সংবাদ শিরোনাম :
শাহপরীর গোলারচরে ৯০ হাজার ইয়াবা জব্দ, পালাল পাচারকারীরা দুর্গাপূজায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে: সিলেটের জেলা প্রশাসক বীরগঞ্জে ধানক্ষেত থেকে কিশোরের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩০টি হারানো মোবাইল উদ্ধার, মালিকদের হাতে তুলে দিল পুলিশ ১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান চেয়ে জিপি হাউজের সামনে সাবেক গ্রামীণফোন কর্মীদের বিক্ষোভ চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ৬নং ওয়ার্ডে মশক নিধন অভিযান দেবিদ্বারে বাজার মনিটরিং, ৮ মামলায় ২৮ হাজার টাকা জরিমানা রাজশাহী প্রেসক্লাবকে জড়িয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ, মামলার প্রস্তুতি কক্সবাজারে ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার উখিয়ায় ৩০ হাজার ইয়াবাসহ দুই রোহিঙ্গা আটক

১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান চেয়ে জিপি হাউজের সামনে সাবেক গ্রামীণফোন কর্মীদের বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০২:১৯:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২৫৩০ বার পড়া হয়েছে
dailydinlipi24.com অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

২০১০–২০১২ সালের ৫ শতাংশ Workers’ Participation Fund (WPPF) ও Workers’ Welfare Fund (WWF)-সংক্রান্ত বিলম্বজনিত পাওনা দ্রুত, স্বচ্ছ ও আইনসম্মতভাবে নিষ্পত্তির দাবিতে জিপি হাউজের সামনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মীরা।

 

বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত গ্রামীণফোন ৫% বিলম্ব বকেয়া আদায় ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

 

ঐক্য পরিষদের দাবি, প্রায় ১৬ বছর ধরে সাবেক কর্মীদের পাওনার বিষয়টি অনিষ্পন্ন রয়েছে। ২০২৪ সালের ২ ডিসেম্বর থেকে তারা ধারাবাহিকভাবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে আসছেন। মানববন্ধন, বিক্ষোভ, স্মারকলিপি প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেও কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।
পরিষদের নেতারা বলেন, দীর্ঘদিন পাওনা অনিষ্পন্ন থাকায় সাবেক কর্মী ও তাদের পরিবারের মধ্যে আর্থিক অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপ তৈরি হয়েছে। তাই দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির আইনসম্মত ও স্বচ্ছ সমাধান চান তারা।

 

গ্রামীণ টেলিকমের বিরুদ্ধে স্মারকলিপি না নেওয়ার অভিযোগ
ঐক্য পরিষদ জানায়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর গ্রামীণ টেলিকমের সামনে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ও মানববন্ধন শেষে প্রতিষ্ঠানটির কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এতে দীর্ঘদিনের বিরোধ নিরসনে কার্যকর ভূমিকা, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপ এবং স্বচ্ছ হিসাব যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছিল।

 

তবে গ্রামীণ টেলিকম কর্তৃপক্ষ স্মারকলিপি গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ করেছে পরিষদ। এ ঘটনায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে তারা বলেন, সাবেক কর্মীদের লিখিত বক্তব্য গ্রহণ করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
পরিচালনা পর্ষদের জবাবদিহি দাবি
পাওনা নিষ্পত্তিতে গ্রামীণফোনের পরিচালনা পর্ষদের ভূমিকা ও সিদ্ধান্ত সম্পর্কে প্রকাশ্য জবাবদিহি দাবি করেছে ঐক্য পরিষদ।
তাদের দাবি, ২০১০–২০১২ সালের বিলম্বজনিত পাওনা নিষ্পত্তিতে এ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তার বাস্তবায়নের অগ্রগতি কী এবং পাওনা যাচাই ও পরিশোধের সম্ভাব্য সময়সীমা কত—এসব বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ করতে হবে।
এ ছাড়া সাবেক কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার সময়সূচি নির্ধারণেরও দাবি জানানো হয়।

 

৬ দফা দাবি
কর্মসূচি থেকে ঐক্য পরিষদ ছয় দফা দাবি তুলে ধরে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
১. ২০১০–২০১২ সালের ৫% WPPF/WWF-সংক্রান্ত বিলম্বজনিত পাওনা দ্রুত, স্বচ্ছ ও আইনসম্মতভাবে নিষ্পত্তি করা।
২. গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ, গ্রামীণ টেলিকম ও সাবেক কর্মীদের প্রতিনিধিদের নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনার ব্যবস্থা করা।
৩. সংশ্লিষ্ট হিসাব ও নথি যাচাইয়ের জন্য স্বচ্ছ প্রক্রিয়া ও নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করা।
৪. স্মারকলিপি গ্রহণ না করার বিষয়ে গ্রামীণ টেলিকমকে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে এবং সাবেক কর্মীদের বক্তব্য গ্রহণ করতে হবে।
৫. পাওনা নিষ্পত্তিতে পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত, ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কে প্রকাশ্য জবাব দিতে হবে।
৬. সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দেওয়া স্মারকলিপির পর কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার লিখিত বিবরণ ও অগ্রগতি জানাতে হবে।

 

ঐক্য পরিষদ জানায়, আদালত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে সংশ্লিষ্ট আইন ও আদেশের সীমারেখা মেনে সংলাপ, তথ্য যাচাই এবং সমাধানের উদ্যোগ এগিয়ে নিতে হবে।

 

কর্মসূচি থেকে নেতারা ঘোষণা দেন, দাবি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের পাওনার বিষয়টি জনসমক্ষে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের সহযোগিতাও কামনা করেন তারা।

 

‘১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান চাই, পরিচালনা পর্ষদের জবাবদিহি চাই, আলোচনায় বসুন, ৫% বিলম্বজনিত পাওনার আইনসম্মত নিষ্পত্তি চাই’—এমন স্লোগানে কর্মসূচিতে অংশ নেন সাবেক গ্রামীণফোন কর্মীরা।

 

 

 

১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান চেয়ে জিপি হাউজের সামনে সাবেক গ্রামীণফোন কর্মীদের বিক্ষোভ

আপডেট সময় : ০২:১৯:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

২০১০–২০১২ সালের ৫ শতাংশ Workers’ Participation Fund (WPPF) ও Workers’ Welfare Fund (WWF)-সংক্রান্ত বিলম্বজনিত পাওনা দ্রুত, স্বচ্ছ ও আইনসম্মতভাবে নিষ্পত্তির দাবিতে জিপি হাউজের সামনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মীরা।

 

বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত গ্রামীণফোন ৫% বিলম্ব বকেয়া আদায় ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

 

ঐক্য পরিষদের দাবি, প্রায় ১৬ বছর ধরে সাবেক কর্মীদের পাওনার বিষয়টি অনিষ্পন্ন রয়েছে। ২০২৪ সালের ২ ডিসেম্বর থেকে তারা ধারাবাহিকভাবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে আসছেন। মানববন্ধন, বিক্ষোভ, স্মারকলিপি প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেও কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।
পরিষদের নেতারা বলেন, দীর্ঘদিন পাওনা অনিষ্পন্ন থাকায় সাবেক কর্মী ও তাদের পরিবারের মধ্যে আর্থিক অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপ তৈরি হয়েছে। তাই দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির আইনসম্মত ও স্বচ্ছ সমাধান চান তারা।

 

গ্রামীণ টেলিকমের বিরুদ্ধে স্মারকলিপি না নেওয়ার অভিযোগ
ঐক্য পরিষদ জানায়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর গ্রামীণ টেলিকমের সামনে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ও মানববন্ধন শেষে প্রতিষ্ঠানটির কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এতে দীর্ঘদিনের বিরোধ নিরসনে কার্যকর ভূমিকা, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপ এবং স্বচ্ছ হিসাব যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছিল।

 

তবে গ্রামীণ টেলিকম কর্তৃপক্ষ স্মারকলিপি গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ করেছে পরিষদ। এ ঘটনায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে তারা বলেন, সাবেক কর্মীদের লিখিত বক্তব্য গ্রহণ করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
পরিচালনা পর্ষদের জবাবদিহি দাবি
পাওনা নিষ্পত্তিতে গ্রামীণফোনের পরিচালনা পর্ষদের ভূমিকা ও সিদ্ধান্ত সম্পর্কে প্রকাশ্য জবাবদিহি দাবি করেছে ঐক্য পরিষদ।
তাদের দাবি, ২০১০–২০১২ সালের বিলম্বজনিত পাওনা নিষ্পত্তিতে এ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তার বাস্তবায়নের অগ্রগতি কী এবং পাওনা যাচাই ও পরিশোধের সম্ভাব্য সময়সীমা কত—এসব বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ করতে হবে।
এ ছাড়া সাবেক কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার সময়সূচি নির্ধারণেরও দাবি জানানো হয়।

 

৬ দফা দাবি
কর্মসূচি থেকে ঐক্য পরিষদ ছয় দফা দাবি তুলে ধরে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
১. ২০১০–২০১২ সালের ৫% WPPF/WWF-সংক্রান্ত বিলম্বজনিত পাওনা দ্রুত, স্বচ্ছ ও আইনসম্মতভাবে নিষ্পত্তি করা।
২. গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ, গ্রামীণ টেলিকম ও সাবেক কর্মীদের প্রতিনিধিদের নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনার ব্যবস্থা করা।
৩. সংশ্লিষ্ট হিসাব ও নথি যাচাইয়ের জন্য স্বচ্ছ প্রক্রিয়া ও নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করা।
৪. স্মারকলিপি গ্রহণ না করার বিষয়ে গ্রামীণ টেলিকমকে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে এবং সাবেক কর্মীদের বক্তব্য গ্রহণ করতে হবে।
৫. পাওনা নিষ্পত্তিতে পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত, ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কে প্রকাশ্য জবাব দিতে হবে।
৬. সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দেওয়া স্মারকলিপির পর কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার লিখিত বিবরণ ও অগ্রগতি জানাতে হবে।

 

ঐক্য পরিষদ জানায়, আদালত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে সংশ্লিষ্ট আইন ও আদেশের সীমারেখা মেনে সংলাপ, তথ্য যাচাই এবং সমাধানের উদ্যোগ এগিয়ে নিতে হবে।

 

কর্মসূচি থেকে নেতারা ঘোষণা দেন, দাবি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের পাওনার বিষয়টি জনসমক্ষে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের সহযোগিতাও কামনা করেন তারা।

 

‘১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান চাই, পরিচালনা পর্ষদের জবাবদিহি চাই, আলোচনায় বসুন, ৫% বিলম্বজনিত পাওনার আইনসম্মত নিষ্পত্তি চাই’—এমন স্লোগানে কর্মসূচিতে অংশ নেন সাবেক গ্রামীণফোন কর্মীরা।