দেবিদ্বারে আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বিজন সাহা গ্রেপ্তার
- আপডেট সময় : ০১:২৯:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ২৫৫৫ বার পড়া হয়েছে
কুমিল্লার দেবিদ্বারে একটি কাঁচামালের আড়ৎ থেকে প্রায় আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বিজন চন্দ্র সাহা (৪৯) নামে এক ম্যানেজারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে নগদ ৩০ লাখ ১৬ হাজার ৮০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার বিজন চন্দ্র সাহা দেবিদ্বার উপজেলার বেগমাবাদ গ্রামের মৃত বীরেন্দ্র চন্দ্র সাহার ছেলে। তিনি উপজেলার বরকামতা (কাঠেরপুল) এলাকার মেসার্স আনন্দ বাণিজ্যলয়ে কাঁচামালের আড়ৎ ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন|
আড়ৎ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, মাসিক ২৭ হাজার ৫০০ টাকা বেতনে চাকরি করলেও বিজন চন্দ্র সাহা প্রায় ছয় বছর ধরে বিভিন্ন কৌশলে প্রতিষ্ঠানের টাকা আত্মসাৎ করে আসছিলেন।
আত্মসাৎ করা অর্থের একটি অংশ নিজের ব্যাংক হিসাব এবং স্ত্রী ও মায়ের নামে এফডিআরসহ বিভিন্নভাবে জমা রাখার অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি আড়ৎ মালিক হিসাব-নিকাশ করে প্রতিষ্ঠানের বিপুল পরিমাণ অর্থের গরমিলের বিষয়টি জানতে পারেন। পরে হিসাব যাচাই করে বিজনের বিরুদ্ধে প্রায় আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে সামাজিকভাবে দেন-দরবার শুরু হয়। একপর্যায়ে বিজন অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি স্বীকার করে টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন বলে দাবি আড়ৎ কর্তৃপক্ষের।
তবে পরে মালিক পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে তিনি পালিয়ে যান। এ ঘটনায় আড়ৎ কর্তৃপক্ষ দেবিদ্বার থানায় প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের করে। এরপর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বিজনের অবস্থান শনাক্ত করে নারায়ণগঞ্জে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে নগদ ৩০ লাখ ১৬ হাজার ৮০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
মামলার বাদী আনিসুর রহমান বলেন, চলতি মাসের ৩ তারিখ বিজন চন্দ্র সাহার টাকা আত্মসাতের বিষয়টি প্রকাশ পেলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তখন তিনি বিষয়টি স্বীকার করে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলেন। বাদীর দাবি, ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আংশিক এবং ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বেশি পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। গত ছয় বছরে প্রায় ২ কোটি ৩২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের মামলায় গ্রেপ্তার বিজন চন্দ্র সাহার কাছ থেকে উদ্ধার করা অর্থের উৎস এবং আত্মসাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য লেনদেনের বিষয়ে তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে তার ব্যাংক হিসাব, এফডিআরসহ সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনও যাচাই করা হচ্ছে।

























