মৃত্যুর আগে ভিডিওতে শিক্ষকের নাম, শার্শায় প্রবাসীর স্ত্রীর আত্মহত্যা
- আপডেট সময় : ০২:২০:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
- / ২৫২৩ বার পড়া হয়েছে
যশোরের শার্শা উপজেলায় চম্পা খাতুন (৩০) নামে এক প্রবাসীর স্ত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত্যুর আগে মোবাইল ফোনে ধারণ করা একটি ভিডিওতে স্থানীয় এক শিক্ষককে দায়ী করেছেন বলে দাবি করেছেন নিহতের স্বজনরা। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক কবির হোসেনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বেলা ৩টার দিকে উপজেলার কায়বা ইউনিয়নের ধান্যতাড়া গ্রামে স্বামীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। চম্পা ওই গ্রামের প্রবাসী মিন্টু গাজীর স্ত্রী এবং পার্শ্ববর্তী ভবানীপুর গ্রামের মৃত আহাদ আলীর মেয়ে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৬ বছর আগে মিন্টু গাজীর সঙ্গে চম্পার বিয়ে হয়। তাদের ১২ বছর বয়সী এক প্রতিবন্ধী মেয়ে ও ছয় বছরের একটি ছেলে রয়েছে। জীবিকার প্রয়োজনে প্রায় পাঁচ বছর আগে মিন্টু গাজী প্রবাসে যান।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, স্বামী প্রবাসে থাকার সময় স্থানীয় শিক্ষক কবির হোসেনের সঙ্গে চম্পার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায় চার বছর ধরে এ সম্পর্ক চলছিল বলে দাবি পরিবারের। এ সময় বিয়ের আশ্বাস দিয়ে চম্পা ও তার স্বামীর পাঠানো বিভিন্ন অঙ্কের টাকা নেওয়ার অভিযোগও করেছেন স্বজনরা। সম্প্রতি বিয়েতে অস্বীকৃতি জানিয়ে কবির যোগাযোগ বন্ধ করে দেন বলে তাদের দাবি।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার দিন সকালে চম্পা অসুস্থ হয়ে পড়লে ফোনে বিষয়টি তার ভাইকে জানান। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বাগআঁচড়ার একটি স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে নাভারণ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্বজনদের দাবি, মৃত্যুর আগে ধারণ করা ভিডিও বার্তায় চম্পা তার মৃত্যুর জন্য শিক্ষক কবির হোসেনকে দায়ী করেন। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, “সে আমার সব শেষ করেছে। আমার মৃত্যুর জন্য একমাত্র কবির দায়ী, আর কেউ নয়।” তবে ভিডিওটির সত্যতা ও ঘটনার পেছনের কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
নিহতের ফুপা আমিরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন রাত ১০টার দিকে তারা মামলা করতে থানায় গেলেও তাৎক্ষণিকভাবে মামলা হয়নি। পরে বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষে পরদিন দুপুর ১টার দিকে নিহতের ভাই তরিকুল ইসলাম বাদী হয়ে শার্শা থানায় মামলা করেন। মামলায় শিক্ষক কবির হোসেনসহ দুজনকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



























