যশোরের শার্শায় পাটের বাম্পার ফলন, ভালো দামে হাসি চাষিদের মুখে
- আপডেট সময় : ১২:২৫:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ২৫১০ বার পড়া হয়েছে
যশোরের শার্শা উপজেলার বিভিন্ন বাজারে উঠতে শুরু করেছে নতুন পাট। এবার অনুকূল আবহাওয়া, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ও ভালো ফলনের পাশাপাশি বাজারে সন্তোষজনক দাম পাওয়ায় খুশি পাটচাষিরা। গত বছরের তুলনায় এবার প্রতি মণ পাটে প্রায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা বেশি দাম পাচ্ছেন কৃষকরা।
বাজার ঘুরে জানা গেছে, গত বছর নতুন পাটের মৌসুমের শুরুতে প্রতি মণ পাট ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল। চলতি মৌসুমে শুরুতেই ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৬০০ টাকা দরে পাট বিক্রি করেছেন কৃষকরা। বর্তমানে ভালো মানের পাটের দাম বেড়ে প্রতি মণ ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছে।
শার্শা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, অনুকূল আবহাওয়া ও দোআঁশ মাটির উর্বরতার কারণে এবার পাটের ফলন ভালো হয়েছে। গত বছর উপজেলায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হলেও চলতি বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৫০৩ হেক্টরে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাটের আবাদ বেড়েছে ৫০৩ হেক্টর।
কৃষকরা জানান, গত বছর পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পাট জাগ দেওয়া নিয়ে তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছিল। তবে এবার পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাট জাগ দেওয়ার পানির সংকট অনেকটাই কমেছে। ফলে উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে স্বস্তি পেয়েছেন তারা।
তবে ফলন ও বাজারদর ভালো হলেও উৎপাদন খরচ কিছুটা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। বিশেষ করে পাট কাটা, জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়ানোর কাজে শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে। গত বছর যেখানে শ্রমিকপ্রতি প্রায় ৪০০ টাকা মজুরি দিতে হতো, এবার তার চেয়ে বেশি খরচ হচ্ছে। এতে প্রতি মণ পাটের উৎপাদন খরচ গত বছরের তুলনায় প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেড়েছে।
শার্শার কোটা গ্রামের কৃষক জিয়াউর রহমান বলেন, “এবার পাটের ফলন ভালো হয়েছে। পাশাপাশি বাজারদরও ভালো। গত বছরের তুলনায় প্রতি মণে প্রায় এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা বেশি দাম পাচ্ছি। এতে আমরা বেশ খুশি।”
বাগআঁচড়া বাজারের পাট ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় হাট থেকে পাট কিনে ফরিদপুর, খুলনা, বগুড়া ও কুষ্টিয়ার বিভিন্ন মোকামে সরবরাহ করেন তারা। ভালো মানের পাটের চাহিদা থাকায় বর্তমানে বাজারে দামও ভালো রয়েছে।
শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা বলেন, অনুকূল আবহাওয়া, ভালো ফলন ও সন্তোষজনক বাজারদরের কারণে এবার পাটচাষিরা লাভের মুখ দেখছেন। সরকারের প্রণোদনা, বিনামূল্যে উন্নতমানের বীজ বিতরণ এবং কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শের কারণে কৃষকরা উপকৃত হচ্ছেন। এতে আগামীতে শার্শায় পাট চাষে কৃষকদের আগ্রহ আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
পাটের ভালো ফলন ও বাজারদর ঘিরে চলতি মৌসুমে শার্শার কৃষকদের মধ্যে নতুন আশার সৃষ্টি হয়েছে।





















