সড়ক দুর্ঘটনায় আহত বাকপ্রতিবন্ধী নারীকে হাসপাতালে ভর্তি না করার অভিযোগ; পরে শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকরা উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন
দেবিদ্বারে হাসপাতালে ভর্তি না দিয়ে ময়লার ভাগাড়ের পাশে আহত নারীকে ফেলে রাখার অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৮:৪৮:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ২৫১৪ বার পড়া হয়েছে
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত এক বাকপ্রতিবন্ধী নারীকে হাসপাতালে ভর্তি না করে ময়লার ভাগাড়ের পাশে ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মুহিবুস সালাম খান ও জরুরি বিভাগের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ডা. সাইফুল ইসলাম শুভর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) রাতে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। পরে রাত ১০টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছাত্র প্রতিনিধি সিয়াম ইসলামের নেতৃত্বে কয়েকজন শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিক ওই নারীকে হাসপাতালের ময়লার ভাগাড়ের পাশ থেকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (২৩ অক্টোবর) রাত ১টার দিকে দেবিদ্বার পৌর এলাকার ভিংলাবাড়ি এলাকা থেকে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত অবস্থায় ওই নারীকে উদ্ধার করেন দেবিদ্বার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অজয় চক্রবর্তী। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হলেও ভর্তি করা হয়নি বলে অভিযোগ। পরে তিনি হাসপাতালের ভেতরে অবস্থান করছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে তাকে হাসপাতালের বারান্দায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।
অভিযোগ রয়েছে, ওই দিন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিদর্শন দল হাসপাতালে আসবে—এমন কারণে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মুহিবুস সালাম খান ওই নারীকে হাসপাতালের বাইরে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা তাকে ময়লার ভাগাড়ের পাশে রেখে আসেন বলে অভিযোগ ওঠে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রায় তিন দিন ধরে অসুস্থ অবস্থায় ওই নারী ময়লার ভাগাড়ের পাশে পড়ে ছিলেন। বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় তিনি নিজের নাম-পরিচয় কিংবা স্বজনদের বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারছিলেন না।
বিষয়টি সাংবাদিকদের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর শুক্রবার রাতে স্থানীয়ভাবে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পরে শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় ওই নারী নিজের পরিচয় কিংবা স্বজনদের বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারছিলেন না। পুলিশ তাকে সরকারি হাসপাতালে দিয়ে আসে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি না করে ময়লার ভাগাড়ের পাশে ফেলে রাখার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছাত্র প্রতিনিধি সিয়াম ইসলাম বলেন, মানুষ হিসেবে ওই রোগীর সেবা করা উচিত ছিল। হাসপাতালে আনার পর তাকে ময়লার ভাগাড়ের পাশে ফেলে রাখা অমানবিক। খবর পেয়ে তারা তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে জরুরি বিভাগের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ডা. সাইফুল ইসলাম শুভ বলেন, পুলিশ ওই নারীকে হাসপাতালে নিয়ে আসলে তিনি ব্যথা ও গ্যাসের ইনজেকশন দেন। পুলিশ চলে যাওয়ায় তাকে ভর্তি দেওয়া হয়নি। পরে তিনি বাইরে ছিলেন। এরপর কী হয়েছে, তা তিনি জানেন না বলে জানান।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মুহিবুস সালাম খান বলেন, অসুস্থ নারীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি ওই নারীকে হাসপাতালের বাইরে ফেলে দিতে বলেননি বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, ওই নারীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও দেখভালের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট সমাজসেবা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


























