বাঘায় মানবসেবায় প্রশংসিত যুবদল কর্মী মিজানুর রহমান সুমন
- আপডেট সময় : ০৩:০৩:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
- / ২৫১৬ বার পড়া হয়েছে
রাজনীতি শুধু ক্ষমতা বা পদ-পদবির প্রতিযোগিতা নয়, বরং মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো এবং সংকটকালে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়াই প্রকৃত রাজনীতির অন্যতম আদর্শ। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় বিভিন্ন মানবিক ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আলোচনায় এসেছেন রাজশাহী জেলা যুবদলের কর্মী মিজানুর রহমান সুমন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও অর্থায়নে পরিবেশ সংরক্ষণ, চিকিৎসাসেবা, অসহায় মানুষের সহায়তা, শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা এবং দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানোসহ নানা ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন তিনি। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছেন এই তরুণ রাজনৈতিক কর্মী।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের একটি ময়লার স্তূপ পরিষ্কার করে সেখানে বৃক্ষরোপণ ও বসার স্থান নির্মাণ করেন সুমন। জ্বালানি সংকটের সময় দুই ধাপে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মোটরসাইকেল চালককে বিনামূল্যে জ্বালানি সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগও নেন তিনি।
চিকিৎসাসেবায় সহায়তা তাঁর জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের অন্যতম ক্ষেত্র। বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা অসচ্ছল রোগীদের ওষুধ কেনা, পরীক্ষা-নিরীক্ষার খরচ বহন, উন্নত চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা এবং রোগী ও মরদেহ পরিবহনে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়ার ব্যবস্থা করার মতো কাজ করে থাকেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
করোনাকালীন সময়ে কর্মহীন মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ বিতরণের পাশাপাশি জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জামের ব্যবস্থা করেন বলেও জানা গেছে। এসব সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে রক্তচাপ মাপার যন্ত্র, অক্সিমিটার, ডায়াবেটিস মাপার যন্ত্র ও অক্সিজেন সিলিন্ডার। শিশুদের জরুরি নিরাপত্তার জন্য অ্যান্টি-চোকিং ডিভাইসের ব্যবস্থাও রেখেছেন তিনি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
অসহায় মানুষের জীবিকা ও বাসস্থানের সংকট মোকাবিলায়ও সহযোগিতা করছেন সুমন। জীবিকার একমাত্র অবলম্বন ভ্যান নষ্ট হয়ে যাওয়া এক দরিদ্র চালককে আর্থিক ও খাদ্যসহায়তা দেওয়া, দরিদ্র পরিবারের ঘর মেরামতের জন্য টিন বিতরণ এবং বিশুদ্ধ পানির সংকট নিরসনে টিউবওয়েল স্থাপনের মতো উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।
এ ছাড়া অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান, তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে ক্রীড়াসামগ্রী বিতরণ, রমজানে ইফতার আয়োজন, ঈদে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ এবং বন্যাদুর্গত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর মতো কর্মকাণ্ডও তাঁর জনসেবার অংশ। স্থানীয় সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক বন্যায় প্রায় ৩০০ পরিবারের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করেন তিনি।
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় রয়েছেন মিজানুর রহমান সুমন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি হামলা ও মামলার মুখোমুখি হওয়া নেতাকর্মীদের আইনি সহায়তা এবং তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও নির্বাচনী প্রচারেও ভূমিকা রেখেছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বাঘা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব আবু বক্কর বলেন, “সুমন শুধু একজন রাজনৈতিক কর্মী নন, তিনি আমাদের যেকোনো বিপদের ভরসাস্থল। এলাকার কেউ অসুস্থ হলে কিংবা কোনো পরিবার খাবারের সংকটে পড়লে তিনি পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন।”
স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী সুজন সরকার বলেন, “দলের আন্দোলন-সংগ্রামে সুমন ভাই সবসময় সক্রিয় থাকেন। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সংকটেও তাঁকে পাশে পাওয়া যায়। এটি এলাকার রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।”
মানবসেবা ও রাজনৈতিক আদর্শ প্রসঙ্গে মিজানুর রহমান সুমনের বক্তব্য জানতে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
স্থানীয়দের মতে, রাজনীতির পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে তরুণদের অংশগ্রহণ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। তবে এসব উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং আরও বেশি মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়াই হবে এ ধরনের মানবিক কর্মকাণ্ডের বড় চ্যালেঞ্জ।



























