সংবাদ শিরোনাম ::
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে এনডিএফের বৈজ্ঞানিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হত্যা মামলার আসামি চেয়ারম্যানের সঙ্গে সচিবের বৈঠকের অভিযোগে উত্তেজনা, হেনস্তার শিকার সচিব জুলাই স্মরণে সম্মিলিত নারী প্রয়াসের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত নিখোঁজ বৃদ্ধ দরবেশ আলীর সন্ধান চেয়ে পরিবারের আকুতি শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ, নন এমপিও ভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রতিবাদ গ্রামীণফোনের সাবেক শ্রমিকদের ১৬ বছরের পাওনা পরিশোধের দাবিতে জাতীয় শ্রমিক প্রতিবাদ সমাবেশ প্রাণিসম্পদ খাতে মাঠপর্যায়ে স্থায়ী নিয়োগের দাবিতে এলএসপিদের বিক্ষোভ সমাবেশ অসহায় শিশুদের মুখে হাসি: ৬০ নং ওয়ার্ডে বিনামূল্যে সুন্নাতে খাতনা কর্মসূচি দেবিদ্বারে আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে এনসিপি নেতার বৈঠক নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক, এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া অধ্যাপক ড. মো. মইনুল ইসলাম ও এস. এম. আবদুল্লাহর স্মরণে নাগরিক স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল

গ্রামীণফোনের সাবেক শ্রমিকদের ১৬ বছরের পাওনা পরিশোধের দাবিতে জাতীয় শ্রমিক প্রতিবাদ সমাবেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
  • আপডেট সময় : ০১:৩৮:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬ ৯৭ বার পড়া হয়েছে

গ্রামীণফোনের সাবেক শ্রমিকদের ১৬ বছরের আইনগত পাওনা পরিশোধ, শ্রমিক নির্যাতন বন্ধ, অর্জিত অধিকার সংরক্ষণ এবং শ্রম আইন যথাযথ বাস্তবায়নের দাবিতে ঢাকায় জাতীয় শ্রমিক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে গ্রামীণফোন ৫% বিলম্ব বকেয়া আদায় ঐক্য পরিষদ-এর উদ্যোগে জাতীয় প্রেস ক্লাব এর সামনে  এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

 

এতে দেশের বিভিন্ন জাতীয় শ্রমিক সংগঠনের নেতা-নেত্রী, ট্রেড ইউনিয়নের প্রতিনিধি, শ্রম অধিকারকর্মী, মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা অংশ নেন।

 

সমাবেশে শ্রমিক নেতা বাবুল আক্তার, শ্রমিক নেত্রী কল্পনা আক্তারসহ বিভিন্ন জাতীয় শ্রমিক সংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন। তারা অভিযোগ করেন, গ্রামীণফোনের সাবেক শ্রমিকরা গত ১৬ বছর ধরে তাদের আইনগত পাওনা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।

 

বক্তাদের দাবি, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২৩৪ ও ২৪০(৩) এবং সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী বিলম্বজনিত আইনগত পাওনার পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ৩৩ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা। তবে দীর্ঘমেয়াদি আইনি জটিলতার পরিবর্তে সমঝোতার ভিত্তিতে কর পরিশোধের পর প্রত্যেক শ্রমিককে ১০ কোটি টাকা প্রদানের প্রস্তাব দেন তারা। তাদের মতে, এতে রাষ্ট্র প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা কর রাজস্ব পেতে পারে এবং দীর্ঘদিনের বিরোধেরও অবসান ঘটতে পারে।

 

সমাবেশে বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, গত ১৯ মাস ধরে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সমাধান আসেনি। বরং আন্দোলনকারী শ্রমিকদের বিরুদ্ধে হামলা, হয়রানিমূলক মামলা, গ্রেপ্তার, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে বলে তারা দাবি করেন।

 

এ সময় রিট পিটিশন নং ৮৪৬৪/২০২৬ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, এই রিটের সম্ভাব্য প্রভাব শুধু গ্রামীণফোনের শ্রমিকদের নয়, দেশের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ শ্রমিকদের অর্জিত আইনগত অধিকারেও পড়তে পারে। তারা বিষয়টি আদালত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনার আহ্বান জানান।

 

বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশের শ্রম আইন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ রক্ষার জন্য নয়; বরং দেশের শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার, সুরক্ষা, অংশগ্রহণ এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে প্রণীত। তাই শ্রমিকদের অর্জিত আইনগত অধিকার কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন হওয়া উচিত নয়।

 

সমাবেশ শেষে আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধি দল শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করে। স্মারকলিপিতে গ্রামীণফোনের সাবেক শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের আইনগত পাওনা দ্রুত নিষ্পত্তি, শ্রমিক নির্যাতন ও হয়রানি বন্ধ, শ্রম আইন যথাযথ বাস্তবায়ন এবং রিট পিটিশনের সম্ভাব্য প্রভাব পর্যালোচনার দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে বক্তারা আশা ব্যাক্ত  করে বলেন , সরকার, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সংলাপের মাধ্যমে বিষয়টির একটি ন্যায়সঙ্গত, আইনসম্মত ও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেবেন

 

 

গ্রামীণফোনের সাবেক শ্রমিকদের ১৬ বছরের পাওনা পরিশোধের দাবিতে জাতীয় শ্রমিক প্রতিবাদ সমাবেশ

আপডেট সময় : ০১:৩৮:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

গ্রামীণফোনের সাবেক শ্রমিকদের ১৬ বছরের আইনগত পাওনা পরিশোধ, শ্রমিক নির্যাতন বন্ধ, অর্জিত অধিকার সংরক্ষণ এবং শ্রম আইন যথাযথ বাস্তবায়নের দাবিতে ঢাকায় জাতীয় শ্রমিক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে গ্রামীণফোন ৫% বিলম্ব বকেয়া আদায় ঐক্য পরিষদ-এর উদ্যোগে জাতীয় প্রেস ক্লাব এর সামনে  এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

 

এতে দেশের বিভিন্ন জাতীয় শ্রমিক সংগঠনের নেতা-নেত্রী, ট্রেড ইউনিয়নের প্রতিনিধি, শ্রম অধিকারকর্মী, মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা অংশ নেন।

 

সমাবেশে শ্রমিক নেতা বাবুল আক্তার, শ্রমিক নেত্রী কল্পনা আক্তারসহ বিভিন্ন জাতীয় শ্রমিক সংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন। তারা অভিযোগ করেন, গ্রামীণফোনের সাবেক শ্রমিকরা গত ১৬ বছর ধরে তাদের আইনগত পাওনা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।

 

বক্তাদের দাবি, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২৩৪ ও ২৪০(৩) এবং সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী বিলম্বজনিত আইনগত পাওনার পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ৩৩ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা। তবে দীর্ঘমেয়াদি আইনি জটিলতার পরিবর্তে সমঝোতার ভিত্তিতে কর পরিশোধের পর প্রত্যেক শ্রমিককে ১০ কোটি টাকা প্রদানের প্রস্তাব দেন তারা। তাদের মতে, এতে রাষ্ট্র প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা কর রাজস্ব পেতে পারে এবং দীর্ঘদিনের বিরোধেরও অবসান ঘটতে পারে।

 

সমাবেশে বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, গত ১৯ মাস ধরে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সমাধান আসেনি। বরং আন্দোলনকারী শ্রমিকদের বিরুদ্ধে হামলা, হয়রানিমূলক মামলা, গ্রেপ্তার, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে বলে তারা দাবি করেন।

 

এ সময় রিট পিটিশন নং ৮৪৬৪/২০২৬ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, এই রিটের সম্ভাব্য প্রভাব শুধু গ্রামীণফোনের শ্রমিকদের নয়, দেশের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ শ্রমিকদের অর্জিত আইনগত অধিকারেও পড়তে পারে। তারা বিষয়টি আদালত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনার আহ্বান জানান।

 

বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশের শ্রম আইন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ রক্ষার জন্য নয়; বরং দেশের শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার, সুরক্ষা, অংশগ্রহণ এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে প্রণীত। তাই শ্রমিকদের অর্জিত আইনগত অধিকার কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন হওয়া উচিত নয়।

 

সমাবেশ শেষে আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধি দল শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করে। স্মারকলিপিতে গ্রামীণফোনের সাবেক শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের আইনগত পাওনা দ্রুত নিষ্পত্তি, শ্রমিক নির্যাতন ও হয়রানি বন্ধ, শ্রম আইন যথাযথ বাস্তবায়ন এবং রিট পিটিশনের সম্ভাব্য প্রভাব পর্যালোচনার দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে বক্তারা আশা ব্যাক্ত  করে বলেন , সরকার, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সংলাপের মাধ্যমে বিষয়টির একটি ন্যায়সঙ্গত, আইনসম্মত ও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেবেন