একাধিক মামলায় অভিযোগ ও গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকার দাবি, আটকের এক ঘণ্টার মধ্যে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একাধিক ওয়ারেন্টের পরও রফিকুল মুক্তি, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
- আপডেট সময় : ০৪:২১:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ২৫২৪ বার পড়া হয়েছে
একাধিক ওয়ারেন্ট থাকার পরও আটক করে এক ঘণ্টায় মুক্তি, রফিকুলকে ঘিরে প্রশ্ন
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার পূব মেড্ডা তিতাস পাড়া এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলামকে (পিতা: মৃত সোলেমান মিয়া) ঘিরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের একটি মামলাসহ হত্যা ও গাছ চুরির মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ও মামলা থাকার কথা দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগ রয়েছে, ঢাকা সিআইডিতে তদন্তাধীন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় (মামলা নং-৭১/২০২৫) রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালত থেকে একাধিক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এসব পরোয়ানা সংশ্লিষ্ট থানায় পৌঁছানোর পরও তাকে গ্রেফতার করা হয়নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পক্ষের।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে আদালতে হাজির না হয়ে রফিকুল এলাকায় অবস্থান করছেন। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা ও গাছ চুরির মামলায় এজাহারে নাম থাকার কথাও জানানো হয়েছে।
এদিকে সম্প্রতি গাছ চুরির মামলার অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানা পুলিশ রফিকুল ইসলামকে আটক করে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে আটকের প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
একাধিক মামলায় অভিযোগ এবং আদালতের পরোয়ানা থাকার দাবি সত্ত্বেও তাকে আটকের পর দ্রুত ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে, যে মামলায় তাকে আটক করা হয়েছিল, সেই মামলায় আইনগতভাবে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না—তা নিয়েও জানতে চাইছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, রফিকুল প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও তাকে গ্রেফতারে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। এতে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও দাবি করেছেন।
তবে রফিকুল ইসলামকে আটকের পর কেন ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল, তার বিরুদ্ধে থাকা পরোয়ানাগুলো বর্তমানে কার্যকর রয়েছে কি না এবং এসব বিষয়ে পুলিশের কাছে কী ধরনের নথি বা নির্দেশনা রয়েছে—এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের কেউ কেউ পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নানা ধরনের সন্দেহ প্রকাশ করলেও, আর্থিক লেনদেন, রাজনৈতিক প্রভাব কিংবা প্রশাসনিক ছত্রছায়ার অভিযোগের পক্ষে এই প্রতিবেদনের কাছে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানা পুলিশের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।
আইনজীবী ও ভুক্তভোগী পক্ষের প্রত্যাশা, আদালতের পরোয়ানা বা মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
একই সঙ্গে রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনানুগ পদক্ষেপ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

























