সংবাদ শিরোনাম :
স্বামীর মৃত্যুর ১৫ মিনিট আগে সন্তানের জন্ম, বাবার মুখ দেখার আগেই এতিম নবজাতক নবীনগরে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা রক্তাক্ত ২৮ অক্টোবর: লগি-বৈঠা সংঘর্ষের ২০ বছর আজ বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে এক দম্পতি ও তাদের দুই বছর বয়সী সন্তান দেশে ফিরেছেন। দেবিদ্বারে গ্যাস ফিল্ডে ডাকাতির ঘটনায় গা‌ড়িসহ ৫ ডাকাত গ্রেপ্তার ১৬ বছরের অপেক্ষা, ৭ সহকর্মীর মৃত্যু: গ্রামীণ টেলিকম ভবনের সামনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কাস্টমস বন্দরের কার্যক্রম শুরু : টানা ছুটি শেষে কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে বেনাপোল বন্দরে তিতাসে কলাকান্দি ইউপি নির্বাচনে দুই বিএনপি নেতার সৌজন্য সাক্ষাৎ, ত্যাগীদের মূল্যায়নের দাবি কুমিল্লার ১৮তম মিডিয়া ক্রিকেট টুর্নামেন্টের জার্সি ও ট্রফি উন্মোচন যশোরের শার্শায় প্রকাশ্যে পিস্তল প্রদর্শনের অভিযোগ, এলাকায় আতঙ্ক থানায় জিডি

স্বামীর মৃত্যুর ১৫ মিনিট আগে সন্তানের জন্ম, বাবার মুখ দেখার আগেই এতিম নবজাতক

মনির হোসেন, বেনাপোল, শার্শা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০১:০১:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২৫১৪ বার পড়া হয়েছে
dailydinlipi24.com অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যে ঘরে নতুন অতিথির আগমনে আনন্দে মেতে ওঠার কথা, সেই ঘরেই নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সন্তানের মুখ দেখার আগেই না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন বাবা। স্বামীর মৃত্যুর মাত্র ১৫ মিনিট আগে এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেন স্ত্রী। বাবার স্নেহ পাওয়ার আগেই পিতৃহারা হলো নবজাতকটি। মর্মান্তিক এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে যশোরের শার্শা উপজেলার একটি গ্রামে।

 

ঘটনাটি ঘটেছে শার্শা উপজেলার উলাশি ইউনিয়নের কন্যাদাহ গ্রামে। নিহত হাবিবুর রহমান (২৫) ওই গ্রামের হযরত আলীর ছেলে। তাঁর স্ত্রী মিম খাতুন (১৭) পার্শ্ববর্তী সেতাই গ্রামের ফারুক হোসেনের মেয়ে। হাবিবুর বেনাপোল বন্দরে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।

 

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ অক্টোবর তীব্র জ্বর ও শারীরিক জটিলতা নিয়ে হাবিবুর বাগআঁচড়ার একটি স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি হন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে প্রথমে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার মগবাজারের রাজমনু হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

 

এদিকে, স্বামীর সুস্থ হয়ে ফেরার অপেক্ষায় থাকা অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী মিম খাতুন প্রসববেদনা নিয়ে বাগআঁচড়া নার্সিং হোম ক্লিনিকে ভর্তি ছিলেন। স্বামীর মৃত্যুর খবর পৌঁছানোর মাত্র ১৫ মিনিট আগে তিনি একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন।

একদিকে নবজাতকের প্রথম কান্না, অন্যদিকে প্রিয়জনকে হারানোর শোক—মুহূর্তেই আনন্দের বদলে পরিবারটিতে নেমে আসে বিষাদের ছায়া। যে সন্তানের জন্মের খবর শুনে বাবার আনন্দে আত্মহারা হওয়ার কথা, সেই সন্তানের মুখ দেখার সুযোগই হলো না তাঁর।
প্রসূতির শারীরিক অবস্থা ও মানসিক আঘাতের কথা বিবেচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে স্বামীর মৃত্যুর খবর জানানো হয়নি। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ছেলেকে হারিয়ে ভেঙে পড়েন বাবা হযরত আলীসহ পরিবারের সদস্যরা।
শোকাহত হযরত আলী বলেন, “আমার বুকজুড়ে আজ শুধু শূন্যতা। একদিকে আমার আদরের ছেলেটা চলে গেল, অন্যদিকে ঘরে এল নতুন প্রাণ। কোনটাকে কীভাবে মেনে নেব, বুঝতে পারছি না। আমার এতিম নাতিটার দিকে তাকালেই বুক ফেটে কান্না আসে।”

হাবিবুরের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটির ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। বাবার স্নেহ-ভালোবাসা পাওয়ার আগেই জন্মদাতা বাবাকে হারানো শিশুটির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বজন ও স্থানীয়রা। তাঁরা শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং নবজাতকের সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য দোয়া করেছেন।

 

পরে সোমবার সকাল ১১টায় জানাজা শেষে হাবিবুর রহমানকে স্থানীয় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

 

স্বামীর মৃত্যুর ১৫ মিনিট আগে সন্তানের জন্ম, বাবার মুখ দেখার আগেই এতিম নবজাতক

আপডেট সময় : ০১:০১:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

যে ঘরে নতুন অতিথির আগমনে আনন্দে মেতে ওঠার কথা, সেই ঘরেই নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সন্তানের মুখ দেখার আগেই না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন বাবা। স্বামীর মৃত্যুর মাত্র ১৫ মিনিট আগে এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেন স্ত্রী। বাবার স্নেহ পাওয়ার আগেই পিতৃহারা হলো নবজাতকটি। মর্মান্তিক এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে যশোরের শার্শা উপজেলার একটি গ্রামে।

 

ঘটনাটি ঘটেছে শার্শা উপজেলার উলাশি ইউনিয়নের কন্যাদাহ গ্রামে। নিহত হাবিবুর রহমান (২৫) ওই গ্রামের হযরত আলীর ছেলে। তাঁর স্ত্রী মিম খাতুন (১৭) পার্শ্ববর্তী সেতাই গ্রামের ফারুক হোসেনের মেয়ে। হাবিবুর বেনাপোল বন্দরে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।

 

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ অক্টোবর তীব্র জ্বর ও শারীরিক জটিলতা নিয়ে হাবিবুর বাগআঁচড়ার একটি স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি হন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে প্রথমে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার মগবাজারের রাজমনু হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

 

এদিকে, স্বামীর সুস্থ হয়ে ফেরার অপেক্ষায় থাকা অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী মিম খাতুন প্রসববেদনা নিয়ে বাগআঁচড়া নার্সিং হোম ক্লিনিকে ভর্তি ছিলেন। স্বামীর মৃত্যুর খবর পৌঁছানোর মাত্র ১৫ মিনিট আগে তিনি একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন।

একদিকে নবজাতকের প্রথম কান্না, অন্যদিকে প্রিয়জনকে হারানোর শোক—মুহূর্তেই আনন্দের বদলে পরিবারটিতে নেমে আসে বিষাদের ছায়া। যে সন্তানের জন্মের খবর শুনে বাবার আনন্দে আত্মহারা হওয়ার কথা, সেই সন্তানের মুখ দেখার সুযোগই হলো না তাঁর।
প্রসূতির শারীরিক অবস্থা ও মানসিক আঘাতের কথা বিবেচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে স্বামীর মৃত্যুর খবর জানানো হয়নি। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ছেলেকে হারিয়ে ভেঙে পড়েন বাবা হযরত আলীসহ পরিবারের সদস্যরা।
শোকাহত হযরত আলী বলেন, “আমার বুকজুড়ে আজ শুধু শূন্যতা। একদিকে আমার আদরের ছেলেটা চলে গেল, অন্যদিকে ঘরে এল নতুন প্রাণ। কোনটাকে কীভাবে মেনে নেব, বুঝতে পারছি না। আমার এতিম নাতিটার দিকে তাকালেই বুক ফেটে কান্না আসে।”

হাবিবুরের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটির ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। বাবার স্নেহ-ভালোবাসা পাওয়ার আগেই জন্মদাতা বাবাকে হারানো শিশুটির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বজন ও স্থানীয়রা। তাঁরা শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং নবজাতকের সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য দোয়া করেছেন।

 

পরে সোমবার সকাল ১১টায় জানাজা শেষে হাবিবুর রহমানকে স্থানীয় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।