সংবাদ শিরোনাম :
হিজড়া জনগোষ্ঠীর ভাতা বিষয়ক সামাজিক নিরীক্ষার প্রতিবেদন নিয়ে গণশুনানি বেনাপোলে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে যুবদল-স্বেচ্ছাসেবক দল-ছাত্রদলের মিছিল যশোরে ট্রেনের ধাক্কায় ইজিবাইকের দুই যাত্রী নিহত গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মীদের ৫% বিলম্বজনিত পাওনা এখন আন্তর্জাতিক নজরে দেবিদ্বারে হাসপাতালে ভর্তি না দিয়ে ময়লার ভাগাড়ের পাশে আহত নারীকে ফেলে রাখার অভিযোগ বীরগঞ্জে বালুমহাল না থাকায় তীব্র বালু সংকট, ধীরগতিতে নির্মাণকাজ যশোরবাসী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ সিসিইউ সেবা পাবে: প্রতিমন্ত্রী অমিত শার্শায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গুলিবর্ষণ, আহত ৬ বীরগঞ্জ-কাহারোলে ২৭৫ মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা, মহাধুমধামে উৎসবের প্রস্তুতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একাধিক ওয়ারেন্টের পরও রফিকুল মুক্তি, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

১৬ বছরের ৫% বিলম্বজনিত পাওনা নিষ্পত্তির দাবিতে ২১ মাস ধরে আন্দোলন করছেন গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা; নরওয়ের NCP-তে অভিযোগের একটি অংশ পর্যালোচনার জন্য গ্রহণ করা হয়েছে।

গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মীদের ৫% বিলম্বজনিত পাওনা এখন আন্তর্জাতিক নজরে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১২:১৯:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ২৫১৩ বার পড়া হয়েছে
dailydinlipi24.com অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গ্রামীণফোনের ৫% পাওনা নিয়ে ২১ মাস ধরে আন্দোলন
১৬ বছরের ৫% পাওনা, ২১ মাসের আন্দোলন: গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মীদের দাবি আন্তর্জাতিক নজরে।

গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ২০১০–২০১২ সালের WPPF/WWF-সংক্রান্ত বিলম্বজনিত ৫ শতাংশ পাওনা নিষ্পত্তির দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চলছে। সাবেক কর্মীদের দাবি, ১৬ বছর ধরে ঝুলে থাকা এই পাওনা নিষ্পত্তির দাবিতে গত ২১ মাস ধরে তারা ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করছেন।
আন্দোলনকারীরা বলছেন, এটি শুধু আর্থিক পাওনার বিষয় নয়; দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা শ্রমিকদের আইনগত অধিকার ও পাওনা নিষ্পত্তির বিষয়ও এর সঙ্গে জড়িত। তাদের দাবি, দীর্ঘ বিলম্বের কারণে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী পাওনা দ্রুত নির্ধারণ ও পরিশোধ করতে হবে।

 

সাবেক কর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২ ডিসেম্বর থেকে তাদের ধারাবাহিক আন্দোলন নতুন মাত্রা পায়। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান কর্মসূচি, মানববন্ধন, বিক্ষোভ, সংবাদ সম্মেলন, স্মারকলিপি প্রদান, গণস্বাক্ষর ও গণসংযোগসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়।

 

আন্দোলনকারীরা গ্রামীণফোনের প্রধান কার্যালয়, জাতীয় প্রেস ক্লাবসহ বিটিআরসি, এনবিআর ও বিএসইসির মতো সংশ্লিষ্ট সরকারি ও নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানের কাছেও স্মারকলিপি ও আবেদন করেছেন বলে জানানো হয়েছে।
৩৩ হাজার ১৪৭ কোটি টাকার দাবি
সাবেক কর্মীদের সংগঠনের দাবি, বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী দীর্ঘ সময়ের বিলম্বজনিত পাওনার পরিমাণ প্রায় ৩৩ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা। তবে এই অঙ্ক আদালত কর্তৃক নির্ধারিত চূড়ান্ত পাওনা নয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

এদিকে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে একটি সমঝোতা প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। প্রযোজ্য কর কর্তনের পর প্রত্যেক যোগ্য সুবিধাভোগীকে ১০ কোটি টাকা করে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে এটিও আদালত নির্ধারিত পাওনার পরিমাণ নয়; এটি আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি সমঝোতা প্রস্তাব।

 

গ্রামীণফোনের বক্তব্য গ্রামীণফোনের অবস্থান অনুযায়ী, ২০১০–২০১২ সালের মূল WPPF অর্থ আদালতের অনুমতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ট্রাস্টি বোর্ডে স্থানান্তর ও বিতরণ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, পরবর্তী সুদ বা অতিরিক্ত অর্থসংক্রান্ত দাবিগুলো আদালতে বিচারাধীন এবং আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এসব দাবির নিষ্পত্তি হওয়া উচিত।

অন্যদিকে সাবেক কর্মীদের দাবি, মূল অর্থ বিতরণ করা হলেও দীর্ঘ বিলম্বের কারণে আইন অনুযায়ী প্রাপ্য অতিরিক্ত অর্থের বিষয়টি এখনো নিষ্পত্তি হয়নি।
নরওয়ের NCP-তে অভিযোগ
দীর্ঘদিনের এই বিরোধে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও একটি প্রক্রিয়া যুক্ত হয়েছে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ নরওয়ের National Contact Point for Responsible Business Conduct (NCP) গ্রামীণফোনের সাবেক ২১ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ট্রেড ইউনিয়ন নেতার করা অভিযোগের একটি অংশ পরবর্তী পর্যালোচনার জন্য গ্রহণ করেছে।

অভিযোগটি গ্রামীণফোনের সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ারহোল্ডার Telenor ASA-এর বিরুদ্ধে করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, গ্রামীণফোনের ক্ষেত্রে OECD Guidelines for Multinational Enterprises on Responsible Business Conduct অনুযায়ী Telenor-এর যথাযথ তদারকি ও দায়িত্বশীলতার ভূমিকা থাকা উচিত ছিল।
নরওয়ের NCP অভিযোগটির একটি অংশ নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপ ও মধ্যস্থতার সুযোগ তৈরির জন্য ‘good offices’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

তবে অভিযোগ গ্রহণ বা পর্যালোচনার অর্থ কোনো অনিয়ম বা দায় প্রমাণিত হওয়া নয়। NCP আদালত নয় এবং এর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো কোম্পানির বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ বা আইনগত দায় চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হয় না।
সাবেক কর্মীরা বলছেন, ১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ৫ শতাংশ বিলম্বজনিত পাওনার বিষয়টি দ্রুত, আইনসম্মত ও গ্রহণযোগ্যভাবে নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন।

 

 

১৬ বছরের ৫% বিলম্বজনিত পাওনা নিষ্পত্তির দাবিতে ২১ মাস ধরে আন্দোলন করছেন গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা; নরওয়ের NCP-তে অভিযোগের একটি অংশ পর্যালোচনার জন্য গ্রহণ করা হয়েছে।

গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মীদের ৫% বিলম্বজনিত পাওনা এখন আন্তর্জাতিক নজরে

আপডেট সময় : ১২:১৯:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গ্রামীণফোনের ৫% পাওনা নিয়ে ২১ মাস ধরে আন্দোলন
১৬ বছরের ৫% পাওনা, ২১ মাসের আন্দোলন: গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মীদের দাবি আন্তর্জাতিক নজরে।

গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ২০১০–২০১২ সালের WPPF/WWF-সংক্রান্ত বিলম্বজনিত ৫ শতাংশ পাওনা নিষ্পত্তির দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চলছে। সাবেক কর্মীদের দাবি, ১৬ বছর ধরে ঝুলে থাকা এই পাওনা নিষ্পত্তির দাবিতে গত ২১ মাস ধরে তারা ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করছেন।
আন্দোলনকারীরা বলছেন, এটি শুধু আর্থিক পাওনার বিষয় নয়; দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা শ্রমিকদের আইনগত অধিকার ও পাওনা নিষ্পত্তির বিষয়ও এর সঙ্গে জড়িত। তাদের দাবি, দীর্ঘ বিলম্বের কারণে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী পাওনা দ্রুত নির্ধারণ ও পরিশোধ করতে হবে।

 

সাবেক কর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২ ডিসেম্বর থেকে তাদের ধারাবাহিক আন্দোলন নতুন মাত্রা পায়। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান কর্মসূচি, মানববন্ধন, বিক্ষোভ, সংবাদ সম্মেলন, স্মারকলিপি প্রদান, গণস্বাক্ষর ও গণসংযোগসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়।

 

আন্দোলনকারীরা গ্রামীণফোনের প্রধান কার্যালয়, জাতীয় প্রেস ক্লাবসহ বিটিআরসি, এনবিআর ও বিএসইসির মতো সংশ্লিষ্ট সরকারি ও নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানের কাছেও স্মারকলিপি ও আবেদন করেছেন বলে জানানো হয়েছে।
৩৩ হাজার ১৪৭ কোটি টাকার দাবি
সাবেক কর্মীদের সংগঠনের দাবি, বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী দীর্ঘ সময়ের বিলম্বজনিত পাওনার পরিমাণ প্রায় ৩৩ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা। তবে এই অঙ্ক আদালত কর্তৃক নির্ধারিত চূড়ান্ত পাওনা নয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

এদিকে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে একটি সমঝোতা প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। প্রযোজ্য কর কর্তনের পর প্রত্যেক যোগ্য সুবিধাভোগীকে ১০ কোটি টাকা করে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে এটিও আদালত নির্ধারিত পাওনার পরিমাণ নয়; এটি আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি সমঝোতা প্রস্তাব।

 

গ্রামীণফোনের বক্তব্য গ্রামীণফোনের অবস্থান অনুযায়ী, ২০১০–২০১২ সালের মূল WPPF অর্থ আদালতের অনুমতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ট্রাস্টি বোর্ডে স্থানান্তর ও বিতরণ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, পরবর্তী সুদ বা অতিরিক্ত অর্থসংক্রান্ত দাবিগুলো আদালতে বিচারাধীন এবং আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এসব দাবির নিষ্পত্তি হওয়া উচিত।

অন্যদিকে সাবেক কর্মীদের দাবি, মূল অর্থ বিতরণ করা হলেও দীর্ঘ বিলম্বের কারণে আইন অনুযায়ী প্রাপ্য অতিরিক্ত অর্থের বিষয়টি এখনো নিষ্পত্তি হয়নি।
নরওয়ের NCP-তে অভিযোগ
দীর্ঘদিনের এই বিরোধে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও একটি প্রক্রিয়া যুক্ত হয়েছে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ নরওয়ের National Contact Point for Responsible Business Conduct (NCP) গ্রামীণফোনের সাবেক ২১ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ট্রেড ইউনিয়ন নেতার করা অভিযোগের একটি অংশ পরবর্তী পর্যালোচনার জন্য গ্রহণ করেছে।

অভিযোগটি গ্রামীণফোনের সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ারহোল্ডার Telenor ASA-এর বিরুদ্ধে করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, গ্রামীণফোনের ক্ষেত্রে OECD Guidelines for Multinational Enterprises on Responsible Business Conduct অনুযায়ী Telenor-এর যথাযথ তদারকি ও দায়িত্বশীলতার ভূমিকা থাকা উচিত ছিল।
নরওয়ের NCP অভিযোগটির একটি অংশ নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপ ও মধ্যস্থতার সুযোগ তৈরির জন্য ‘good offices’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

তবে অভিযোগ গ্রহণ বা পর্যালোচনার অর্থ কোনো অনিয়ম বা দায় প্রমাণিত হওয়া নয়। NCP আদালত নয় এবং এর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো কোম্পানির বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ বা আইনগত দায় চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হয় না।
সাবেক কর্মীরা বলছেন, ১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ৫ শতাংশ বিলম্বজনিত পাওনার বিষয়টি দ্রুত, আইনসম্মত ও গ্রহণযোগ্যভাবে নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন।