১৬ বছরের ৫% বকেয়া পাওনা নিষ্পত্তির দাবিতে সাবেক গ্রামীণফোন কর্মীদের বিক্ষোভ
- আপডেট সময় : ০৯:৩৫:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
- / ২৫৩৭ বার পড়া হয়েছে
২০১০–২০১২ সালের ৫ শতাংশ Workers’ Participation Fund (WPPF) ও Workers’ Welfare Fund (WWF)-এর বিলম্বজনিত আইনগত পাওনা দ্রুত ও আইনসংগতভাবে নিষ্পত্তির দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করেছেন গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
শনিবার (৩ অক্টোবর) আয়োজিত কর্মসূচিতে আন্দোলনকারীরা বলেন, প্রায় ১৬ বছর ধরে তাঁরা এ পাওনা নিয়ে অপেক্ষা করছেন। দ্রুত নিষ্পত্তির দাবিতে ২০২৪ সালের ২ ডিসেম্বর থেকে তাঁরা ধারাবাহিক শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে আসছেন।
আন্দোলনকারীদের দাবি, ২০১০–২০১২ সালের মূল WPPF অর্থ পরিশোধের বিষয় এবং দীর্ঘ বিলম্বের কারণে আইনগতভাবে প্রাপ্য অতিরিক্ত অর্থের দাবি দুটি পৃথক বিষয়। তাঁদের ভাষ্য, মূল অর্থ বিতরণ হলেও দীর্ঘ বিলম্বের আর্থিক ও আইনগত পরিণতি এবং এ-সংক্রান্ত দাবির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।
এ সময় তাঁরা বলেন, দীর্ঘ ২১ মাসেরও বেশি সময় ধরে শান্তিপূর্ণভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় প্রেসক্লাব, গ্রামীণফোনের প্রধান কার্যালয় ও গ্রামীণ টেলিকমসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ, মানববন্ধন, অবস্থান কর্মসূচি, সংবাদ সম্মেলন, স্মারকলিপি, গণস্বাক্ষর ও গণসংযোগ কর্মসূচি রয়েছে।
‘আমরা সংঘাত চাই না, সমাধান চাই’
কর্মসূচিতে সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলেন, ‘আমরা কোনো সংঘাত চাই না। আমরা চাই সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে কার্যকর সংলাপ, জবাবদিহি এবং ৫ শতাংশ বিলম্বজনিত পাওনার দ্রুত, স্বচ্ছ ও আইনসংগত নিষ্পত্তি।’
তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি পাওনা অনিষ্পন্ন থাকায় সাবেক কর্মীদের পরিবার, আর্থিক নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ওপরও প্রভাব পড়ছে।
আদালতের প্রতি সম্মান, সংলাপেরও দাবি
আন্দোলনকারীরা জানান, তাঁরা চলমান বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান রাখেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে কার্যকর সংলাপের মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য ও আইনসংগত সমাধানের পথ খোলা রাখার দাবি জানিয়েছেন।
তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত কোনো আদালতের চূড়ান্ত রায়ে ৫ শতাংশ বিলম্বজনিত দাবির পূর্ণ আর্থিক পরিমাণ নির্ধারিত হয়নি। তাই তাঁদের উপস্থাপিত অর্থের হিসাবকে তাঁরা আদালত নির্ধারিত চূড়ান্ত পাওনা নয়, বরং দাবিকৃত পাওনা হিসেবে উল্লেখ করছেন।
৩৩ হাজার ১৪৭ কোটি টাকার দাবি
সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংগঠনের হিসাব অনুযায়ী, দীর্ঘ সময়ের বিলম্ব বিবেচনায় তাঁদের দাবিকৃত মোট পাওনার পরিমাণ প্রায় ৩৩ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা।
তবে সংগঠনটি বলেছে, এ অর্থ কোনো আদালত কর্তৃক নির্ধারিত চূড়ান্ত অর্থ নয়; এটি আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে উপস্থাপিত হিসাবভিত্তিক দাবি। বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতা প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে বলে তাঁরা জানান।
তিন দফা দাবি
বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে তিনটি মূল দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো—
১. ২০১০–২০১২ সালের ৫ শতাংশ WPPF/WWF-এর বিলম্বজনিত দাবিকৃত পাওনা দ্রুত নির্ধারণ ও আইনসংগতভাবে নিষ্পত্তি করতে হবে।
২. দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসানে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে কার্যকর ও অর্থবহ সংলাপে বসতে হবে।
৩. আর সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত, মর্যাদাপূর্ণ, গ্রহণযোগ্য ও টেকসই সমাধানের জন্য দৃশ্যমান উদ্যোগ নিতে হবে।
আন্দোলনকারীরা বলেন, ‘১৬ বছরের অপেক্ষা যথেষ্ট হয়েছে। ২১ মাসেরও বেশি সময় ধরে আন্দোলনও যথেষ্ট দীর্ঘ হয়েছে। আমরা প্রতিশ্রুতি নয়, কার্যকর উদ্যোগ চাই। সংঘাত নয়, সংলাপ চাই।’
দাবি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের শান্তিপূর্ণ ও আইনসংগত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানান সাবেক গ্রামীণফোন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

















