সংবাদ শিরোনাম :
দেবিদ্বারে কৃষি জমিতে অবৈধ ড্রেজারের থাবা, উজাড় হচ্ছে ফসলি মাঠ হিজড়া জনগোষ্ঠীর ভাতা বিষয়ক সামাজিক নিরীক্ষার প্রতিবেদন নিয়ে গণশুনানি বেনাপোলে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে যুবদল-স্বেচ্ছাসেবক দল-ছাত্রদলের মিছিল যশোরে ট্রেনের ধাক্কায় ইজিবাইকের দুই যাত্রী নিহত গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মীদের ৫% বিলম্বজনিত পাওনা এখন আন্তর্জাতিক নজরে দেবিদ্বারে হাসপাতালে ভর্তি না দিয়ে ময়লার ভাগাড়ের পাশে আহত নারীকে ফেলে রাখার অভিযোগ বীরগঞ্জে বালুমহাল না থাকায় তীব্র বালু সংকট, ধীরগতিতে নির্মাণকাজ যশোরবাসী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ সিসিইউ সেবা পাবে: প্রতিমন্ত্রী অমিত শার্শায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গুলিবর্ষণ, আহত ৬ বীরগঞ্জ-কাহারোলে ২৭৫ মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা, মহাধুমধামে উৎসবের প্রস্তুতি

দেবিদ্বারে কৃষি জমিতে অবৈধ ড্রেজারের থাবা, উজাড় হচ্ছে ফসলি মাঠ

জহির মারুফ, কুমিল্লা
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৫:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ২৫১৬ বার পড়া হয়েছে
dailydinlipi24.com অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার গুনাইঘর এলাকায় কৃষিজমি থেকে অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে। এতে ফসলি জমি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে আশপাশের কৃষিজমি। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের অভিযান ও নিষেধাজ্ঞার পরও ফের ড্রেজার চালানো হচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, উপজেলার ৯ নম্বর উত্তর গুনাইঘর ও ১০ নম্বর দক্ষিণ গুনাইঘর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ড্রেজার মেশিন দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কৃষিজমি থেকে মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ৯ নম্বর উত্তর গুনাইঘর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ধলাহাস পুকুরপাড়ে আলমের বাড়ির পাশ থেকে উত্তর দিকে মরিচাকান্দা খালের পাশের কৃষি মাঠে মাটি কাটার কার্যক্রম চলছে বলে স্থানীয়রা জানান। এছাড়া ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রামপুর মাদ্রাসার পশ্চিম দিকে এবং বনকুট খোকন মুন্সির বাড়ির পূর্ব পাশের কৃষি মাঠেও ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটার অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া ৭ নম্বর ওয়ার্ডের গুনাইঘর পাঁচকুড়ি মুন্সিবাড়ির পশ্চিমে ও লাউয়াডুগির পূর্ব পাশের কৃষি মাঠেও একইভাবে মাটি উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে ১০ নম্বর দক্ষিণ গুনাইঘর ইউনিয়নের গুনাইঘর বাজারের দক্ষিণ পাশে পদ্মকোট যাওয়ার পথে বনকুট খোকন মুন্সির বাড়ির পূর্ব পাশের কৃষি মাঠেও ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
১০ নম্বর দক্ষিণ গুনাইঘর ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য জানান, উজানী জোড়া গ্রামের মনির মেম্বারের বাড়ির পাশে কৃষিজমি থেকে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলন করা হচ্ছিল। কয়েক দিন আগে উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে মেশিন ভাঙচুর করে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। কিন্তু একদিন না যেতেই প্রশাসনের বাধা উপেক্ষা করে ফের ড্রেজার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ওই ইউপি সদস্য আরও বলেন, স্থানীয়দের মধ্যে কেউ কেউ বলছেন প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করেই ড্রেজার চালানো হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে তার কাছে কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ নেই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মো. ফুল মিয়া, মো. জাকির হোসেন, মো. বাবুল মিয়া ও মো. কামরুল ইসলাম মুন্সির নেতৃত্বে এসব মাটি কাটার কার্যক্রম চলছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
কৃষকদের অভিযোগ, ড্রেজার দিয়ে গভীর করে মাটি উত্তোলনের কারণে পাশের জমির মাটি ধসে পড়ছে। ফলে অনেক জমি আবাদ অনুপযোগী হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটার কারণে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ও কৃষিজমির ক্ষতির আশঙ্কাও করছেন তারা।
ভুক্তভোগী কয়েকজন কৃষক জানান, মাটি কাটার কাজে বাধা দিতে গেলে তাদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। দ্রুত এসব ড্রেজার বন্ধ করে কৃষিজমি রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, কৃষিজমিতে ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটা সম্পূর্ণ অবৈধ। লিখিত অভিযোগ পেলে সরেজমিনে তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :

দেবিদ্বারে কৃষি জমিতে অবৈধ ড্রেজারের থাবা, উজাড় হচ্ছে ফসলি মাঠ

আপডেট সময় : ০৪:৩৫:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার গুনাইঘর এলাকায় কৃষিজমি থেকে অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে। এতে ফসলি জমি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে আশপাশের কৃষিজমি। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের অভিযান ও নিষেধাজ্ঞার পরও ফের ড্রেজার চালানো হচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, উপজেলার ৯ নম্বর উত্তর গুনাইঘর ও ১০ নম্বর দক্ষিণ গুনাইঘর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ড্রেজার মেশিন দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কৃষিজমি থেকে মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ৯ নম্বর উত্তর গুনাইঘর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ধলাহাস পুকুরপাড়ে আলমের বাড়ির পাশ থেকে উত্তর দিকে মরিচাকান্দা খালের পাশের কৃষি মাঠে মাটি কাটার কার্যক্রম চলছে বলে স্থানীয়রা জানান। এছাড়া ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রামপুর মাদ্রাসার পশ্চিম দিকে এবং বনকুট খোকন মুন্সির বাড়ির পূর্ব পাশের কৃষি মাঠেও ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটার অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া ৭ নম্বর ওয়ার্ডের গুনাইঘর পাঁচকুড়ি মুন্সিবাড়ির পশ্চিমে ও লাউয়াডুগির পূর্ব পাশের কৃষি মাঠেও একইভাবে মাটি উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে ১০ নম্বর দক্ষিণ গুনাইঘর ইউনিয়নের গুনাইঘর বাজারের দক্ষিণ পাশে পদ্মকোট যাওয়ার পথে বনকুট খোকন মুন্সির বাড়ির পূর্ব পাশের কৃষি মাঠেও ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
১০ নম্বর দক্ষিণ গুনাইঘর ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য জানান, উজানী জোড়া গ্রামের মনির মেম্বারের বাড়ির পাশে কৃষিজমি থেকে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলন করা হচ্ছিল। কয়েক দিন আগে উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে মেশিন ভাঙচুর করে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। কিন্তু একদিন না যেতেই প্রশাসনের বাধা উপেক্ষা করে ফের ড্রেজার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ওই ইউপি সদস্য আরও বলেন, স্থানীয়দের মধ্যে কেউ কেউ বলছেন প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করেই ড্রেজার চালানো হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে তার কাছে কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ নেই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মো. ফুল মিয়া, মো. জাকির হোসেন, মো. বাবুল মিয়া ও মো. কামরুল ইসলাম মুন্সির নেতৃত্বে এসব মাটি কাটার কার্যক্রম চলছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
কৃষকদের অভিযোগ, ড্রেজার দিয়ে গভীর করে মাটি উত্তোলনের কারণে পাশের জমির মাটি ধসে পড়ছে। ফলে অনেক জমি আবাদ অনুপযোগী হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটার কারণে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ও কৃষিজমির ক্ষতির আশঙ্কাও করছেন তারা।
ভুক্তভোগী কয়েকজন কৃষক জানান, মাটি কাটার কাজে বাধা দিতে গেলে তাদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। দ্রুত এসব ড্রেজার বন্ধ করে কৃষিজমি রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, কৃষিজমিতে ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটা সম্পূর্ণ অবৈধ। লিখিত অভিযোগ পেলে সরেজমিনে তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।