সংবাদ শিরোনাম :
বীরগঞ্জে বালুমহাল না থাকায় তীব্র বালু সংকট, ধীরগতিতে নির্মাণকাজ যশোরবাসী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ সিসিইউ সেবা পাবে: প্রতিমন্ত্রী অমিত শার্শায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গুলিবর্ষণ, আহত ৬ বীরগঞ্জ-কাহারোলে ২৭৫ মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা, মহাধুমধামে উৎসবের প্রস্তুতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একাধিক ওয়ারেন্টের পরও রফিকুল মুক্তি, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ভরণপোষণ না দেওয়া ও হত্যার হুমকি, যশোরে ছেলের বিরুদ্ধে মায়ের মামলা দেবিদ্বারে আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বিজন সাহা গ্রেপ্তার বীরগঞ্জে কে এফ টি কবিরাজহাট ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন তেলের পরিমাপে কারচুপি ও মজুত প্রতিরোধে জয়পুরহাটে অভিযান দেবিদ্বারে সরকারি সার ডিলার প্রস্তাবে ছাত্রলীগ নেতার নাম, এলাকায় সমালোচনা

বালুর অভাবে সরকারি-বেসরকারি নির্মাণকাজে ধীরগতি, দূরবর্তী এলাকা থেকে অতিরিক্ত খরচে বালু আনছেন ঠিকাদার ও ব্যবসায়ীরা।

বীরগঞ্জে বালুমহাল না থাকায় তীব্র বালু সংকট, ধীরগতিতে নির্মাণকাজ

রনজিৎ সরকার রাজ, স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ০৪:৪২:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ২৫১৮ বার পড়া হয়েছে
dailydinlipi24.com অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে ঘোষিত কোনো বালুমহাল না থাকায় বেশ কিছুদিন ধরে তীব্র বালু সংকট দেখা দিয়েছে। এতে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন নির্মাণকাজে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। বালু সংগ্রহে দূরবর্তী এলাকা থেকে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বালু আনতে হওয়ায় নির্মাণ ব্যয়ও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

স্থানীয়দের দাবি, বীরগঞ্জে আত্রাই নদীর শতগ্রাম ইউনিয়নের বলদিয়াপাড়া ও সুজালপুরের মাকড়াই এলাকায় বালুমহাল/বালুঘাটের ইজারা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই এ সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এর আগে নদী খননের মাধ্যমে উত্তোলন করা বালু সহজে পাওয়া গেলেও ২০২৩-২৪ সালের পর উত্তোলন করা বালু ইজারার মাধ্যমে অপসারণ করা হয়। পরবর্তীতে বালুমহাল না থাকায় স্থানীয়ভাবে নির্মাণকাজের জন্য প্রয়োজনীয় বালু সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়ে।
এতে সরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সড়ক নির্মাণকাজেও প্রভাব পড়েছে। বালু সংকটের কারণে অনেক প্রকল্পের কাজ ধীরগতিতে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঠিকাদার ও ব্যবসায়ীরা।
বীরগঞ্জের কাশিপুর মৌজার ৩৯১, ৩৯২ ও ৩৯৫ নম্বর দাগে আত্রাই নদীর পশ্চিম তীর থেকে পূর্ব তীরের দক্ষিণ দিকে প্রায় এক কিলোমিটার বিস্তৃত বালুচরকে সম্ভাবনাময় বালুমহাল হিসেবে উল্লেখ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সাল থেকে সোহেল রানা, প্রযত্নে মোশাররফ হোসেন, ওই এলাকাকে সরকারি বালুমহাল ঘোষণার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করে আসছেন। এরই মধ্যে প্রস্তাবিত বালুমহালের যৌথ সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। বালুমহাল সৃজন এবং মধ্যবর্তী সময়ে ইজারা নেওয়ার বিষয়ে ১৪৬৮৯/২৫ নম্বর রিটও করা হয়েছে, যা বর্তমানে চলমান।
বীরগঞ্জ ঠিকাদার সমিতির সভাপতি আব্দুল বাসেত ও সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসানসহ ঠিকাদার সিরাজুল ইসলাম, আব্দুর রহমান ও আলম হোসেন বলেন, বালুর তীব্র সংকটের কারণে সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ বিভিন্ন নির্মাণকাজ বাস্তবায়নে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
ব্যবসায়ী ফরিদ হোসেন, মজিবর রহমান, সাজেদুর রহমান ও হামিদুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়ভাবে বালু না পাওয়ায় দূরবর্তী এলাকা থেকে বেশি ভাড়া দিয়ে বালু আনতে হচ্ছে। এতে নির্মাণকাজের ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। একই ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছেন সড়ক পাকাকরণ কাজের ঠিকাদার শহিদুল ইসলাম।

 

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও বালু সংকটের কারণে সরকারি-বেসরকারি নির্মাণকাজে সমস্যার কথা জানিয়েছেন। নিজপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান আনিস, মোহনপুর ইউপি চেয়ারম্যান শাহীনুর রহমান চৌধুরী শাহিন, শতগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান, পাল্টাপুর ইউপি চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম, সুজালপুর ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম, শিবরামপুর ইউপি চেয়ারম্যান সত্যজিৎ রায় কার্তিক, পলাশবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমেদ সিদ্দিকী মানিক এবং বীরগঞ্জ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র মেহেদি হাসান সংকট নিরসনে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বালু সংকট নিরসনে গত ৬ সেপ্টেম্বর দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কাছে পুনরায় আবেদন করা হয়েছে। সেখানে আত্রাই নদীর সম্ভাবনাময় ওই বালুচরকে দ্রুত বালুমহাল ঘোষণার জন্য জাতীয় সংসদ সদস্যের ডিও লেটারও দাখিল করা হয়েছে।

 

জেলা প্রশাসনের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জানে আলম আবেদন ও এমপির ডিও লেটার পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত এর সুরাহা করা হবে।
এ বিষয়ে দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মনজুরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, বালু সংকটের কারণে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বিঘ্নের বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। জনস্বার্থে বালুর প্রাপ্যতা সহজ করতে আবেদন করা কাশিপুরের বালুচরটি বালুমহাল ঘোষণার কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য জেলা প্রশাসককে ডিও লেটারের মাধ্যমে অনুরোধ করেছেন। প্রক্রিয়া চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়ে আবেদনকারীকে ইজারা দেওয়ার বিষয়েও তিনি অনুরোধ জানিয়েছেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত প্রস্তাবিত কাশিপুর বালুমহাল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

 

বালুর অভাবে সরকারি-বেসরকারি নির্মাণকাজে ধীরগতি, দূরবর্তী এলাকা থেকে অতিরিক্ত খরচে বালু আনছেন ঠিকাদার ও ব্যবসায়ীরা।

বীরগঞ্জে বালুমহাল না থাকায় তীব্র বালু সংকট, ধীরগতিতে নির্মাণকাজ

আপডেট সময় : ০৪:৪২:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে ঘোষিত কোনো বালুমহাল না থাকায় বেশ কিছুদিন ধরে তীব্র বালু সংকট দেখা দিয়েছে। এতে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন নির্মাণকাজে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। বালু সংগ্রহে দূরবর্তী এলাকা থেকে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বালু আনতে হওয়ায় নির্মাণ ব্যয়ও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

স্থানীয়দের দাবি, বীরগঞ্জে আত্রাই নদীর শতগ্রাম ইউনিয়নের বলদিয়াপাড়া ও সুজালপুরের মাকড়াই এলাকায় বালুমহাল/বালুঘাটের ইজারা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই এ সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এর আগে নদী খননের মাধ্যমে উত্তোলন করা বালু সহজে পাওয়া গেলেও ২০২৩-২৪ সালের পর উত্তোলন করা বালু ইজারার মাধ্যমে অপসারণ করা হয়। পরবর্তীতে বালুমহাল না থাকায় স্থানীয়ভাবে নির্মাণকাজের জন্য প্রয়োজনীয় বালু সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়ে।
এতে সরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সড়ক নির্মাণকাজেও প্রভাব পড়েছে। বালু সংকটের কারণে অনেক প্রকল্পের কাজ ধীরগতিতে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঠিকাদার ও ব্যবসায়ীরা।
বীরগঞ্জের কাশিপুর মৌজার ৩৯১, ৩৯২ ও ৩৯৫ নম্বর দাগে আত্রাই নদীর পশ্চিম তীর থেকে পূর্ব তীরের দক্ষিণ দিকে প্রায় এক কিলোমিটার বিস্তৃত বালুচরকে সম্ভাবনাময় বালুমহাল হিসেবে উল্লেখ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সাল থেকে সোহেল রানা, প্রযত্নে মোশাররফ হোসেন, ওই এলাকাকে সরকারি বালুমহাল ঘোষণার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করে আসছেন। এরই মধ্যে প্রস্তাবিত বালুমহালের যৌথ সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। বালুমহাল সৃজন এবং মধ্যবর্তী সময়ে ইজারা নেওয়ার বিষয়ে ১৪৬৮৯/২৫ নম্বর রিটও করা হয়েছে, যা বর্তমানে চলমান।
বীরগঞ্জ ঠিকাদার সমিতির সভাপতি আব্দুল বাসেত ও সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসানসহ ঠিকাদার সিরাজুল ইসলাম, আব্দুর রহমান ও আলম হোসেন বলেন, বালুর তীব্র সংকটের কারণে সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ বিভিন্ন নির্মাণকাজ বাস্তবায়নে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
ব্যবসায়ী ফরিদ হোসেন, মজিবর রহমান, সাজেদুর রহমান ও হামিদুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়ভাবে বালু না পাওয়ায় দূরবর্তী এলাকা থেকে বেশি ভাড়া দিয়ে বালু আনতে হচ্ছে। এতে নির্মাণকাজের ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। একই ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছেন সড়ক পাকাকরণ কাজের ঠিকাদার শহিদুল ইসলাম।

 

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও বালু সংকটের কারণে সরকারি-বেসরকারি নির্মাণকাজে সমস্যার কথা জানিয়েছেন। নিজপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান আনিস, মোহনপুর ইউপি চেয়ারম্যান শাহীনুর রহমান চৌধুরী শাহিন, শতগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান, পাল্টাপুর ইউপি চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম, সুজালপুর ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম, শিবরামপুর ইউপি চেয়ারম্যান সত্যজিৎ রায় কার্তিক, পলাশবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমেদ সিদ্দিকী মানিক এবং বীরগঞ্জ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র মেহেদি হাসান সংকট নিরসনে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বালু সংকট নিরসনে গত ৬ সেপ্টেম্বর দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কাছে পুনরায় আবেদন করা হয়েছে। সেখানে আত্রাই নদীর সম্ভাবনাময় ওই বালুচরকে দ্রুত বালুমহাল ঘোষণার জন্য জাতীয় সংসদ সদস্যের ডিও লেটারও দাখিল করা হয়েছে।

 

জেলা প্রশাসনের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জানে আলম আবেদন ও এমপির ডিও লেটার পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত এর সুরাহা করা হবে।
এ বিষয়ে দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মনজুরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, বালু সংকটের কারণে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বিঘ্নের বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। জনস্বার্থে বালুর প্রাপ্যতা সহজ করতে আবেদন করা কাশিপুরের বালুচরটি বালুমহাল ঘোষণার কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য জেলা প্রশাসককে ডিও লেটারের মাধ্যমে অনুরোধ করেছেন। প্রক্রিয়া চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়ে আবেদনকারীকে ইজারা দেওয়ার বিষয়েও তিনি অনুরোধ জানিয়েছেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত প্রস্তাবিত কাশিপুর বালুমহাল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।