সংবাদ শিরোনাম ::
গ্রামীণফোনের  সাবেক শ্রমিকদের ১৬ বছরের আইনগত পাওনা পরিশোধ,এর দাবিতে চট্টগ্রামে মানববন্ধন গ্রামীণফোনের  সাবেক শ্রমিকদের ১৬ বছরের আইনগত পাওনা পরিশোধ,এর দাবিতে চট্টগ্রামে মানববন্ধন শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির মানববন্ধন ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে এনডিএফের বৈজ্ঞানিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হত্যা মামলার আসামি চেয়ারম্যানের সঙ্গে সচিবের বৈঠকের অভিযোগে উত্তেজনা, হেনস্তার শিকার সচিব জুলাই স্মরণে সম্মিলিত নারী প্রয়াসের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত নিখোঁজ বৃদ্ধ দরবেশ আলীর সন্ধান চেয়ে পরিবারের আকুতি শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ, নন এমপিও ভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রতিবাদ গ্রামীণফোনের সাবেক শ্রমিকদের ১৬ বছরের পাওনা পরিশোধের দাবিতে জাতীয় শ্রমিক প্রতিবাদ সমাবেশ প্রাণিসম্পদ খাতে মাঠপর্যায়ে স্থায়ী নিয়োগের দাবিতে এলএসপিদের বিক্ষোভ সমাবেশ

গ্রামীণফোনের  সাবেক শ্রমিকদের ১৬ বছরের আইনগত পাওনা পরিশোধ,এর দাবিতে চট্টগ্রামে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১১:০৫:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ ৬৯ বার পড়া হয়েছে

গ্রামীণফোনের  সাবেক শ্রমিকদের ১৬ বছরের আইনগত পাওনা পরিশোধ, শ্রমিক নির্যাতন বন্ধ, শ্রম আইন-২০০৬-এর যথাযথ বাস্তবায়ন এবং শ্রমিকদের অর্জিত অধিকার সংরক্ষণের দাবিতে চট্টগ্রামে মানববন্ধন ও মৌন মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেল ৪টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে গ্রামীণফোন ৫% বিলম্ব বকেয়া আদায় ঐক্য পরিষদ, চট্টগ্রাম-এর উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা একটি মৌন মিছিল নিয়ে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

 

মানববন্ধনে গ্রামীণফোনের সাবেক শ্রমিকদের পাশাপাশি মানবাধিকারকর্মী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা দাবি করেন, গ্রামীণফোনের সাবেক শ্রমিকরা গত ১৬ বছর ধরে তাদের আইনগত পাওনা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২৩৪, ২৪০(৩) ও সংশ্লিষ্ট বিধানের আলোকে বিলম্বজনিত আইনগত পাওনার পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ৩৩ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা।
তারা আরও জানান, দীর্ঘমেয়াদি আইনি জটিলতার পরিবর্তে একটি বাস্তবসম্মত ও সম্মানজনক সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি সম্ভব। এ লক্ষ্যে কর পরিশোধের পর প্রত্যেক শ্রমিকের জন্য ১০ কোটি টাকা গ্রহণের প্রস্তাবও তারা তুলে ধরেন। তাদের মতে, এ ধরনের সমঝোতার মাধ্যমে রাষ্ট্র প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা কর রাজস্ব অর্জন করতে পারে।

 

বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ১৯ মাস ধরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চললেও এখনো কার্যকর কোনো সমাধান আসেনি। বরং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে হামলা, হয়রানিমূলক মামলা, গ্রেপ্তার, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে বলে তারা দাবি করেন।
সমাবেশে রিট পিটিশন নং ৮৪৬৪/২০২৬-এর বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

 

বক্তাদের দাবি, শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের আইনগত পাওনা নিষ্পত্তির আগেই দায়ের হওয়া এ রিট শ্রমিকদের অর্জিত অধিকার নিয়ে নতুন প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে তারা রিট আবেদনকারীদের একজনের সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাতের বিষয়টি আদালত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান।
বক্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, রিটের কারণে যদি WPPF/WWF-সংক্রান্ত অর্জিত অধিকার বা ৫ শতাংশ মুনাফাভিত্তিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আসে, তবে তা দেশের বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ শ্রমিকদের আইনগত অধিকারের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

 

মানববন্ধন থেকে গ্রামীণফোনের সাবেক শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের আইনগত পাওনা দ্রুত পরিশোধ, শ্রমিক নির্যাতন ও হয়রানি বন্ধ, শ্রম আইন যথাযথ বাস্তবায়ন এবং শ্রমিকদের অর্জিত অধিকার সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকার, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সংলাপের মাধ্যমে বিষয়টির একটি ন্যায়সঙ্গত, আইনসম্মত ও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেবে।

 

 

গ্রামীণফোনের  সাবেক শ্রমিকদের ১৬ বছরের আইনগত পাওনা পরিশোধ,এর দাবিতে চট্টগ্রামে মানববন্ধন

আপডেট সময় : ১১:০৫:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

গ্রামীণফোনের  সাবেক শ্রমিকদের ১৬ বছরের আইনগত পাওনা পরিশোধ, শ্রমিক নির্যাতন বন্ধ, শ্রম আইন-২০০৬-এর যথাযথ বাস্তবায়ন এবং শ্রমিকদের অর্জিত অধিকার সংরক্ষণের দাবিতে চট্টগ্রামে মানববন্ধন ও মৌন মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেল ৪টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে গ্রামীণফোন ৫% বিলম্ব বকেয়া আদায় ঐক্য পরিষদ, চট্টগ্রাম-এর উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা একটি মৌন মিছিল নিয়ে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

 

মানববন্ধনে গ্রামীণফোনের সাবেক শ্রমিকদের পাশাপাশি মানবাধিকারকর্মী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা দাবি করেন, গ্রামীণফোনের সাবেক শ্রমিকরা গত ১৬ বছর ধরে তাদের আইনগত পাওনা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২৩৪, ২৪০(৩) ও সংশ্লিষ্ট বিধানের আলোকে বিলম্বজনিত আইনগত পাওনার পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ৩৩ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা।
তারা আরও জানান, দীর্ঘমেয়াদি আইনি জটিলতার পরিবর্তে একটি বাস্তবসম্মত ও সম্মানজনক সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি সম্ভব। এ লক্ষ্যে কর পরিশোধের পর প্রত্যেক শ্রমিকের জন্য ১০ কোটি টাকা গ্রহণের প্রস্তাবও তারা তুলে ধরেন। তাদের মতে, এ ধরনের সমঝোতার মাধ্যমে রাষ্ট্র প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা কর রাজস্ব অর্জন করতে পারে।

 

বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ১৯ মাস ধরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চললেও এখনো কার্যকর কোনো সমাধান আসেনি। বরং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে হামলা, হয়রানিমূলক মামলা, গ্রেপ্তার, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে বলে তারা দাবি করেন।
সমাবেশে রিট পিটিশন নং ৮৪৬৪/২০২৬-এর বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

 

বক্তাদের দাবি, শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের আইনগত পাওনা নিষ্পত্তির আগেই দায়ের হওয়া এ রিট শ্রমিকদের অর্জিত অধিকার নিয়ে নতুন প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে তারা রিট আবেদনকারীদের একজনের সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাতের বিষয়টি আদালত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান।
বক্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, রিটের কারণে যদি WPPF/WWF-সংক্রান্ত অর্জিত অধিকার বা ৫ শতাংশ মুনাফাভিত্তিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আসে, তবে তা দেশের বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ শ্রমিকদের আইনগত অধিকারের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

 

মানববন্ধন থেকে গ্রামীণফোনের সাবেক শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের আইনগত পাওনা দ্রুত পরিশোধ, শ্রমিক নির্যাতন ও হয়রানি বন্ধ, শ্রম আইন যথাযথ বাস্তবায়ন এবং শ্রমিকদের অর্জিত অধিকার সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকার, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সংলাপের মাধ্যমে বিষয়টির একটি ন্যায়সঙ্গত, আইনসম্মত ও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেবে।