১৬ বছরের অপেক্ষা, ৭ সহকর্মীর মৃত্যু: গ্রামীণ টেলিকম ভবনের সামনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন
- আপডেট সময় : ১২:২৫:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
- / ২৫৫৮ বার পড়া হয়েছে
গ্রামীণফোনের সাবেক ও বর্তমান কর্মীদের ২০১০–২০১২ সালের শ্রমিকদের অংশগ্রহণ তহবিল (WPPF) ও শ্রমিক কল্যাণ তহবিল (WWF)-সংক্রান্ত ৫ শতাংশ বিলম্বজনিত বকেয়া পাওনা পরিশোধের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে গ্রামীণফোন ৫% বিলম্ব বকেয়া আদায় ঐক্য পরিষদ।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত গ্রামীণ টেলিকম ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন সাবেক ও বর্তমান শ্রমিকরা।
ঐক্য পরিষদের দাবি, প্রায় ১৬ বছর ধরে অমীমাংসিত এই পাওনা আদায়ের দাবিতে ২০২৪ সালের ২ ডিসেম্বর থেকে ধারাবাহিকভাবে শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত আন্দোলন চলছে। বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান, মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও আলোচনার আহ্বান জানানো হলেও এখনো কার্যকর সমাধান মেলেনি।
পাওনা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় সাত সহকর্মীর মৃত্যু
ঐক্য পরিষদ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে পাওনা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় তাদের সাতজন সহকর্মী মারা গেছেন। জীবদ্দশায় তারা নিজেদের দাবি নিষ্পত্তি হতে দেখে যেতে পারেননি। এতে তাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও অনিশ্চয়তা ও হতাশা তৈরি হয়েছে বলে সংগঠনটি জানায়।
প্রায় ৩৩ হাজার কোটি টাকার পাওনা দাবি
ঐক্য পরিষদের উপস্থাপিত হিসাব অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের মোট দাবিকৃত পাওনার পরিমাণ প্রায় ৩৩ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা। সংগঠনটির দাবি, পাওনার মাত্র ০.০৩ শতাংশ হিসেবে প্রায় ১০ কোটি টাকা দিলেই একটি সমঝোতার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া তাদের হিসাব ও প্রাক্কলন অনুযায়ী, বিষয়টি নিষ্পত্তি হলে সরকার প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা রাজস্ব পেতে পারে।
তবে এসব অর্থের পরিমাণ ও হিসাব সংগঠনটির নিজস্ব দাবি ও প্রাক্কলন। সংশ্লিষ্ট নথি, হিসাব এবং প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী তা যাচাই করে চূড়ান্ত পরিমাণ নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছে ঐক্য পরিষদ।
ADR বা আরবিট্রেশনের মাধ্যমে সমাধানের পরামর্শ
ঐক্য পরিষদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাদের ২৯ জুলাই ২০২৬ তারিখের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) লিগ্যাল শাখা গত ২৪ সেপ্টেম্বর গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ঐক্য পরিষদের আহ্বায়কের কাছে চিঠি পাঠায়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বিষয়টি নিয়ে উচ্চ ও নিম্ন আদালতে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। আদালতের মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তি অথবা দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে উভয় পক্ষের সম্মতি এবং আদালতের প্রয়োজনীয় অনুমতি সাপেক্ষে আরবিট্রেশন কিংবা বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (ADR) প্রক্রিয়ায় সমাধানের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ঐক্য পরিষদ মনে করে, বিটিআরসির এ পরামর্শের ভিত্তিতে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। সংগঠনটি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান, গৃহীত পদক্ষেপ এবং নিষ্পত্তির সম্ভাব্য সময়সূচি প্রকাশের দাবি জানিয়েছে।
ছয় দফা দাবি
কর্মসূচি থেকে ঐক্য পরিষদ ছয়টি দাবি তুলে ধরে। এগুলো হলো—
১. ২০১০–২০১২ সালের WPPF ও WWF-সংক্রান্ত ৫ শতাংশ বিলম্বজনিত পাওনার দ্রুত, স্বচ্ছ ও আইনসম্মত নিষ্পত্তি।
২. বিটিআরসির চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে গৃহীত পদক্ষেপ এবং ADR বা আরবিট্রেশনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান প্রকাশ।
৩. উভয় পক্ষের ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি নির্ধারণ করে আদালতের প্রয়োজনীয় অনুমতি সাপেক্ষে আলোচনার সময়সূচি ঘোষণা।
৪. দাবিকৃত পাওনা ও সম্ভাব্য সরকারি রাজস্বের হিসাব সংশ্লিষ্ট নথির ভিত্তিতে যাচাই করে নিষ্পত্তির কাঠামো নির্ধারণ।
৫. প্রয়াত সাত সহকর্মীর পরিবারের দাবি এবং সংশ্লিষ্ট সব শ্রমিকের বিষয় নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা।
৬. সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে জমা দেওয়া স্মারকলিপির বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপ ও অগ্রগতি আবেদনকারীদের জানানো।
ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক আবু সাদাত মো. শোয়েব বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছরের অপেক্ষা এবং সাত সহকর্মীকে হারানোর বেদনা শ্রমিকদের জন্য অসহনীয় হয়ে উঠেছে। তারা আর অনির্দিষ্ট অপেক্ষা করতে চান না; বরং আলোচনার নির্দিষ্ট তারিখ, নিষ্পত্তির সময়সূচি এবং বাস্তব অগ্রগতি দেখতে চান।
সংগঠনটি জানায়, ন্যায়সংগত সমাধান না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও আইনসম্মত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।



























