সংবাদ শিরোনাম :
দিনাজপুরের বীরগঞ্জে চোখ বেঁধে হাঁস ধরার খেলায় মাতল পাল্টাপুর মতিঝিলে শতবর্ষের পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, মালিকানা দাবিতে আদালতে লড়াই যশোরের শার্শায় ৩৫ বিঘার মাছের ঘের নিয়ে বিরোধ, প্রাণভয়ে বাড়িছাড়া ব্যবসায়ী গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মীদের ৫% বিলম্বজনিত বকেয়ার দাবিতে সংসদ ভবনের সামনে সাবেক কর্মীদের সন্তানদের মানববন্ধন দেবিদ্বারে অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান, ৩ ড্রেজার ও ১,০০০ ফুট পাইপ বিনষ্ট মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে বের হয়ে ফিরল নিথর দেহ হয়ে ১৩ বছরের অপ্রিতম যশোরের শার্শায় পাটের বাম্পার ফলন, ভালো দামে হাসি চাষিদের মুখে বেনাপোলে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার, পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা যশোরের ৮ উপজেলায় ইউপি নির্বাচন প্রস্তুতি, ৫৪ ভোটকেন্দ্রে পরিবর্তন বীরগঞ্জে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে ৯ জন আটক, কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে প্রেরণ

গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মীদের ৫% বিলম্বজনিত বকেয়ার দাবিতে সংসদ ভবনের সামনে সাবেক কর্মীদের সন্তানদের মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০১:০২:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ২৫৮৮ বার পড়া হয়েছে
dailydinlipi24.com অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

১৬ বছরের অপেক্ষা, ২১ মাসের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন: গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মীদের সন্তানদের কণ্ঠে পরিবারের দীর্ঘ অনিশ্চয়তার কথা।

গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মীদের দীর্ঘদিনের ৫ শতাংশ বিলম্বজনিত পাওনা নিষ্পত্তির দাবিতে চলমান শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে এবার সামনে এসেছে তাদের সন্তানদের কণ্ঠ। শনিবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে আয়োজিত এক মানবিক কর্মসূচিতে প্রায় ৬০ জন শিশু এবং সাবেক কর্মী ও পরিবারের সদস্যসহ মোট প্রায় ১৭০ জন অংশ নেন।

শিশুরা নিজেদের হাতে লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে কর্মসূচিতে অংশ নেয়। প্ল্যাকার্ডগুলোতে তারা নিজেদের ভাষায় পরিবারের দীর্ঘ অপেক্ষা, বাবা-মায়ের সংগ্রাম, পড়াশোনা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের ভাবনার কথা তুলে ধরে।

প্রচলিত রাজনৈতিক বা সংঘাতমুখী স্লোগানের পরিবর্তে শিশুদের বার্তাগুলো ছিল ব্যক্তিগত ও সরল। তাদের বক্তব্যের মূল সুর ছিল—বাবা-মায়ের পাওনা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই এর প্রভাব পড়ছে পরিবারের জীবন ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায়।
আন্দোলনের ২১ মাসে এবার শিশুদের অংশগ্রহণ
সাবেক গ্রামীণফোন কর্মীদের এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শুরু হয় ২ ডিসেম্বর ২০২৪। এরপর গত ২১ মাসে গ্রামীণফোন হাউস, জাতীয় প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দীর্ঘদিনের এই দাবির ধারাবাহিকতায় শনিবারের কর্মসূচিতে আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন সাবেক কর্মীদের সন্তানরা।

 

আয়োজকদের মতে, দীর্ঘদিন কোনো পাওনা বা আর্থিক দাবি অনিষ্পন্ন থাকলে তার প্রভাব শুধু সংশ্লিষ্ট কর্মীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এর প্রভাব পরিবারের শিক্ষা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং দৈনন্দিন জীবনের ওপরও পড়তে পারে।

শিশুদের হাতে লেখা বার্তায় ভবিষ্যতের উদ্বেগ
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিশুরা তাদের নিজস্ব ভাষায় লেখা বার্তা বহন করে। এসব বার্তায় ছিল পড়াশোনার ব্যয়, উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি, পরিবারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং বাবা-মায়ের দীর্ঘদিনের সংগ্রাম নিয়ে তাদের উদ্বেগ।
আয়োজকদের বক্তব্য, শিশুরা কোনো বিরোধে পক্ষ নেওয়ার জন্য নয়, বরং তাদের পরিবারের বাস্তব অভিজ্ঞতার একটি মানবিক চিত্র তুলে ধরতেই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে।

 

একজন অভিভাবকের দীর্ঘ অপেক্ষার পাশাপাশি একটি শিশুর বেড়ে ওঠার সময়ও একই সঙ্গে এগিয়ে যায়—এই বাস্তবতাটিই কর্মসূচির অন্যতম প্রধান বার্তা হয়ে ওঠে।
“শিশুর শৈশব অপেক্ষা করে না”—এই বক্তব্যের মাধ্যমে তারা বোঝাতে চেয়েছেন, দীর্ঘদিনের আর্থিক অনিশ্চয়তা সন্তানদের পড়াশোনা, উচ্চশিক্ষা ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে।

শান্তিপূর্ণ ও পরিবারকেন্দ্রিক কর্মসূচি
কর্মসূচিটি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। সাবেক কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা শিশুদের সঙ্গে এতে অংশ নেন।

আয়োজকরা জানান, শনিবারের কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল বিষয়টিকে একটি পারিবারিক ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করা।

গ্রামীণফোন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত সমাধানের আহ্বান গ্রামীণফোন ৫% বিলম্ব বকেয়া আদায় ঐক্য পরিষদ গ্রামীণফোন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দীর্ঘদিনের ৫ শতাংশ বিলম্বজনিত পাওনার বিষয়টি দ্রুত পর্যালোচনা করে একটি কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

 

 

আয়োজকদের বক্তব্য, ১৬ বছর ধরে অপেক্ষা এবং ২১ মাসের ধারাবাহিক শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পর সাবেক কর্মী ও তাদের পরিবারগুলো এখন একটি স্পষ্ট সমাধান প্রত্যাশা করছে।

 

তাদের মতে, এই দাবির পেছনে শুধু সাবেক কর্মীদের পাওনা নয়—এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসংখ্য পরিবারের আর্থিক পরিকল্পনা, সন্তানদের শিক্ষা এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন।

 

কর্মসূচিতে পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়, দীর্ঘদিনের এই বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হোক, যাতে সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিবারগুলো নতুন করে পরিকল্পনা করতে পারে।

 

 

গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মীদের ৫% বিলম্বজনিত বকেয়ার দাবিতে সংসদ ভবনের সামনে সাবেক কর্মীদের সন্তানদের মানববন্ধন

আপডেট সময় : ০১:০২:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

১৬ বছরের অপেক্ষা, ২১ মাসের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন: গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মীদের সন্তানদের কণ্ঠে পরিবারের দীর্ঘ অনিশ্চয়তার কথা।

গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মীদের দীর্ঘদিনের ৫ শতাংশ বিলম্বজনিত পাওনা নিষ্পত্তির দাবিতে চলমান শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে এবার সামনে এসেছে তাদের সন্তানদের কণ্ঠ। শনিবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে আয়োজিত এক মানবিক কর্মসূচিতে প্রায় ৬০ জন শিশু এবং সাবেক কর্মী ও পরিবারের সদস্যসহ মোট প্রায় ১৭০ জন অংশ নেন।

শিশুরা নিজেদের হাতে লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে কর্মসূচিতে অংশ নেয়। প্ল্যাকার্ডগুলোতে তারা নিজেদের ভাষায় পরিবারের দীর্ঘ অপেক্ষা, বাবা-মায়ের সংগ্রাম, পড়াশোনা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের ভাবনার কথা তুলে ধরে।

প্রচলিত রাজনৈতিক বা সংঘাতমুখী স্লোগানের পরিবর্তে শিশুদের বার্তাগুলো ছিল ব্যক্তিগত ও সরল। তাদের বক্তব্যের মূল সুর ছিল—বাবা-মায়ের পাওনা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই এর প্রভাব পড়ছে পরিবারের জীবন ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায়।
আন্দোলনের ২১ মাসে এবার শিশুদের অংশগ্রহণ
সাবেক গ্রামীণফোন কর্মীদের এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শুরু হয় ২ ডিসেম্বর ২০২৪। এরপর গত ২১ মাসে গ্রামীণফোন হাউস, জাতীয় প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দীর্ঘদিনের এই দাবির ধারাবাহিকতায় শনিবারের কর্মসূচিতে আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন সাবেক কর্মীদের সন্তানরা।

 

আয়োজকদের মতে, দীর্ঘদিন কোনো পাওনা বা আর্থিক দাবি অনিষ্পন্ন থাকলে তার প্রভাব শুধু সংশ্লিষ্ট কর্মীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এর প্রভাব পরিবারের শিক্ষা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং দৈনন্দিন জীবনের ওপরও পড়তে পারে।

শিশুদের হাতে লেখা বার্তায় ভবিষ্যতের উদ্বেগ
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিশুরা তাদের নিজস্ব ভাষায় লেখা বার্তা বহন করে। এসব বার্তায় ছিল পড়াশোনার ব্যয়, উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি, পরিবারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং বাবা-মায়ের দীর্ঘদিনের সংগ্রাম নিয়ে তাদের উদ্বেগ।
আয়োজকদের বক্তব্য, শিশুরা কোনো বিরোধে পক্ষ নেওয়ার জন্য নয়, বরং তাদের পরিবারের বাস্তব অভিজ্ঞতার একটি মানবিক চিত্র তুলে ধরতেই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে।

 

একজন অভিভাবকের দীর্ঘ অপেক্ষার পাশাপাশি একটি শিশুর বেড়ে ওঠার সময়ও একই সঙ্গে এগিয়ে যায়—এই বাস্তবতাটিই কর্মসূচির অন্যতম প্রধান বার্তা হয়ে ওঠে।
“শিশুর শৈশব অপেক্ষা করে না”—এই বক্তব্যের মাধ্যমে তারা বোঝাতে চেয়েছেন, দীর্ঘদিনের আর্থিক অনিশ্চয়তা সন্তানদের পড়াশোনা, উচ্চশিক্ষা ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে।

শান্তিপূর্ণ ও পরিবারকেন্দ্রিক কর্মসূচি
কর্মসূচিটি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। সাবেক কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা শিশুদের সঙ্গে এতে অংশ নেন।

আয়োজকরা জানান, শনিবারের কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল বিষয়টিকে একটি পারিবারিক ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করা।

গ্রামীণফোন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত সমাধানের আহ্বান গ্রামীণফোন ৫% বিলম্ব বকেয়া আদায় ঐক্য পরিষদ গ্রামীণফোন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দীর্ঘদিনের ৫ শতাংশ বিলম্বজনিত পাওনার বিষয়টি দ্রুত পর্যালোচনা করে একটি কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

 

 

আয়োজকদের বক্তব্য, ১৬ বছর ধরে অপেক্ষা এবং ২১ মাসের ধারাবাহিক শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পর সাবেক কর্মী ও তাদের পরিবারগুলো এখন একটি স্পষ্ট সমাধান প্রত্যাশা করছে।

 

তাদের মতে, এই দাবির পেছনে শুধু সাবেক কর্মীদের পাওনা নয়—এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসংখ্য পরিবারের আর্থিক পরিকল্পনা, সন্তানদের শিক্ষা এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন।

 

কর্মসূচিতে পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়, দীর্ঘদিনের এই বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হোক, যাতে সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিবারগুলো নতুন করে পরিকল্পনা করতে পারে।