সংবাদ শিরোনাম :
দিনাজপুরের বীরগঞ্জে চোখ বেঁধে হাঁস ধরার খেলায় মাতল পাল্টাপুর মতিঝিলে শতবর্ষের পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, মালিকানা দাবিতে আদালতে লড়াই যশোরের শার্শায় ৩৫ বিঘার মাছের ঘের নিয়ে বিরোধ, প্রাণভয়ে বাড়িছাড়া ব্যবসায়ী গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মীদের ৫% বিলম্বজনিত বকেয়ার দাবিতে সংসদ ভবনের সামনে সাবেক কর্মীদের সন্তানদের মানববন্ধন দেবিদ্বারে অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান, ৩ ড্রেজার ও ১,০০০ ফুট পাইপ বিনষ্ট মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে বের হয়ে ফিরল নিথর দেহ হয়ে ১৩ বছরের অপ্রিতম যশোরের শার্শায় পাটের বাম্পার ফলন, ভালো দামে হাসি চাষিদের মুখে বেনাপোলে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার, পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা যশোরের ৮ উপজেলায় ইউপি নির্বাচন প্রস্তুতি, ৫৪ ভোটকেন্দ্রে পরিবর্তন বীরগঞ্জে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে ৯ জন আটক, কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে প্রেরণ

মতিঝিলে শতবর্ষের পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, মালিকানা দাবিতে আদালতে লড়াই

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৪:০৬:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ২৫১৯ বার পড়া হয়েছে
dailydinlipi24.com অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মতিঝিলে শতবর্ষের পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, মালিকানা দাবিতে আদালতে লড়াই

মতিঝিলে শতবর্ষের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, ১৯৭৪ সালের দলিল নিয়ে প্রশ্ন

রাজধানীর মতিঝিলে শত বছরের পুরোনো একটি পৈতৃক সম্পত্তির মালিকানা ও দখল নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছে। সংশ্লিষ্ট দলিল, খতিয়ান ও আদালতে চলমান মামলার নথি পর্যালোচনায় সম্পত্তিটির মালিকানা ও দখল নিয়ে একাধিক পর্যায়ে বিরোধের বিষয়টি উঠে এসেছে।
নথি ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, সম্পত্তিটির মূল মালিক ছিলেন জমিরউদ্দীন শেখ। তিনি মারা যাওয়ার পর তার একমাত্র সন্তান তমিজউদ্দীন উত্তরাধিকারসূত্রে সম্পত্তিটির মালিক হন। পরবর্তী সময়ে করিম মেম্বারসহ একটি চক্র সম্পত্তিটি ভোগদখলে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষের দাবি, ১৯৫০ সাল থেকে প্রায় ২০২৪ সাল পর্যন্ত সম্পত্তিটি তাদের দখলের বাইরে ছিল। তাদের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি চক্র বিভিন্ন ব্যক্তি ও বাহিনীর মাধ্যমে দীর্ঘ সময় সম্পত্তিটি দখলে রাখে।
মালিকপক্ষের কাছে থাকা সিএস ও এসএ খতিয়ানসহ সংশ্লিষ্ট নথিতে তাদের পারিবারিক মালিকানার তথ্য রয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন। তাদের দাবি, চার পুরুষ ধরে সম্পত্তিটির মালিকানা তাদের পরিবারের।
এদিকে, সম্পত্তি ভোগদখলের ক্ষেত্রে ১৯৭৪ সালের একটি দলিলের ব্যবহার নিয়েও বিরোধ রয়েছে। মালিকপক্ষের অভিযোগ, ওই দলিলসহ কিছু নথি ব্যবহার করে করিম মেম্বার ও সংশ্লিষ্টরা সম্পত্তিটি ভোগদখল করে আসছিলেন। মালিকপক্ষ এসব দলিলকে জাল ও ভুয়া দাবি করে আইনি প্রতিকার চেয়ে আসছে।
মালিকপক্ষের দাবি, ২০২৪ সালে তারা পুনরায় সম্পত্তিটির দখলে আসে। এরপরও বিরোধের অবসান হয়নি। বরং বিভিন্ন সময়ে রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের মাধ্যমে আবারও সম্পত্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

মালিকপক্ষ আরও অভিযোগ করেছে, পাশের ক্যাম্পের সেনাবাহিনীর সদস্যদের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন সময়ে মৌখিকভাবে সম্পত্তি দখলের হুমকি দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সম্পত্তি নিয়ে আদালতে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। এর মধ্যে দেওয়ানি মোকদ্দমা নম্বর ১৪৬/২০২৫ ঢাকার ৫ম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ আছে। এছাড়া দেওয়ানি মোকদ্দমা নম্বর ৬১/১৯৯৪-এর বিষয়টিও নথিতে রয়েছে।

 

সম্পত্তি নিয়ে হাইকোর্ট বিভাগে একটি রিট পিটিশন দায়েরের তথ্যও পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট নথিতে রাজউক, গণপূর্ত বিভাগ, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনসহ বিভিন্ন পক্ষকে নিয়ে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

 

মালিকপক্ষের দাবি, দীর্ঘদিনের এই বিরোধের কারণে তারা একাধিকবার আইনি জটিলতার মুখোমুখি হয়েছেন।

তাদের প্রত্যাশা, আদালতের মাধ্যমে সম্পত্তির মালিকানা, দখল এবং সংশ্লিষ্ট দলিলের বৈধতা নিয়ে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে।

মতিঝিলে শতবর্ষের পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, মালিকানা দাবিতে আদালতে লড়াই

আপডেট সময় : ০৪:০৬:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মতিঝিলে শতবর্ষের পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, মালিকানা দাবিতে আদালতে লড়াই

মতিঝিলে শতবর্ষের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, ১৯৭৪ সালের দলিল নিয়ে প্রশ্ন

রাজধানীর মতিঝিলে শত বছরের পুরোনো একটি পৈতৃক সম্পত্তির মালিকানা ও দখল নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছে। সংশ্লিষ্ট দলিল, খতিয়ান ও আদালতে চলমান মামলার নথি পর্যালোচনায় সম্পত্তিটির মালিকানা ও দখল নিয়ে একাধিক পর্যায়ে বিরোধের বিষয়টি উঠে এসেছে।
নথি ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, সম্পত্তিটির মূল মালিক ছিলেন জমিরউদ্দীন শেখ। তিনি মারা যাওয়ার পর তার একমাত্র সন্তান তমিজউদ্দীন উত্তরাধিকারসূত্রে সম্পত্তিটির মালিক হন। পরবর্তী সময়ে করিম মেম্বারসহ একটি চক্র সম্পত্তিটি ভোগদখলে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষের দাবি, ১৯৫০ সাল থেকে প্রায় ২০২৪ সাল পর্যন্ত সম্পত্তিটি তাদের দখলের বাইরে ছিল। তাদের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি চক্র বিভিন্ন ব্যক্তি ও বাহিনীর মাধ্যমে দীর্ঘ সময় সম্পত্তিটি দখলে রাখে।
মালিকপক্ষের কাছে থাকা সিএস ও এসএ খতিয়ানসহ সংশ্লিষ্ট নথিতে তাদের পারিবারিক মালিকানার তথ্য রয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন। তাদের দাবি, চার পুরুষ ধরে সম্পত্তিটির মালিকানা তাদের পরিবারের।
এদিকে, সম্পত্তি ভোগদখলের ক্ষেত্রে ১৯৭৪ সালের একটি দলিলের ব্যবহার নিয়েও বিরোধ রয়েছে। মালিকপক্ষের অভিযোগ, ওই দলিলসহ কিছু নথি ব্যবহার করে করিম মেম্বার ও সংশ্লিষ্টরা সম্পত্তিটি ভোগদখল করে আসছিলেন। মালিকপক্ষ এসব দলিলকে জাল ও ভুয়া দাবি করে আইনি প্রতিকার চেয়ে আসছে।
মালিকপক্ষের দাবি, ২০২৪ সালে তারা পুনরায় সম্পত্তিটির দখলে আসে। এরপরও বিরোধের অবসান হয়নি। বরং বিভিন্ন সময়ে রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের মাধ্যমে আবারও সম্পত্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

মালিকপক্ষ আরও অভিযোগ করেছে, পাশের ক্যাম্পের সেনাবাহিনীর সদস্যদের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন সময়ে মৌখিকভাবে সম্পত্তি দখলের হুমকি দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সম্পত্তি নিয়ে আদালতে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। এর মধ্যে দেওয়ানি মোকদ্দমা নম্বর ১৪৬/২০২৫ ঢাকার ৫ম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ আছে। এছাড়া দেওয়ানি মোকদ্দমা নম্বর ৬১/১৯৯৪-এর বিষয়টিও নথিতে রয়েছে।

 

সম্পত্তি নিয়ে হাইকোর্ট বিভাগে একটি রিট পিটিশন দায়েরের তথ্যও পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট নথিতে রাজউক, গণপূর্ত বিভাগ, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনসহ বিভিন্ন পক্ষকে নিয়ে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

 

মালিকপক্ষের দাবি, দীর্ঘদিনের এই বিরোধের কারণে তারা একাধিকবার আইনি জটিলতার মুখোমুখি হয়েছেন।

তাদের প্রত্যাশা, আদালতের মাধ্যমে সম্পত্তির মালিকানা, দখল এবং সংশ্লিষ্ট দলিলের বৈধতা নিয়ে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে।