গ্রামীণফোনের শ্রমিকদের ১৬ বছরের আইনগত পাওনা পরিশোধের দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবে প্রতিবাদ সমাবেশ
- আপডেট সময় : ১১:৩০:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬ ৪৮ বার পড়া হয়েছে
গ্রামীণফোনের শ্রমিকদের ১৬ বছরের আইনগত পাওনা পরিশোধ, অর্জিত শ্রম অধিকার সংরক্ষণ এবং বাংলাদেশ শ্রম আইন বাস্তবায়নের দাবিতে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (২৬ জুলাই) সকাল ১১টায় গ্রামীণফোন ৫% বিলম্ব বকেয়া আদায় ঐক্য পরিষদ-এর উদ্যোগে আয়োজিত এ সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, গ্রামীণফোনের শ্রমিকরা দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে তাদের আইনগতভাবে প্রাপ্য পাওনা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।
বক্তাদের দাবি, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী বিলম্বজনিত আইনগত পাওনার পরিমাণ বর্তমানে প্রত্যেক শ্রমিকের ক্ষেত্রে প্রায় ৩০ কোটি ১৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা (সংগঠনের দাবি অনুযায়ী) দাঁড়িয়েছে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিনের এই বিরোধের শান্তিপূর্ণ ও বাস্তবসম্মত সমাধানের লক্ষ্যে তারা আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তির প্রস্তাব দিয়েছেন। তাদের দাবি, সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান হলে রাষ্ট্র প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা কর রাজস্ব অর্জন করতে পারে এবং দীর্ঘদিনের বিরোধেরও অবসান ঘটবে।
তারা আরও অভিযোগ করেন, টানা ১৯ মাস ধরে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালন করলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি। বরং আন্দোলনরত শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার, হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন বক্তারা।
সমাবেশে রিট পিটিশন নং-৮৪৬৪/২০২৬ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বক্তাদের মতে, ওই রিটের ফলে বাংলাদেশ শ্রম আইন, মোবাইল ফোন অপারেটর খাতের শিল্প-সংক্রান্ত বিধান এবং Workers’ Profit Participation Fund (WPPF) ও Workers’ Welfare Fund (WWF)-সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনি কাঠামোর ওপর প্রভাব পড়তে পারে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এতে শ্রমিকদের অর্জিত অধিকার ক্ষুণ্ন হলে এর নেতিবাচক প্রভাব দেশের অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠানের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ শ্রমিকদের ওপরও পড়বে।
বক্তারা বলেন, শ্রম আইন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ রক্ষার জন্য নয়; বরং দেশের শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার, মুনাফায় অংশগ্রহণ এবং শিল্পে সুস্থ শ্রমসম্পর্ক নিশ্চিত করার জন্য প্রণীত। তাই শ্রমিকদের অর্জিত অধিকার কোনোভাবেই সীমিত করা উচিত নয়।
সমাবেশ থেকে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, গ্রামীণফোনের শ্রমিকদের ৫% WPPF/WWF-সংক্রান্ত বিলম্বজনিত আইনগত পাওনার একটি ন্যায়সঙ্গত ও আইনসম্মত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গ্রামীণফোন লিমিটেডের বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের কাছে লভ্যাংশ বা মুনাফা স্থানান্তরের বিষয়টি প্রচলিত আইন অনুযায়ী পর্যালোচনা করা উচিত।
এছাড়া দেশের সব শিল্প-কারখানার শ্রমিক, ট্রেড ইউনিয়ন, শ্রমিক সংগঠন এবং শ্রম অধিকারকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে শ্রম আইন-সংক্রান্ত রিট পিটিশন নং-৮৪৬৪/২০২৬-এর সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে সচেতন থেকে শ্রমিকদের অর্জিত অধিকার রক্ষায় শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।
সমাবেশের শেষে সরকার, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রতি অবিলম্বে অর্থবহ সংলাপের মাধ্যমে একটি ন্যায়সঙ্গত, আইনসম্মত ও স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানোর দাবি জানানো হয়।























