বীরগঞ্জে ফলন্ত বেগুন ক্ষেতে বিষ প্রয়োগ, লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি
- আপডেট সময় : ০৭:৪৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
- / ২৫৩১ বার পড়া হয়েছে
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার পাল্টাপুর ইউনিয়নের ছয়ঘটি মৌজায় প্রায় এক একর ফলন্ত বেগুন ক্ষেতে দুর্বৃত্তরা ঘাস মারা শক্তিশালী তরল বিষ প্রয়োগ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ফলসহ অধিকাংশ বেগুন গাছ মরে গেছে। কৃষকের দাবি, এতে লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মৃত মোফাজ উদ্দিনের ছেলে মো. দুলাল হোসেন জানান, তিনি একই এলাকার হাজি গোলাম মোস্তফার কাছ থেকে জমিটি বন্ধক নিয়ে বেগুন চাষ করে আসছিলেন। ২৮ অক্টোবর দিবাগত রাতে কোনো দুর্বৃত্ত বা দুর্বৃত্তের দল বেগুন ক্ষেতে বিষ প্রয়োগ করে। পরদিন ২৯ অক্টোবর দুপুরে তিনি ক্ষেতে গিয়ে বিষয়টি দেখতে পান।
স্থানীয়রা ধারণা করছেন, পূর্বশত্রুতা বা প্রতিহিংসার কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে। তবে কে বা কারা বিষ প্রয়োগ করেছে সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকও।
দুলাল হোসেন আরও জানান, এর আগে জমিটি হাজি গোলাম মোস্তফার এক আপন ভাগিনার কাছে বন্ধক ছিল এবং তিনি ওই জমিতে চাষাবাদ করতেন। বর্তমানে হাজি গোলাম মোস্তফা ও তার ভাগিনার মধ্যে পারিবারিক বিরোধ চলছে বলেও তিনি জানান। তবে এ ঘটনার সঙ্গে ওই বিরোধের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা তিনি নিশ্চিত নন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জমির প্রায় প্রতিটি বেগুন গাছে থোকায় থোকায় বেগুন ধরেছে। কিন্তু বিষ প্রয়োগের কারণে বেগুনসহ অধিকাংশ গাছ শুকিয়ে মরে গেছে। কোথাও কোথাও গাছ মরে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
স্থানীয় কৃষি বিভাগের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্ষেতে দ্রুত পানি সেচ দেওয়ার পরামর্শ দেন। কৃষক দুলাল হোসেন জানান, পরামর্শ অনুযায়ী ক্ষেতে পানি দেওয়া হলেও এতে কোনো ফল হয়নি।
এ ঘটনায় বীরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত করেছে।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম এবং চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শরিফ মেম্বারসহ স্থানীয় অনেকে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পূর্বশত্রুতার কারণে এমন ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। পুলিশ ঘটনাস্থল তদন্ত করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

















