সংবাদ শিরোনাম ::
৪৭তম বিসিএসে যোগ্য প্রার্থীর সংকট, ফাঁকা রইল ২ হাজার ১৬৭টি ক্যাডার পদ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নতুন সভাপতি শিবা শানু, সম্পাদক জয় চৌধুরী অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয় লড়াইয়ে কেপ ভার্দেকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনা রাজধানীর খাজা মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৬ ইউনিট এটিইউ ও সিটিটিসির নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব, বাড়ছে দায়িত্বের পরিধি দেবিদ্বারে অবৈধ ড্রেজারবিরোধী অভিযান, ৩টি ড্রেজার ও ১,৫০০ ফুট পাইপ বিনষ্ট সিরাজুল আলম খানের ১৪ দফাই আগামী বাংলাদেশের রূপরেখা: স্বরূপ হাসান শাহীন চিকিৎসার পাশাপাশি সবুজের বার্তা, চান্দিনায় রোটারি ক্লাবের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে জোর প্রস্তুতিতে ইসি জুমার দিনের বিশেষ ৬টি আমল: যে আমলগুলোতে বাড়ে রহমত, মাগফিরাত ও বরকত

বন্ধ হচ্ছে কারখানা, সংকটে গাজীপুরের শিল্পখাত

গাজীপুর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১১:৪৮:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬ ৪৭ বার পড়া হয়েছে

গাজীপুরে একের পর এক নিভছে শিল্পের বাতি, কর্মহীন হচ্ছেন হাজারো শ্রমিক

রাজধানীর অদূরে অবস্থিত শিল্পনগরী গাজীপুরে একের পর এক পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে পড়ায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন হাজারো শ্রমিক। আর্থিক সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট, ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ার পাশাপাশি শ্রমিক অসন্তোষের কারণে গত এক সপ্তাহে অন্তত ১৩টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

 

 

শিল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি, গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতি এবং উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেক কারখানা লোকসানে চলছিল। এর সঙ্গে শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবিদাওয়া ঘিরে আন্দোলন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

 

 

ফলে অনেক মালিক প্রতিষ্ঠান চালু রাখার পরিবর্তে সাময়িক বা অনির্দিষ্টকালের জন্য উৎপাদন বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

 

সবশেষে গাজীপুর মহানগরের জরুণ এলাকায় অবস্থিত ইসলাম গার্মেন্টস লিমিটেড (ইউনিট-২)-এ এক শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। রুবিনা বেগম নামে এক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা গেলে সহকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

 

 

পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় এবং সম্ভাব্য ভাঙচুর এড়াতে কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ১৩(১) ধারা অনুযায়ী গত ১ জুলাই থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করে। এতে প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক একসঙ্গে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

 

 

স্থানীয় শ্রমিকদের অভিযোগ, হঠাৎ করে কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে। বেতন-বোনাস, বাসাভাড়া, সন্তানের পড়াশোনাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটানো নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

 

 

এদিকে শিল্প খাতে এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে দেশের রপ্তানি আয় এবং অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা দ্রুত সরকার, মালিকপক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে শিল্পকারখানা সচল রাখা এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

 

বন্ধ হচ্ছে কারখানা, সংকটে গাজীপুরের শিল্পখাত

আপডেট সময় : ১১:৪৮:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

গাজীপুরে একের পর এক নিভছে শিল্পের বাতি, কর্মহীন হচ্ছেন হাজারো শ্রমিক

রাজধানীর অদূরে অবস্থিত শিল্পনগরী গাজীপুরে একের পর এক পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে পড়ায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন হাজারো শ্রমিক। আর্থিক সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট, ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ার পাশাপাশি শ্রমিক অসন্তোষের কারণে গত এক সপ্তাহে অন্তত ১৩টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

 

 

শিল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি, গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতি এবং উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেক কারখানা লোকসানে চলছিল। এর সঙ্গে শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবিদাওয়া ঘিরে আন্দোলন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

 

 

ফলে অনেক মালিক প্রতিষ্ঠান চালু রাখার পরিবর্তে সাময়িক বা অনির্দিষ্টকালের জন্য উৎপাদন বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

 

সবশেষে গাজীপুর মহানগরের জরুণ এলাকায় অবস্থিত ইসলাম গার্মেন্টস লিমিটেড (ইউনিট-২)-এ এক শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। রুবিনা বেগম নামে এক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা গেলে সহকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

 

 

পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় এবং সম্ভাব্য ভাঙচুর এড়াতে কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ১৩(১) ধারা অনুযায়ী গত ১ জুলাই থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করে। এতে প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক একসঙ্গে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

 

 

স্থানীয় শ্রমিকদের অভিযোগ, হঠাৎ করে কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে। বেতন-বোনাস, বাসাভাড়া, সন্তানের পড়াশোনাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটানো নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

 

 

এদিকে শিল্প খাতে এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে দেশের রপ্তানি আয় এবং অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা দ্রুত সরকার, মালিকপক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে শিল্পকারখানা সচল রাখা এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।