩/২০২৬। এই মামলাটিও বর্তমানে ডিবিতে তদন্তাধীন।

নিহতের মায়ের অভিযোগ, দুটি মামলার তদন্তে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তার না করে নানা ধরনের তালবাহানা করে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ছেলে হত্যার বিচার দাবি করায় আসামিদের পক্ষ থেকে তাকে ও তার স্বজনদের হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ অবস্থায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মোসা. আমেনা বেগম প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তিনি তার ছেলে ইয়াসিন খান পলাশ হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিজের ও স্বজনদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।