সংবাদ শিরোনাম ::
মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার সাংবাদিকদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে কুমিল্লায় সাংবাদিক ইউনিয়নের মানববন্ধন কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে মাসাস ও সাংবাদিক ইউনিয়নের ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রামীণফোনের শ্রমিকদের ১৬ বছরের আইনগত পাওনা পরিশোধের দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবে প্রতিবাদ সমাবেশ কেরানীগঞ্জে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ, জাবেদের বিরুদ্ধে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন ১০ দফা দাবিতে ২৫ জুলাই সুন্নী মহাসমাবেশ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের সমন্বিত নীতিমালা ও স্থায়ী সমাধানের দাবিতে গোলটেবিল বৈঠক গাজীপুর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন গ্রামীণফোনের  সাবেক শ্রমিকদের ১৬ বছরের আইনগত পাওনা পরিশোধ,এর দাবিতে চট্টগ্রামে মানববন্ধন গ্রামীণফোনের  সাবেক শ্রমিকদের ১৬ বছরের আইনগত পাওনা পরিশোধ,এর দাবিতে চট্টগ্রামে মানববন্ধন শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির মানববন্ধন

সংবাদ সম্মেলনে সংঘবদ্ধ প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রিয়েল এস্টেট কোম্পানির

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১২:০৯:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬ ১৯৪ বার পড়া হয়েছে

oplus_0

 

আলফালাক রিয়েল এস্টেট লিমিটেড ও মাইশা এম.এস. প্রপার্টিজ লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, বিনিয়োগ, মর্টগেজ, বায়না চুক্তি ও চেকের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে বলে তারা দাবি করছেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন আলফালাক রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের পরিচালক মো. ছিদ্দিকুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস. এম. জাকারিয়া এবং মাইশা এম.এস. প্রপার্টিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হায়দার আলী।
লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, জাপান প্রবাসী মো. ইকরামুল হকের অর্থায়নে তার ভাই মো. রিয়াজুল হাসান (অভি) ওরফে মিথুন একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিচালনা করে বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিনিয়োগের নামে প্রতারণা করে আসছেন। তাদের দাবি, এই চক্রের কর্মকাণ্ডে ইতোমধ্যে একাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, করোনা মহামারির পর আর্থিক সংকটে পড়া আলফালাক রিয়েল এস্টেট লিমিটেডকে এক কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরে নিরাপত্তা হিসেবে চেক নেওয়ার পাশাপাশি চারটি ফ্ল্যাট ও চারটি কার পার্কিং মর্টগেজ হিসেবে নিবন্ধন করা হয়। পরবর্তীতে এক কোটি টাকার বিপরীতে একটি ফ্ল্যাট ও একটি পার্কিংয়ের সাফ-কবলা দলিলও সম্পন্ন করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
এছাড়া অভিযোগ করা হয়, পরবর্তী সময়ে আরও একটি বিনিয়োগের নামে দুটি ফ্ল্যাটের বিপরীতে ৭০ লাখ টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে চেক প্রদান করা হলেও ব্যাংকে পর্যাপ্ত অর্থ পাওয়া যায়নি। পরে আরও একটি ৫০ লাখ টাকার চেক দেওয়া হলেও সেটিও অনাদায়ী ছিল বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়। এ বিষয়ে বিভিন্ন মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

 

সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়, ১২ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে রিয়াজুল হাসান লিখিতভাবে স্বীকার করেছেন যে সংশ্লিষ্ট লেনদেনে কোনো অর্থ প্রদান করা হয়নি। ওই নথি তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও জানানো হয়।

 

লিখিত বক্তব্যে আরও অভিযোগ করা হয়, একই ধরনের কৌশলে সুন্দরবন তালুকদার বিল্ডার্স লিমিটেড, মাইশা এম.এস. প্রপার্টিজ লিমিটেডসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

চেক জালিয়াতির একটি অভিযোগ তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সুন্দরবন তালুকদার বিল্ডার্স লিমিটেডের এক লাখ টাকার একটি চেকে পরবর্তীতে সংখ্যা সংযোজন করে ৫১ লাখ টাকা প্রদর্শনের চেষ্টা করা হয়। আদালতের নির্দেশে বাংলাদেশ পুলিশের সিআইডির ফরেনসিক পরীক্ষায় পাঠানো হলে চেকে পরবর্তীতে সংখ্যা সংযোজনের বিষয়টি ধরা পড়ে বলে তাদের দাবি।
বক্তারা জানান, এ ঘটনায় একাধিক দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা বর্তমানে বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। পাশাপাশি আলফালাক রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের দায়ের করা সি.আর. মামলা নং-১৭৮/২০২৬ ও ২১৬/২০২৬ বর্তমানে পিবিআই তদন্ত করছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

 

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, সংঘবদ্ধ চক্রের আরও কয়েকজন সদস্য সম্পত্তি জবরদখলের চেষ্টা, মানববন্ধন এবং মানহানিকর প্রচারণায় জড়িত। এসব ঘটনায় এস. এম. জাকারিয়া ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলন থেকে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং তদন্ত সংস্থার কাছে চার দফা দাবি জানানো হয়।

 

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—অভিযোগের নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত, অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতারণা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।
উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলো সংবাদ সম্মেলনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর উপস্থাপিত বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশ করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে সংঘবদ্ধ প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রিয়েল এস্টেট কোম্পানির

আপডেট সময় : ১২:০৯:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

 

আলফালাক রিয়েল এস্টেট লিমিটেড ও মাইশা এম.এস. প্রপার্টিজ লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, বিনিয়োগ, মর্টগেজ, বায়না চুক্তি ও চেকের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে বলে তারা দাবি করছেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন আলফালাক রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের পরিচালক মো. ছিদ্দিকুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস. এম. জাকারিয়া এবং মাইশা এম.এস. প্রপার্টিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হায়দার আলী।
লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, জাপান প্রবাসী মো. ইকরামুল হকের অর্থায়নে তার ভাই মো. রিয়াজুল হাসান (অভি) ওরফে মিথুন একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিচালনা করে বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিনিয়োগের নামে প্রতারণা করে আসছেন। তাদের দাবি, এই চক্রের কর্মকাণ্ডে ইতোমধ্যে একাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, করোনা মহামারির পর আর্থিক সংকটে পড়া আলফালাক রিয়েল এস্টেট লিমিটেডকে এক কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরে নিরাপত্তা হিসেবে চেক নেওয়ার পাশাপাশি চারটি ফ্ল্যাট ও চারটি কার পার্কিং মর্টগেজ হিসেবে নিবন্ধন করা হয়। পরবর্তীতে এক কোটি টাকার বিপরীতে একটি ফ্ল্যাট ও একটি পার্কিংয়ের সাফ-কবলা দলিলও সম্পন্ন করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
এছাড়া অভিযোগ করা হয়, পরবর্তী সময়ে আরও একটি বিনিয়োগের নামে দুটি ফ্ল্যাটের বিপরীতে ৭০ লাখ টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে চেক প্রদান করা হলেও ব্যাংকে পর্যাপ্ত অর্থ পাওয়া যায়নি। পরে আরও একটি ৫০ লাখ টাকার চেক দেওয়া হলেও সেটিও অনাদায়ী ছিল বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়। এ বিষয়ে বিভিন্ন মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

 

সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়, ১২ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে রিয়াজুল হাসান লিখিতভাবে স্বীকার করেছেন যে সংশ্লিষ্ট লেনদেনে কোনো অর্থ প্রদান করা হয়নি। ওই নথি তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও জানানো হয়।

 

লিখিত বক্তব্যে আরও অভিযোগ করা হয়, একই ধরনের কৌশলে সুন্দরবন তালুকদার বিল্ডার্স লিমিটেড, মাইশা এম.এস. প্রপার্টিজ লিমিটেডসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

চেক জালিয়াতির একটি অভিযোগ তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সুন্দরবন তালুকদার বিল্ডার্স লিমিটেডের এক লাখ টাকার একটি চেকে পরবর্তীতে সংখ্যা সংযোজন করে ৫১ লাখ টাকা প্রদর্শনের চেষ্টা করা হয়। আদালতের নির্দেশে বাংলাদেশ পুলিশের সিআইডির ফরেনসিক পরীক্ষায় পাঠানো হলে চেকে পরবর্তীতে সংখ্যা সংযোজনের বিষয়টি ধরা পড়ে বলে তাদের দাবি।
বক্তারা জানান, এ ঘটনায় একাধিক দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা বর্তমানে বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। পাশাপাশি আলফালাক রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের দায়ের করা সি.আর. মামলা নং-১৭৮/২০২৬ ও ২১৬/২০২৬ বর্তমানে পিবিআই তদন্ত করছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

 

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, সংঘবদ্ধ চক্রের আরও কয়েকজন সদস্য সম্পত্তি জবরদখলের চেষ্টা, মানববন্ধন এবং মানহানিকর প্রচারণায় জড়িত। এসব ঘটনায় এস. এম. জাকারিয়া ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলন থেকে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং তদন্ত সংস্থার কাছে চার দফা দাবি জানানো হয়।

 

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—অভিযোগের নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত, অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতারণা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।
উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলো সংবাদ সম্মেলনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর উপস্থাপিত বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশ করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।