দেবিদ্বারে যুবদল নেতাকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৯:৫৩:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
- / ২৫১৯ বার পড়া হয়েছে
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা যুবদলের সহ-সভাপতি (বর্তমানে বহিষ্কৃত) আবদুল হাই কায়সারকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুর ২টায় দেবিদ্বার রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ওই সাবেক যুবদল নেতা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আব্দুল হাই কায়সার বলেন, গত ২৯ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টায় দেবিদ্বার থানার এসআই মো. ইসমাইল হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ এলাহাবাদ ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামে তাঁর ফার্ম হাউজের কার্যালয়ে প্রবেশ করে। ওই সময় তিনি স্থানীয় কয়েক জনের সাথে একটি সালিশি বিষয়ে আলোচনা করছিলেন। তার কার্যালয়ে পুলিশি উপস্থিতির কারণ জানতে চাইলে পুলিশ জানায় ৯৯৯-এ অভিযোগের ভিত্তিতে তারা ফার্ম হাউজে এসেছে।
তিনি আরো বলেন, “আমার ছোট ভাই পুলিশি হয়রানীর ভিডিওচিত্র ধারণ করতে গেলে এসআই ইসমাইল সবার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন এবং দরজার ছিটকিনি আটকে দেন। দীর্ঘ সময় পর ওসি মো. মনিরুজ্জামান ঘটনাস্থলে পৌঁছে আমাদের সাথে থাকা এক স্থানীয় বিএনপি নেতাকে ছেড়ে দেন। পরে কোন উপযুক্ত কারণ ছাড়াই ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ৭ দিনের কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে আমাদের জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়।” ওই ঘটনায় ওসির ঘনিষ্ঠ সহচর ও সোর্স কাইয়ুমের সাঁজানো পরিকল্পনায় হয়েছে বলে সাবেক যুবদল নেতা কাউছার দাবি করে তিনি বলেন, সোর্স কাইয়ুম এর সাথে পূর্ব বিরোধের জের ধরে সে আমাকে ফাঁদে ফেলার পুরো ষড়যন্ত্রের ছক এঁকেছিল।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পুলিশ প্রশাসন ও ওসির এই সাজানো অভিযানের ওপর ভিত্তি করে কোনো নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়াই আমাকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়, যা আমার দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও রাজনৈতিক পথচলাকে সারা দেশে হেয় প্রতিপন্ন করেছে।”
সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল হাই কায়সার ঘটনার সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে নেওয়া রাজনৈতিক বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়ে ভবিষ্যতে যেন আর কেউ এভাবে প্রশাসনের সাজানো ষড়যন্ত্রের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন। এছাড়া এই ঘটনায় দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান এর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশের হেডকোয়ার্টার্স অভিযোগ সেল এ লিখিত অভিযোগ করবেন বলেও জানান আবদুল হাই কায়সার।
এ ব্যাপারে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শ্রীপুর গ্রামে একটি মুরগীর খামার থেকে কাউছারসহ তিনজনকে আটক করা হয় এবং তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতেই ভ্রাম্যমান আদালত তাদের শাস্তি প্রদান করেন।
উল্লেখ্য- গত ২৯ সেপ্টেম্বর মাদক সেবনের অভিযোগে উপজেলা যুবদলের সহ-সভাপতি আবদুল হাই কায়সারকে ভ্রাম্যমান আদালত ৭ দিনের কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে জেলহাজতে প্রেরণের পর ওই রাতেই তার প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করে জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি


























