সৌদি আরবে বাংলাদেশি প্রবাসী লোকমান আটক, পরিবারের উদ্বেগ ও মুক্তির দাবি
- আপডেট সময় : ১১:২৯:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
- / ২৫১৭ বার পড়া হয়েছে
সৌদি আরবে বাংলাদেশি প্রবাসী মো. লোকমান মিয়াকে সাইবার-সংক্রান্ত অভিযোগে আটক করে কারাগারে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেছে তার পরিবার। দীর্ঘদিন ধরে তার অবস্থান, শারীরিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য না পাওয়ায় চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে পরিবারটি।
পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মো. লোকমান মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার তেলীনগর গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতার নাম মৃত নজরুল ইসলাম। জীবিকার সন্ধানে ২০২১ সালে বৈধ ওয়ার্ক ভিসায় সৌদি আরবে যান তিনি। সেখানে একটি ওয়ার্কশপে কাজ করতেন এবং নিয়মিত পরিবারের কাছে অর্থ পাঠাতেন বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।
পরিবারের দাবি, সৌদি আরবে অবস্থানকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন অনিয়ম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে মতামত প্রকাশ করতেন লোকমান। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
স্বজনদের ভাষ্য, ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই সৌদি আরবের সিআইডি পুলিশ লোকমানকে আটক করে। পরে তাকে সাইবার-সংক্রান্ত মামলায় কারাগারে পাঠানো হয় বলে পরিবার জানিয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, মামলার ধারা, আদালতের কার্যক্রম এবং বর্তমানে তিনি কোথায় আছেন—এসব বিষয়ে পরিবার পর্যাপ্ত তথ্য পাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে।
লোকমান কোথায়, কেমন আছেন—জানতে চায় পরিবার
লোকমানের বর্তমান অবস্থান ও নিরাপত্তা নিয়েই পরিবারের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ। স্বজনদের দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে তারা তার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে যোগাযোগ করতে পারছেন না। ফলে তিনি কোথায় আছেন, কেমন আছেন এবং তার মামলার বর্তমান অবস্থা কী—এসব বিষয়ে তারা নির্ভরযোগ্য তথ্য চান।
পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা কোনো বিশেষ সুবিধা বা বেআইনি ছাড় দাবি করছে না। তাদের দাবি, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মামলার প্রকৃত অবস্থা জানানো, লোকমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তিনি আইনগতভাবে মুক্তির যোগ্য হলে তাকে মুক্তি দেওয়া হোক।
বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা চায় পরিবার
লোকমানের পরিবার বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতা চেয়েছে।
পরিবারের দাবি, কূটনৈতিক ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লোকমানের বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত করা হোক। তার বিরুদ্ধে মামলা হয়ে থাকলে অভিযোগের ধরন, মামলার বিবরণ ও আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে পরিবারকে জানানো এবং আইনজীবীর মাধ্যমে যথাযথ আইনি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা হোক।
একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার যোগাযোগের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনার দাবি জানিয়েছে তারা।
প্রবাসী সমাজের প্রতি আহ্বান
লোকমানের পরিবার বাংলাদেশি প্রবাসী সমাজ, মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোর প্রতি বিষয়টি যাচাইযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনার আহ্বান জানিয়েছে।
তবে পরিবার কোনো গুজব, মিথ্যা তথ্য, উসকানিমূলক বক্তব্য বা আইনবিরোধী কর্মসূচি না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, বিষয়টি শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মতভাবে তুলে ধরাই কার্যকর পথ।
পরিবারের সাত দফা দাবি
লোকমান মিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে—
১. তার বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত করা।
২. তার শারীরিক নিরাপত্তা ও মানবিক অধিকার নিশ্চিত করা।
৩. মামলার সুনির্দিষ্ট তথ্য পরিবারকে জানানো।
৪. আইনজীবীর মাধ্যমে যথাযথ আইনি সহায়তার সুযোগ নিশ্চিত করা।
৫. পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া।
৬. বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করা।
৭. আইনগতভাবে মুক্তির যোগ্য হলে দ্রুত তাকে মুক্তি দেওয়া।
পরিবারের সদস্যরা বলছেন, তাদের মূল প্রশ্ন একটাই—লোকমান কোথায় আছেন, কেমন আছেন এবং তার বিরুদ্ধে আসলে কী অভিযোগ রয়েছে?
এদিকে, লোকমানের বিরুদ্ধে সৌদি কর্তৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, মামলার ধারা, আদালতের নথি কিংবা বর্তমান কারাবন্দিত্বের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সরকারি নথি এই প্রতিবেদন প্রস্তুত পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট সৌদি কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ দূতাবাস, আইনজীবী বা মামলার অন্য কোনো পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণের আগে তাকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত না করে ন্যায্য আইনি প্রক্রিয়া, স্বচ্ছতা, মানবিক আচরণ এবং পরিবারের জানার অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে লোকমানের পরিবার।



























