সংবাদ শিরোনাম :
দুই লাইনের কবিতায় জীবনবোধ, ‘এক পলকের কাব্য’ সিজন টু অনুষ্ঠিত ফুলবাড়ীতে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পাশে মোটরসাইকেল চুরি, থানায় অভিযোগ তিতাসে বন্দরামপুর আদর্শ একাডেমির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত টেকনাফে ইভটিজিংয়ের দায়ে রোহিঙ্গা যুবকের ২ মাসের কারাদণ্ড বীরগঞ্জ সরকারি কলেজের নবনির্মিত প্রধান ফটক উদ্বোধন করলেন এমপি মনজুরুল ইসলাম মঞ্জু দুর্গাপূজায় টানা ৮ দিন বন্ধ বেনাপোল-পেট্রাপোল দিয়ে আমদানি-রপ্তানি গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতে হবে, হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ চান্দিনায় পুবালী ব্যাংকের ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ বিষয়ক মতবিনিময় সভা বীরগঞ্জে ভ্যানচালকের বসতবাড়ি উচ্ছেদ, জমিতে পুকুর খনন ইসলামী ব্যাংকের প্রশাসককে অপদস্থের অভিযোগ, ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ ব্যাংক

বীরগঞ্জে ভ্যানচালকের বসতবাড়ি উচ্ছেদ, জমিতে পুকুর খনন

রনজিৎ সরকার রাজ, স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ০৮:১৫:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২৫৩১ বার পড়া হয়েছে
dailydinlipi24.com অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে আদালতের নির্দেশে এক অসহায় ভ্যানচালকের বসতবাড়ি উচ্ছেদের পর ওই জমিতে পুকুর খননের কাজ শুরু করার অভিযোগ উঠেছে। উচ্ছেদের ঘটনায় পরিবারটির চার শিশুসহ ছয় সদস্য গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে তারা দিনের বেলায় খোলা আকাশের নিচে এবং রাতে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

 

ভুক্তভোগী মাজেদুলের দাবি, শিবরামপুর (ক্লিনিকপাড়া) এলাকায় তাদের বাপ-দাদার ভিটায় দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে বসবাস করে আসছেন তারা। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ওই জমিতে তাদের বসতবাড়ি ছিল। গত ১০ অক্টোবর শনিবার কোনো নোটিশ না দিয়েই উচ্ছেদের নামে তাদের বাড়িঘর ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মাজেদুল ও তার পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, দিনাজপুরের বীরগঞ্জ সহকারী জজ আদালতের নাজির তোফায়েল হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। তবে পুলিশ সরাসরি বাড়িঘর ভাঙেনি; উচ্ছেদের পর প্রতিবেশী ও প্রভাবশালী গোলাম মোস্তফা, তার ছেলে হারুন অর রশিদ হারুন এবং তাদের লোকজন বাড়িঘর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেন বলে দাবি তাদের।

 

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বসতবাড়ি হারিয়ে তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। চার শিশুসন্তানসহ ছয় সদস্যের পরিবারটি এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে।
১১ অক্টোবর সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অভিযুক্ত গোলাম মোস্তফা ও তার ছেলে হারুন অর রশিদ হারুন স্কেভেটর বা ভ্যাকু দিয়ে ওই জমিতে পুকুর খননের কাজ করছেন। উচ্ছেদ অভিযান ও পরদিন পুকুর খননের বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য যাদব কুমার অধিকারীসহ কয়েকজন গ্রামবাসী নিশ্চিত করেছেন বলে জানা গেছে।
অভিযুক্তদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিবরামপুর মৌজার ২০২০ দাগের সাড়ে ১২ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আদালতে মামলা চলছিল। মামলায় তারা ডিক্রি পেয়েছেন এবং আদালতের নির্দেশে নাজির ও পুলিশ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে। তবে তারা আদালতের ডিক্রির কাগজ দেখাতে পারেননি।

এ বিষয়ে আদালতের নাজির তোফায়েল হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আদালতের নির্দেশে প্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাবলে সাড়ে চার শতক জমির ওপর থাকা তিন-চারটি বাঁশের বেড়াযুক্ত টিনের চালাঘর উচ্ছেদ করে বাদীকে দখল বুঝিয়ে দিয়েছেন। এরপর সেখানে পুকুর খনন করা হবে, নাকি অন্য কিছু করা হবে, তা সংশ্লিষ্ট পক্ষের বিষয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি ছাড়া বসতবাড়ি উচ্ছেদ আইনসম্মত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে নাজির তোফায়েল হোসেন বলেন, চাকরিজীবনে তিনি এ ধরনের অসংখ্য উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছেন; তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতির প্রয়োজন হয়নি।

অন্যদিকে বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে থানার এসআই আতাউর রহমান ও পুলিশ সদস্যরা উচ্ছেদ অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন।

ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

বীরগঞ্জে ভ্যানচালকের বসতবাড়ি উচ্ছেদ, জমিতে পুকুর খনন

আপডেট সময় : ০৮:১৫:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে আদালতের নির্দেশে এক অসহায় ভ্যানচালকের বসতবাড়ি উচ্ছেদের পর ওই জমিতে পুকুর খননের কাজ শুরু করার অভিযোগ উঠেছে। উচ্ছেদের ঘটনায় পরিবারটির চার শিশুসহ ছয় সদস্য গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে তারা দিনের বেলায় খোলা আকাশের নিচে এবং রাতে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

 

ভুক্তভোগী মাজেদুলের দাবি, শিবরামপুর (ক্লিনিকপাড়া) এলাকায় তাদের বাপ-দাদার ভিটায় দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে বসবাস করে আসছেন তারা। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ওই জমিতে তাদের বসতবাড়ি ছিল। গত ১০ অক্টোবর শনিবার কোনো নোটিশ না দিয়েই উচ্ছেদের নামে তাদের বাড়িঘর ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মাজেদুল ও তার পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, দিনাজপুরের বীরগঞ্জ সহকারী জজ আদালতের নাজির তোফায়েল হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। তবে পুলিশ সরাসরি বাড়িঘর ভাঙেনি; উচ্ছেদের পর প্রতিবেশী ও প্রভাবশালী গোলাম মোস্তফা, তার ছেলে হারুন অর রশিদ হারুন এবং তাদের লোকজন বাড়িঘর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেন বলে দাবি তাদের।

 

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বসতবাড়ি হারিয়ে তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। চার শিশুসন্তানসহ ছয় সদস্যের পরিবারটি এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে।
১১ অক্টোবর সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অভিযুক্ত গোলাম মোস্তফা ও তার ছেলে হারুন অর রশিদ হারুন স্কেভেটর বা ভ্যাকু দিয়ে ওই জমিতে পুকুর খননের কাজ করছেন। উচ্ছেদ অভিযান ও পরদিন পুকুর খননের বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য যাদব কুমার অধিকারীসহ কয়েকজন গ্রামবাসী নিশ্চিত করেছেন বলে জানা গেছে।
অভিযুক্তদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিবরামপুর মৌজার ২০২০ দাগের সাড়ে ১২ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আদালতে মামলা চলছিল। মামলায় তারা ডিক্রি পেয়েছেন এবং আদালতের নির্দেশে নাজির ও পুলিশ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে। তবে তারা আদালতের ডিক্রির কাগজ দেখাতে পারেননি।

এ বিষয়ে আদালতের নাজির তোফায়েল হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আদালতের নির্দেশে প্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাবলে সাড়ে চার শতক জমির ওপর থাকা তিন-চারটি বাঁশের বেড়াযুক্ত টিনের চালাঘর উচ্ছেদ করে বাদীকে দখল বুঝিয়ে দিয়েছেন। এরপর সেখানে পুকুর খনন করা হবে, নাকি অন্য কিছু করা হবে, তা সংশ্লিষ্ট পক্ষের বিষয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি ছাড়া বসতবাড়ি উচ্ছেদ আইনসম্মত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে নাজির তোফায়েল হোসেন বলেন, চাকরিজীবনে তিনি এ ধরনের অসংখ্য উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছেন; তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতির প্রয়োজন হয়নি।

অন্যদিকে বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে থানার এসআই আতাউর রহমান ও পুলিশ সদস্যরা উচ্ছেদ অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন।

ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে।