ইসলামী ব্যাংকের প্রশাসককে অপদস্থের অভিযোগ, ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ ব্যাংক
- আপডেট সময় : ০৮:০০:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
- / ২৫২০ বার পড়া হয়েছে
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির প্রশাসক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেনকে অপদস্থ ও গালিগালাজ করার অভিযোগ উঠেছে ব্যাংকটির একদল কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে। এক কর্মকর্তার বদলিকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। এ ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
দেশ রূপান্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৮ অক্টোবর সন্ধ্যার পর ইসলামী ব্যাংকের লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্স বিভাগের কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট (ইভিপি) খালেদ সাইফুল্লাহকে ইনভেস্টমেন্ট বিভাগে বদলি করা হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ব্যাংকটির প্রায় ১০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রশাসক মোহাম্মদ জহির হোসেনের চেম্বারে যান।
অভিযোগ রয়েছে, তারা প্রশাসকের ব্যক্তিগত সহকারী ও প্রটোকল কর্মকর্তাদের সরিয়ে দিয়ে চেম্বারে প্রবেশ করেন। পরে বদলির কারণ জানতে চেয়ে প্রশাসকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও গালিগালাজ করা হয়। একই সঙ্গে বদলির আদেশ বাতিলের জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয় বলেও দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আতাউর রহমান নামে এক কর্মকর্তাকে লিগ্যাল ডিভিশনে পদায়নের আদেশ দেওয়া হলে তাকে চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ব্যাংকের প্রয়োজনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি ও পদায়ন একটি নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রম। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং প্রশাসনিক কাজে বাধা দেওয়া চাকরিবিধির পরিপন্থী।
ইসলামী ব্যাংকের প্রশাসক ও চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জহির হোসেন এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি। তিনি প্রত্যক্ষদর্শী কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিস্তারিত জানার পরামর্শ দেন।
অন্যদিকে, ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আলতাফ হোসেন জানিয়েছেন, তিনি এ ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানেন না।
ব্যাংক সংশ্লিষ্টদের মতে, বদলি ও পদায়ন নিয়ে কোনো আপত্তি থাকলে তা নিয়মতান্ত্রিকভাবে কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে চাকরিবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
এদিকে, ইসলামী ব্যাংকের প্রশাসনিক সংস্কার, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি ও পদায়ন এবং অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ব্যাংকটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।



























